ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bengali Journal
সর্বশেষ

শেখ হাসিনাই‌ প্রথম বাংলাদেশর প্রান্তিক পর্যায়ের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ কর্মসূচী শুরু করেছিলেন

বাংলাদেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বকালের সবচেয়ে সফল ও জনবান্ধব উদ্যোগ হলো 'কমিউনিটি ক্লিনিক'। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ইতিহাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা এই সমন্বিত স্বাস্থ্য মডেলের মূল রূপকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলেই আজ দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ নিজ গ্রামে বসেই মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছেন।উদ্যোগের পটভূমি ও শেখ হাসিনার রূপকল্প১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশের তৃণমূল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাকষ্ট দূর করতে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ নামক এক অভিনব ধারণার প্রবর্তন করেন।প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য: প্রতি ৬ হাজার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে একটি করে ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে ১৯৯৮ সালে এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।শুভ উদ্বোধন: ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতীতে দেশের সর্বপ্রথম কমিউনিটি ক্লিনিকটি উদ্বোধন করেন।বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ ও প্রসূতি সেবাশেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই ক্লিনিকগুলো শুধু পরামর্শ কেন্দ্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দরিদ্র মানুষের হাতে বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক মাধ্যমে পরিণত হয়।বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ: প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সাধারণ মানুষের জন্য ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, সাধারণ সর্দি-কাশি ও গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন জটিল ও সাধারণ রোগের প্রায় ৩০ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।মা ও শিশু স্বাস্থ্য: বিশেষ করে গ্রামপর্যায়ে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতকরণ, মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং সার্বিক টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) এই সেবা কেন্দ্রগুলো অতুলনীয় অবদান রেখে আসছে।জাতিসংঘে 'শেখ হাসিনা উদ্যোগ' হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতিশেখ হাসিনার এই দূরদর্শী স্বাস্থ্য মডেলটি কেবল বাংলাদেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অর্জন করেছে অনন্য সম্মান।জাতিসংঘের ঐতিহাসিক প্রস্তাব: ২০২৩ সালে জাতিসংঘ (UN) সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে এই মডেলটিকে স্বীকৃতি দিয়ে 'দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ' (The Sheikh Hasina Initiative) শিরোনামে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।বিশ্বমঞ্চে রোল মডেল: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এটিকে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এক বৈশ্বিক 'রোল মডেল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।তৃণমূলের আস্থার প্রতীকদেশের স্বাস্থ্য খাতকে একদম মেহনতি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এই মহান ও যুগান্তকারী অবদান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিন বিনাবিচারে আটক বন্ধের নির্দেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের; এটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য দলটির জন্য।

বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাবেক সংসদ সদস্য, আমলা ও অন্যান্যদের দীর্ঘ দিন ধরে বিনা বিচারে ও জামিন ছাড়া আটক রাখার কঠোর সমালোচনা করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঢালাও বিনাবিচারে আটক রাখা বন্ধ করতে এবং আটককৃত ব্যক্তিদের জামিনের অধিকার, চিকিৎসাসেবা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উঠে আসা মূল বিষয়সমূহঢালাও ও বিনা বিচারে আটক: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হয়, যাদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ দিন ধরে কারাবন্দী রাখা হয়েছে।জামিন প্রক্রিয়ায় বাধা: প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন নিয়মিত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। এমনকি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন মামলা দিয়ে মুক্তি আটকে দিচ্ছে।কারাগারে মৃত্যু ও চিকিৎসার অভাব: আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক এবং নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জামিনের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে এবং বিনাবিচারে থাকা অবস্থায় ইতোমধ্যে একাধিক প্রবীণ ও অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর কারাগারে মৃত্যু হয়েছে।আন্তর্জাতিক আইনি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ: বিচার শুরু বা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যায় না। HRW মনে করিয়ে দিয়েছে যে "অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ ধরে নেওয়া" এবং "সবার ক্ষেত্রে সমান আইনি অধিকার প্রয়োগ" আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মূল ভিত্তি।কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগশেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আইনি সুরক্ষা, বিনাবিচারে আটক বন্ধ করা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অবস্থান।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে:এতদিন ধরে দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চলা ঢালাও গ্রেপ্তার, জামিন অস্বীকার এবং আইনি সুরক্ষাহীনতার যে অভিযোগ তুলে ধরা হচ্ছিল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই বিবৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার নিরপেক্ষ সত্যতা প্রমাণিত হলো।বিশ্বমঞ্চে বর্তমান সরকারের ওপর মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রাখার আইনি ও নৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।আওয়ামী লীগ এটিকে নিজেদের জন্য এক বড় কূটনৈতিক ও আইনি বিজয় হিসেবে দেখছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চলা নিপীড়ন তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিন বিনাবিচারে আটক বন্ধের নির্দেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের; এটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য দলটির জন্য।

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি দখল করে বিএনপি নেতা বহিষ্কার, এলাকায় মাইকিং করে সর্তক

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার কথা বলে রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবুকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি। তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রায়কালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে। গত রাতে বহিষ্কারের পর আজ সোমবার দলের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে তা জানানো হয়। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামিউল হাসান ইমন ও এম ইউ আহমেদ মোশারফ স্বাক্ষরিত চিঠিতে মিজানুর রহমানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে আজ সোমবার ওই ইউনিয়নের সব এলাকায় মাইকিং করে বিষয়টি প্রচার করা হয়। বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে বলা হয়েছে, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্যের বাড়ি দখলসহ সংগঠনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ২১ জুলাই রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়িটি ছেড়ে দেননি। এ কারণে বিএনপির সব পদ ও সদস্যপদসহ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6a8c20af24428" ) ); এর আগে বেলাল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাড়ি দখলের অভিযোগ এনে আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়কালী গ্রামের চার শতক জমির ওপর প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে দোতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন বেলাল হোসেন। প্রায় চার বছর আগে ওই বাড়ি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেলাল হোসেন বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।তখন তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাড়িতে ছিলেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনিও স্বামীর সঙ্গে চলে যান। আরো জানা গেছে, সেই সুযোগে মিজানুর রহমান বাড়িটি দখলে নেন। পরে বাড়ি ভাড়ার টাকা দেওয়ার কথা বললেও তা দেননি। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, বাড়িটি যে জমির ওপর নির্মিত, সেটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এ কারণে তিনি বাড়িটি ছাড়তে রাজি হননি। মিজানুর রহমান বলেন, ‘জায়গাটি আমার দাদার। ১০ থেকে ১৩ বছর আগে বেলাল হোসেন জায়গাটি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল এবং বেলাল হোসেন রায়কালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি আমাদের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। আমি বাড়ি দখল করিনি, নিজেদের জায়গা ফেরত নিয়েছি।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6a8c20af2445a" ) ); বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুনেছি আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো হাতে পাইনি। উপজেলা বিএনপি আমাকে ডেকেছে। তবে সোমবার সকালে ওই বাড়ি থেকে সব আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নিয়ে বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছি।’ আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা বলেন, ‘অন্যের বাড়ি দখল করা বড় ধরনের অপরাধ। যে দলের লোকই হোক না কেন। আমরা তাকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। এরপরও তিনি বাড়ি ছাড়েননি। তাই দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কোনো প্রকার অন্যায়ের সঙ্গে দল আপস করবে না।’ তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি দখল করে বিএনপি নেতা বহিষ্কার, এলাকায় মাইকিং করে সর্তক
জনপ্রিয় পোশাক ব্রান্ড লাইভ শপিং এর ফ্যাক্টরি আউটলেটে মব সৃষ্টি বিশৃঙ্খলা

জনপ্রিয় পোশাক ব্রান্ড লাইভ শপিং এর ফ্যাক্টরি আউটলেটে মব সৃষ্টি বিশৃঙ্খলা

রাজধানীর মিরপুরে জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড ‘লাইভ শপিং’ (Live Shopping)-এর নতুন ফ্যাক্টরি আউটলেটের শুভ উদ্বোধনের দিনেই ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক এক ঘটনা। বিশেষ ছাড় ও নানা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জোরপূর্বক শোরুমে প্রবেশ করে চরম বিশৃঙ্খলা ও মব তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে।প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বারবার ফোন করেও সময়মতো কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়নি।বিশেষ অফার ঘিরে ভিড় ও মব তৈরির অপচেষ্টাআজ ছিল লাইভ শপিং-এর মিরপুর ফ্যাক্টরি আউটলেটের উদ্বোধনী দিন। বিশেষ মূল্যছাড় ও আকর্ষণীয় আয়োজনের ঘোষণা থাকায় সকাল থেকেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় জমে।আউটলেট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়:অহেতুক গোলযোগ ও ভাঙচুরের চেষ্টা: স্বাভাবিক কেনাকাটার পরিবেশ চলাকালেই সুযোগসন্ধানী একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে শোরুমের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা অহেতুক হট্টগোল শুরু করে মব কালচার তৈরির পাঁয়তারা চালায় এবং একপর্যায়ে দোকানে ভাঙচুর করার চেষ্টা করে।  জরুরি সেবায় সাড়া না পাওয়ার ক্ষোভ: আউটলেটে উপস্থিত ক্রেতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো কার্যকর সহায়তা মেলেনি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরবর্তীতে ৯৯৯ থেকে লাইভ শপিং এর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানাগেছে। রাজধানীতে মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রশ্ন:বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মব তৈরির অপচেষ্টায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ কেনাকাটা করতে আসা নারী ও শিশুরা। ব্যবসায়ী মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় চাঁদাবাজি, চাঁদাবাজির রেশ ধরে হামলা ও অহেতুক ‘মব’ তৈরি করে প্রতিষ্ঠান জিম্মি করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে—এটি তারই অংশ হতে পারে।  উদ্বোধনের মতো একটি আনন্দঘন দিনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রদানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও প্রশাসনে গাফিলতি ব্যবসায়িক পরিবেশকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।লাইভ শপিং কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং মিরপুর এলাকার আউটলেটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছে।

ডয়চে ভেলেকে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী / “শেখ হাসিনা পালিয়ে আসেননি, নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী ভারতে পৌঁছে দিয়েছে”

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভারতে গমন নিয়ে চলমান নানা আন্তর্জাতিক গুঞ্জন ও চর্চার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে (Deutsche Welle)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাননি, বরং তাঁর নিরাপত্তা ও সার্বিক জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাজিনীই তাঁকে সুরক্ষার স্বার্থে ভারতে পৌঁছে দিয়েছে।আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনার অবস্থান ও ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করার সময় প্রবীণ এই কূটনীতিক জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জীবন ও নিরাপত্তাজনিত চরম হুমকি তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল পদক্ষেপে তাঁকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়। এটিকে ‘পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।সাক্ষাৎকারে ভারতের এই সাবেক হাইকমিশনার আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির ওপর এককভাবে নির্ভরশীল নয়, তবে ইতিহাস ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যকার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের যে অনন্য মাত্রা তৈরি হয়েছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ডয়চে ভেলেতে প্রচারিত রিভা গাঙ্গুলী দাশের এই সাক্ষাৎকারটি শেখ হাসিনার ভারত গমন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক ব্যাখ্যায় এক নতুন আলো ফেলেছে।

পতন কি শেখ হাসিনার হয়েছে, নাকি পতন হয়েছে বাংলাদেশের?

পতন কি শেখ হাসিনার হয়েছে, নাকি পতন হয়েছে বাংলাদেশের?শেখ হাসিনার পতনের দুই বছর পর জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন৫ আগস্ট ২০২৪। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিভাজনরেখা। একটি সরকারের পতন, একজন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগ এবং রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোয় আকস্মিক পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে দিনটি এখন বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি।দুই বছর পর প্রশ্নটি তাই শুধু শেখ হাসিনাকে নিয়ে নয়।প্রশ্নটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে।সেদিন কি কেবল একজন শাসকের পতন হয়েছিল, নাকি সেই পতনের অভিঘাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, অর্থনীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং সামাজিক ঐক্যেরও ক্ষয় শুরু হয়েছিল?এই প্রশ্নের উত্তর একরৈখিক হতে পারে না।কারণ ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহে একদিকে ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক এবং সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ; অন্যদিকে ছিল সহিংসতা, প্রাণহানি, প্রতিশোধের রাজনীতি এবং পরবর্তী সময়ে একটি বড় রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ার বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেও ২০২৪ সালের আন্দোলন ও দমন-পীড়ন নিয়ে গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগ নথিভুক্ত হয়েছে।কিন্তু ইতিহাসের বিচার শুধু একটি পক্ষের বক্তব্য শুনে সম্পূর্ণ হয় না।দুই বছর পর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন২০২৪ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়; পরবর্তীতে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ঘটে; আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হয় এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি।এর ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব বা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ থাকলে সেই দলের সমর্থকদের রাজনৈতিক অধিকারও কি একই সঙ্গে শেষ হয়ে যায়?গণতন্ত্রের উত্তর হওয়া উচিত—না।কারণ গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তন স্বাভাবিক; রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির স্বাভাবিক সমাধান নয়। একটি দলের অপরাধী ব্যক্তি ও সেই দলের কোটি মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়কে একই পাল্লায় মাপা হলে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।অন্যদিকে একটি দলের অতীতের গুরুতর অভিযোগ ও মানবাধিকার প্রশ্নকে শুধু রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে অস্বীকার করাও গণতন্ত্রের পক্ষে নিরাপদ নয়।অতএব প্রয়োজন জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য।শেখ হাসিনার শাসন আমল: উন্নয়ন বনাম গণতন্ত্রের বিতর্কশেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলকে শুধু একটি শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, ডিজিটাল সেবা ও সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে—একই সঙ্গে দুর্নীতি, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে গুরুতর সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণেও এই দ্বৈত বাস্তবতার কথা উঠে এসেছে।অতএব ইতিহাসের সৎ মূল্যায়ন হবে এমন—উন্নয়নকে অস্বীকার করা যাবে না, আবার উন্নয়নের নামে গণতান্ত্রিক ঘাটতিকেও আড়াল করা যাবে না।একইভাবে ২০২৪ সালের পরের বাংলাদেশকেও একই মাপকাঠিতে বিচার করতে হবে।পরিবর্তনের নামে যদি নতুন অন্যায় জন্ম নেয়, তবে ইতিহাস শুধু পুরোনো অন্যায়ের বিচার করবে না—নতুন অন্যায়েরও বিচার করবে।পতনের পর কি বাংলাদেশ সত্যিই এগিয়েছে?এখানে আবেগ নয়, বাস্তবতা প্রয়োজন।বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব ঘাটতি এবং বিনিয়োগের অনিশ্চয়তার মতো সমস্যার মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মূল্যায়নগুলোও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিবর্তন নিজে কোনো অর্থনৈতিক নীতি নয়। সরকার পরিবর্তন হলেই মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটে না।মানুষ চায়—কাজ।ন্যায্য মজুরি।কম মূল্যস্ফীতি।নিরাপদ জীবন।শিক্ষা।স্বাস্থ্যসেবা।বিনিয়োগ।সামাজিক মর্যাদা।একটি কার্যকর রাষ্ট্র।সুতরাং প্রশ্ন হওয়া উচিত—৫ আগস্টের পর সাধারণ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে?আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ:বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের অভিঘাত দেশের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে একটি জটিল কূটনৈতিক প্রশ্নে পরিণত করেছে। ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণ চাইছে; ভারত বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করছে। একই সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাও চলছে।এর পাশাপাশি বাংলাদেশকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে।এখানে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের মূলনীতি হওয়া উচিত—কোনো পরাশক্তির ছায়া নয়; বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থই পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্র।বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী, চীন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও কৌশলগত শক্তি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার।একজন রাজনৈতিক নেতার পতন বা উত্থান দিয়ে এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যায় না। তাহলে শেখ হাসিনার পতন—নাকি একটি রাজনৈতিক যুগের পতন?সম্ভবত সবচেয়ে নিরপেক্ষ উত্তর হলো—দুটিই ঘটেছে। একজন নেতার রাজনৈতিক ক্ষমতার পতন হয়েছে। একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক যুগেরও সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পতন হয়নি।বাংলাদেশ টিকে আছে—এবং সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য।তবে রাষ্ট্রের শক্তি শুধু ভূখণ্ডে নয়; রাষ্ট্রের শক্তি তার প্রতিষ্ঠান, সংবিধান, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক আস্থায়।সেই জায়গায় যদি বিভাজন বাড়ে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাড়ে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, বিরোধী মতকে শত্রু হিসেবে দেখা হয় এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতা সীমিত হয়—তাহলে প্রশ্ন উঠবেই:আমরা কি একজনকে সরিয়ে একটি ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছি, নাকি কেবল ক্ষমতার চরিত্র পরিবর্তন করেছি?জাতির বিবেকের কাছে কয়েকটি প্রশ্নদুই বছর পর আমাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন করতে হবে—প্রথমত: আমরা কি এমন বাংলাদেশ পেয়েছি যেখানে ভিন্নমত নিরাপদ?দ্বিতীয়ত: আমরা কি এমন নির্বাচনব্যবস্থা তৈরি করতে পেরেছি যেখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয়ের জন্য সমান রাজনৈতিক মাঠ থাকবে?তৃতীয়ত: আমরা কি রাজনৈতিক অপরাধের বিচার করছি, নাকি রাজনৈতিক পরিচয়ের বিচার করছি?চতুর্থত: আমরা কি প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে সত্যিকারের জাতীয় পুনর্মিলনের দিকে এগোচ্ছি?পঞ্চমত: আমরা কি এমন অর্থনীতি তৈরি করছি যেখানে তরুণদের ভবিষ্যৎ আছে?ষষ্ঠত: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কি জাতীয় স্বার্থনির্ভর থাকবে, নাকি আমরা ক্রমশ ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে চলে যাব?সপ্তমত: ইতিহাস কি আমরা লিখব তথ্য দিয়ে, নাকি বিজয়ী পক্ষের ভাষ্যে?ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন শিক্ষা:৫ আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনা হয়তো বাংলাদেশের রাজনীতিকে একটি শিক্ষা দিয়েছে—কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়।আজ যে ক্ষমতায়, কাল সে ক্ষমতার বাইরে যেতে পারে। আজ যে বিরোধী, কাল সে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। তাই রাষ্ট্রকে কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তিতে পরিণত করা বিপজ্জনক।শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও তাই শুধু তাঁর সমর্থকদের নয়; সমালোচকদেরও আলোচনার বিষয়। তাঁর সাফল্য ও ব্যর্থতা—দুটিই ইতিহাসের সম্পদ। একইভাবে ২০২৪-এর আন্দোলনের আত্মত্যাগ, মানুষের ক্ষোভ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনও বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ।কিন্তু ইতিহাসের কোনো অধ্যায়কে পবিত্র বা অভিশপ্ত ঘোষণা করে দিলে ইতিহাসের শিক্ষা নষ্ট হয়।শেষ প্রশ্নটি তাই শেখ হাসিনাকে নয়—আমাদের, দুই বছর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়তো, শেখ হাসিনা কি পরাজিত হয়েছেন? নাকি—বাংলাদেশ কি তার একটি রাজনৈতিক সম্ভাবনা হারিয়েছে?উত্তর সময় দেবে।শেখ হাসিনা ২০২৬ সালের আগস্টে আবার প্রকাশ্যে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার দাবি জানিয়েছেন; একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতিকে আরও তীব্রভাবে বিভক্ত করে রেখেছে। কিন্তু একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নয়।বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে—গণতন্ত্র কতটা শক্তিশালী হলো,আইনের শাসন কতটা নিরপেক্ষ হলো,অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল হলো,তরুণদের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ হলো,এবং আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে রাজনৈতিক সহাবস্থান কতটা শিখলাম।সুতরাং দুই বছর পর জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্নটি হোক—“কে পতিত হলো?”—এই প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, “আমরা কি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে পেরেছি, যেখানে কোনো নেতার উত্থান বা পতনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাগ্যকে আর বাঁধতে হবে না?”কারণ শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির ঊর্ধ্বে একটি নামই থাকবে— বাংলাদেশ। তবে এটাও ঠিক, মুক্তিযোদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা অথবা  আওয়ামীলীগ,  বাংলাদেশেরই আরেক নাম।ড. বাবু আব্দুল্লাহ আল আমীন কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিকমুলুজ, ফ্রান্স

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

নারীরা কি গাড়ি চালাতে পারবেন, ইসলাম কী বলে?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের প্রয়োজন ও মানবিক মর্যাদাকে সবসময় অগ্রাধিকার দেয়। আধুনিক যুগে প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হলো যানবাহন। পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও পারিবারিক, সামাজিক ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হয়। তবে নারীরা গাড়ি চালাতে পারবেন কি না—এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ইসলাম নারীর স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয়তাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার আত্মমর্যাদা, নিরাপত্তা ও শালীনতার সুরক্ষায় কিছু জরুরি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। গাড়ি চালানো মূলত বৈধ: শরিয়তের মূলনীতি ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নারী কোনো যানবাহনে আরোহণ করা যেমন বৈধ, একইভাবে কোনো বাহন নিজে চালানোও মূলত বৈধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের যুগে নারীরা তৎকালীন বাহন (যেমন উট ও ঘোড়া) হাঁকিয়ে যাতায়াত করতেন। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবী (সা.) উষ্ট্রারোহী নারীদের প্রশংসাও করেছেন— خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ ‘উট চালনাকারী নারীদের মধ্যে কুরাইশের নেককার নারীগণই সর্বোত্তম। তারা সন্তানের প্রতি শৈশবে সর্বাধিক স্নেহশীল এবং স্বামীর সম্পদের সর্বোত্তম হেফাজতকারী।’ (বুখারি ৫০৮২, মুসলিম ২৫২৭) কাতারের আওকাফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ইসলামওয়েব’-এর ফতোয়াতেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো নিষিদ্ধ পর্যায়— যেমন অননুমোদিত দীর্ঘ সফর বা পরপুরুষের সাথে নির্জনতা তৈরি না হলে নারীর গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ জায়েজ। জরুরি পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার অগ্রাধিকার বাস্তব জীবনের নানা প্রয়োজনে একজন নারীর গাড়ি চালানো কেবল বৈধই নয়, ক্ষেত্রবিশেষে অধিক নিরাপদও হতে পারে— নারীর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে শরিয়তের আবশ্যক শর্ত ১. শালীনতা ও পর্দার বিধান বজায় রাখা গাড়ি চালানোর সময় পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণে পূর্ণ শালীনতা বজায় রাখা ফরজ। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন— يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না।’ (সুরা আল-আহজাব: আয়াত ৫৯) আরও পড়ুনআরও পড়ুনঅসুস্থতা বা অপারগতায় কি নামাজ ছাড়া যাবে? ২. দূরপাল্লার সফরে মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা শহরের ভেতর বা স্বাভাবিক দূরত্বে চলাচলে মাহরাম আবশ্যক না হলেও দূরপাল্লার দীর্ঘ সফরে মাহরামের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُسَافِرُ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ عَلَيْهَا ‘আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য সঙ্গে মাহরাম পুরুষ ছাড়া এক দিন ও এক রাতের পথ সফর করা বৈধ নয়।’ (মুসলিম ১৩৩৯) ৩. গায়রে মাহরামের সাথে নির্জনতা (খালওয়াত) পরিহার করা গাড়ির মতো আবদ্ধ স্থানে কোনো পরপুরুষের সাথে নির্জনে একা বসা বা যাতায়াত করা হারাম। নবীজি (সা.) সতর্ক করে বলেছেন— لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ ‘কোনো পুরুষ যখনই কোনো (গায়রে মাহরাম) নারীর সঙ্গে নির্জনে একাকী মিলিত হয়, তখন শয়তান তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয়।’ (তিরমিজি ১১৭১) ইসলাম নারীকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার পক্ষে নয়, বরং তার ইজ্জত-আব্রু ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনের পূর্ণ অধিকার দেয়। তাই কোনো নারী যদি পর্দার বিধান অক্ষুণ্ন রেখে, পরপুরুষের সাথে নির্জনতা এড়িয়ে এবং দূরপাল্লার ক্ষেত্রে মাহরাম সঙ্গে রেখে গাড়ি চালান, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ প্রশংসনীয় ও বৈধ। এতে তার স্বাবলম্বিতা প্রকাশ পায় এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকেও নিজেকে নিরাপদে রাখা সম্ভব হয়।

অল্প উপকরণে ঘরেই ফেসওয়াশ বানাবেন যেভাবে

অল্প উপকরণে ঘরেই ফেসওয়াশ বানাবেন যেভাবে

বাজার থেকে কেনা ফেসওয়াশে সালফেট, প্যারাবেন ও কৃত্রিম সুগন্ধি থাকে। এগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সালফেট, প্যারাবেনযুক্ত ফেসওয়াশ ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে মুখ শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের সুরক্ষায় বাজারের কেনা ফেসওয়াশের বদলে বাসায়ই বানিয়ে নিন পছন্দের উপকরণের ফেসওয়াশ। তবে বানাতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে। ভারতীয় গণমাধ্যম 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র একটি প্রতিবেদনে ঘরেই ফেসওয়াশ বানানোর উপায় সম্পর্কে বলে হয়েছে। যেমন  তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম বা তেল ক্ষরণের কারণে ব্রণ ও র্যাকশের সমস্যা বেশি হয়। তাই এমন ত্বকের জন্য বেসন ও হলুদের ফেসওয়াশ ভালো। ২ চামচ বেসন, আধ চা-চামচ নিমপাতা গুঁড়া বা পুদিনাপাতা বাটা, সামান্য হলুদগুঁড়া এবং প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে নিতে হবে। মুখে হালকা হাতে মালিশ করে ৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানির সাহায্যে ধুয়ে ফেলতে হবে। বেসন ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণর সমস্যা দূর করে। শুষ্ক ত্বকের জন্য শুষ্ক ত্বক ধোয়ার পরে টানটান হয়ে যায় এবং চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এমন উপাদান প্রয়োজন, যা ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখবে। ১ চামচ মিহি ওটসের গুঁড়া, ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এটি মুখে ও গলায় বৃত্তাকারে মালিশ করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ওটস প্রাকৃতিক স্ক্রাবের মতো কাজ করবে এবং দুধ-মধু ত্বক নরম করবে। সংবেদনশীল বা স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য এমন উপাদান প্রয়োজন যা মাখলে জ্বালা বা চুলকানি হবে না। অনেকের ত্বকেই অ্যালার্জির সমস্যা হয়। তাই সে ক্ষেত্রে কেনা ফেসওয়াশ একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। ২ চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল, ২ চামচ ঠান্ডা করা গ্রিন টি এবং ২ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। গ্রিন টি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে তা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। এটি মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

সানি লিওন নাকি মন্দারমণিতে।— এমন খবরে নেটিজেনদের মাঝে শোরগোল। একবার পছন্দের অভিনেত্রীর দর্শন কি পেতে পারেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী একের পর এক পোস্ট দিতে থাকেন। দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে মন্দারমণির জনপ্রিয়তা। ভাবুন তো, একবার সেখানে গিয়েই যদি দেখা মেলে আপনার পছন্দের অভিনেত্রী সানি লিওনের, তাহলে কেমন হয়? সামাজিক মাধ্যমে সানি লিওনের করা সেই মন্তব্য থেকে বাড়ছে সবার আগ্রহ। পরিবার হোক কিংবা বন্ধু অথবা কাছের মানুষ— একান্তে সময় কাটাতে মন্দারমণির কোনো বিকল্প নেই৷ সানি লিওনের পরের সিনেমার শুটিং হওয়ার কথা সেই মন্দারমণিতেই। গাড়ি নিয়ে ঘণ্টা চারেকের সফরে বেরিয়ে পড়লেই পৌঁছে যাওয়া যায় সমুদ্রতীরে। নির্জন সৈকতে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনার মতো শান্তি যেন অন্য কোথাও মেলে না। মন্দারমণি সফর নিয়ে অভিনেত্রী সানি লিওন নিজেই জল্পনা উসকে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার একটি ছবি ঘিরে শোরগোল। কচি কলাপাতা রঙের ব্রালেটের ওপর সবুজ রঙের প্রিন্টেড শ্রাগ আর কো-অর্ড হট প্যান্ট। চোখে সানগ্লাস আর উঁচু করে বাঁধা বেণি। সমুদ্রের ধারে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন সানি লিওন। অন্য একটি ছবিতে লিখেছেন— ‘মন্দারমণি মুড’। তবে কি সানি লিওন তার পরবর্তী সিনেমার শুটিয়ে আসবেন মন্দারমণিতে? এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে তিনি যে সমুদ্র পছন্দ করেন, তা তার ভক্ত-অনুরাগীরা জানেন। একাধিকবার তাকে সমুদ্রতটে পোজ দিয়ে ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে। কখনো রঙিন বিকিনিতে, আবার কখনো স্নানপোশাকে অভিনেত্রী যে সমুদ্র-প্রিয়, তা বুঝিয়েছেন বারবার। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার রৌদ্রস্নানের ছবিও ভাইরাল হয়েছিল অনেকবার। ভক্ত-অনুরাগীরা নানা মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যম। কেউ কেউ আবার মজা করে লিখেছেন— সানি লিওনই নাকি পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ হতে চলেছেন।

জনপ্রিয় পোশাক ব্রান্ড লাইভ শপিং এর ফ্যাক্টরি আউটলেটে মব সৃষ্টি বিশৃঙ্খলা

জনপ্রিয় পোশাক ব্রান্ড লাইভ শপিং এর ফ্যাক্টরি আউটলেটে মব সৃষ্টি বিশৃঙ্খলা

রাজধানীর মিরপুরে জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড ‘লাইভ শপিং’ (Live Shopping)-এর নতুন ফ্যাক্টরি আউটলেটের শুভ উদ্বোধনের দিনেই ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক এক ঘটনা। বিশেষ ছাড় ও নানা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জোরপূর্বক শোরুমে প্রবেশ করে চরম বিশৃঙ্খলা ও মব তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে।প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বারবার ফোন করেও সময়মতো কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়নি।বিশেষ অফার ঘিরে ভিড় ও মব তৈরির অপচেষ্টাআজ ছিল লাইভ শপিং-এর মিরপুর ফ্যাক্টরি আউটলেটের উদ্বোধনী দিন। বিশেষ মূল্যছাড় ও আকর্ষণীয় আয়োজনের ঘোষণা থাকায় সকাল থেকেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় জমে।আউটলেট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়:অহেতুক গোলযোগ ও ভাঙচুরের চেষ্টা: স্বাভাবিক কেনাকাটার পরিবেশ চলাকালেই সুযোগসন্ধানী একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে শোরুমের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা অহেতুক হট্টগোল শুরু করে মব কালচার তৈরির পাঁয়তারা চালায় এবং একপর্যায়ে দোকানে ভাঙচুর করার চেষ্টা করে।  জরুরি সেবায় সাড়া না পাওয়ার ক্ষোভ: আউটলেটে উপস্থিত ক্রেতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো কার্যকর সহায়তা মেলেনি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরবর্তীতে ৯৯৯ থেকে লাইভ শপিং এর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানাগেছে। রাজধানীতে মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রশ্ন:বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মব তৈরির অপচেষ্টায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ কেনাকাটা করতে আসা নারী ও শিশুরা। ব্যবসায়ী মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় চাঁদাবাজি, চাঁদাবাজির রেশ ধরে হামলা ও অহেতুক ‘মব’ তৈরি করে প্রতিষ্ঠান জিম্মি করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে—এটি তারই অংশ হতে পারে।  উদ্বোধনের মতো একটি আনন্দঘন দিনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রদানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও প্রশাসনে গাফিলতি ব্যবসায়িক পরিবেশকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।লাইভ শপিং কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং মিরপুর এলাকার আউটলেটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিন বিনাবিচারে আটক বন্ধের নির্দেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের; এটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য দলটির জন্য।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিন বিনাবিচারে আটক বন্ধের নির্দেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের; এটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য দলটির জন্য।

বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাবেক সংসদ সদস্য, আমলা ও অন্যান্যদের দীর্ঘ দিন ধরে বিনা বিচারে ও জামিন ছাড়া আটক রাখার কঠোর সমালোচনা করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঢালাও বিনাবিচারে আটক রাখা বন্ধ করতে এবং আটককৃত ব্যক্তিদের জামিনের অধিকার, চিকিৎসাসেবা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উঠে আসা মূল বিষয়সমূহঢালাও ও বিনা বিচারে আটক: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হয়, যাদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ দিন ধরে কারাবন্দী রাখা হয়েছে।জামিন প্রক্রিয়ায় বাধা: প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন নিয়মিত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। এমনকি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন মামলা দিয়ে মুক্তি আটকে দিচ্ছে।কারাগারে মৃত্যু ও চিকিৎসার অভাব: আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক এবং নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জামিনের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে এবং বিনাবিচারে থাকা অবস্থায় ইতোমধ্যে একাধিক প্রবীণ ও অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর কারাগারে মৃত্যু হয়েছে।আন্তর্জাতিক আইনি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ: বিচার শুরু বা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যায় না। HRW মনে করিয়ে দিয়েছে যে "অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ ধরে নেওয়া" এবং "সবার ক্ষেত্রে সমান আইনি অধিকার প্রয়োগ" আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মূল ভিত্তি।কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগশেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আইনি সুরক্ষা, বিনাবিচারে আটক বন্ধ করা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অবস্থান।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে:এতদিন ধরে দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চলা ঢালাও গ্রেপ্তার, জামিন অস্বীকার এবং আইনি সুরক্ষাহীনতার যে অভিযোগ তুলে ধরা হচ্ছিল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই বিবৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার নিরপেক্ষ সত্যতা প্রমাণিত হলো।বিশ্বমঞ্চে বর্তমান সরকারের ওপর মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রাখার আইনি ও নৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।আওয়ামী লীগ এটিকে নিজেদের জন্য এক বড় কূটনৈতিক ও আইনি বিজয় হিসেবে দেখছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চলা নিপীড়ন তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিসেম্বরেই শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত, বিশ্বনেতাদের গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে: বেঙ্গলি জার্নালকে জাহাঙ্গীরের কবির নানক

ডিসেম্বরেই শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত, বিশ্বনেতাদের গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে: বেঙ্গলি জার্নালকে জাহাঙ্গীরের কবির নানক

দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পর আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কেবল সুনিশ্চিতই নয়, এতে বিশ্বরাজনীতির শীর্ষ পরাশক্তিগুলোর পূর্ণ সমর্থন ও ‘গ্রিন সিগন্যাল’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া জল্পনা-কল্পনার মধ্যে বেঙ্গলি জার্নালের কাছে দেওয়া এক বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।বেঙ্গলি জার্নালের রাজনৈতিক ডেস্কের বিশেষ প্রতিনিধি ফারহান দাউদকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে জাহাঙ্গীর কবির নানক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আপনারা জানেন নেত্রী ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন। এটি পুরোপুরি সুনিশ্চিত। আর নেত্রীর প্রত্যাবর্তনের আগেই আমরাও দেশে ফিরবো।"আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও কৌশল সম্পর্কে সাংবাদিক ফারহান দাউদ জানতে চাইলে দলীয় কৌশলের সুরক্ষায় বিস্তারিত তথ্য এড়াতে চান নানক। তবে তিনি জানান, তাঁদের সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা ও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি রয়েছে, যা নিরাপত্তার স্বার্থেই এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না।প্রত্যাবর্তনের আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে নানক এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, "আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বিশ্বনেতাদের স্পষ্ট সম্মতি ও গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে এই সম্মতি দিয়েছেন। আর ভারতবর্ষ তো আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুরু থেকেই আমাদের পাশে আছেন।"রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে দেশীয় রাজনীতি যখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তন এবং বিশ্বনেতাদের কথিত সমর্থনের খবর নিয়ে নানকের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন উত্তাপ ছড়াবে।Disclaimer-উপরের সংবাদ প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রদত্ত রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিগত দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। উল্লিখিত আন্তর্জাতিক পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানদের 'গ্রিন সিগন্যাল' বা ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে সাক্ষাৎ প্রদানকারীর নিজস্ব মতামত। কোনো আন্তর্জাতিক বা কূটনৈতিক পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজপথে সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ছাত্রলীগের শোক মিছিল

খিলক্ষেত-কুর্মিটোলায় শোক মিছিল / সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজপথে সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ছাত্রলীগের শোক মিছিল

সরকারের দেওয়া প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি উপেক্ষা করে হঠাৎ রাজপথে নেমে ঝটিকা শোক মিছিল করেছে সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। ১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন প্রধান সড়কে এই বিক্ষোভ ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশের টহল ও উপস্থিতির মধ্যেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে রাজপথে স্লোগান দিতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ আগস্ট সকালে সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান শুভ জলিলের নেতৃত্বে এই মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে সামনে থেকে সমন্বয় করেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল মৃধা ইমন এবং কলেজ ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা তামিম খান। মিছিলটি কুর্মিটোলা মেইন রোড ও সেনা ক্যাম্পের সামনের অংশ দিয়ে অগ্রসর হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্টে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের স্মরণে নানা স্লোগান দেন।সংগঠনটির ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও মূল সড়কে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের চোখের সামনে এভাবে হঠাৎ মিছিল নিয়ে নেমে আসাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঝটিকা মিছিলটি শেষ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকার কেন্দ্রস্থলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ছাত্রলীগের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

“শেখ হাসিনা পালিয়ে আসেননি, নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী ভারতে পৌঁছে দিয়েছে”

ডয়চে ভেলেকে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী / “শেখ হাসিনা পালিয়ে আসেননি, নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী ভারতে পৌঁছে দিয়েছে”

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভারতে গমন নিয়ে চলমান নানা আন্তর্জাতিক গুঞ্জন ও চর্চার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে (Deutsche Welle)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাননি, বরং তাঁর নিরাপত্তা ও সার্বিক জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাজিনীই তাঁকে সুরক্ষার স্বার্থে ভারতে পৌঁছে দিয়েছে।আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনার অবস্থান ও ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করার সময় প্রবীণ এই কূটনীতিক জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জীবন ও নিরাপত্তাজনিত চরম হুমকি তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল পদক্ষেপে তাঁকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়। এটিকে ‘পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।সাক্ষাৎকারে ভারতের এই সাবেক হাইকমিশনার আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির ওপর এককভাবে নির্ভরশীল নয়, তবে ইতিহাস ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যকার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের যে অনন্য মাত্রা তৈরি হয়েছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ডয়চে ভেলেতে প্রচারিত রিভা গাঙ্গুলী দাশের এই সাক্ষাৎকারটি শেখ হাসিনার ভারত গমন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক ব্যাখ্যায় এক নতুন আলো ফেলেছে।

কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

সানি লিওন নাকি মন্দারমণিতে।— এমন খবরে নেটিজেনদের মাঝে শোরগোল। একবার পছন্দের অভিনেত্রীর দর্শন কি পেতে পারেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী একের পর এক পোস্ট দিতে থাকেন। দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে মন্দারমণির জনপ্রিয়তা। ভাবুন তো, একবার সেখানে গিয়েই যদি দেখা মেলে আপনার পছন্দের অভিনেত্রী সানি লিওনের, তাহলে কেমন হয়? সামাজিক মাধ্যমে সানি লিওনের করা সেই মন্তব্য থেকে বাড়ছে সবার আগ্রহ। পরিবার হোক কিংবা বন্ধু অথবা কাছের মানুষ— একান্তে সময় কাটাতে মন্দারমণির কোনো বিকল্প নেই৷ সানি লিওনের পরের সিনেমার শুটিং হওয়ার কথা সেই মন্দারমণিতেই। গাড়ি নিয়ে ঘণ্টা চারেকের সফরে বেরিয়ে পড়লেই পৌঁছে যাওয়া যায় সমুদ্রতীরে। নির্জন সৈকতে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনার মতো শান্তি যেন অন্য কোথাও মেলে না। মন্দারমণি সফর নিয়ে অভিনেত্রী সানি লিওন নিজেই জল্পনা উসকে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার একটি ছবি ঘিরে শোরগোল। কচি কলাপাতা রঙের ব্রালেটের ওপর সবুজ রঙের প্রিন্টেড শ্রাগ আর কো-অর্ড হট প্যান্ট। চোখে সানগ্লাস আর উঁচু করে বাঁধা বেণি। সমুদ্রের ধারে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন সানি লিওন। অন্য একটি ছবিতে লিখেছেন— ‘মন্দারমণি মুড’। তবে কি সানি লিওন তার পরবর্তী সিনেমার শুটিয়ে আসবেন মন্দারমণিতে? এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে তিনি যে সমুদ্র পছন্দ করেন, তা তার ভক্ত-অনুরাগীরা জানেন। একাধিকবার তাকে সমুদ্রতটে পোজ দিয়ে ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে। কখনো রঙিন বিকিনিতে, আবার কখনো স্নানপোশাকে অভিনেত্রী যে সমুদ্র-প্রিয়, তা বুঝিয়েছেন বারবার। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার রৌদ্রস্নানের ছবিও ভাইরাল হয়েছিল অনেকবার। ভক্ত-অনুরাগীরা নানা মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যম। কেউ কেউ আবার মজা করে লিখেছেন— সানি লিওনই নাকি পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ হতে চলেছেন।

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং লাইভস্ট্রিমিং সেবায়ও নতুন বিধিনিষেধ আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর এই পদক্ষেপকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, নতুন এই পরিবর্তন শিশুদের ‘তাদের শৈশব ফিরিয়ে দেবে।’ তাঁর ভাষায়, পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞাই এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এটি আমাদের শিশুদের আরও নিরাপদ করবে, আরও সুখী করবে, তাদের আরও সময় দেবে, আরও নিরাপত্তা দেবে, বড় হয়ে ওঠার আরও স্বাধীনতা দেবে এবং আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে।’ সরকার জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করবে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছিল। ব্রিটেনের নতুন পরিকল্পনার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচারের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে সরকার। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য লাইভস্ট্রিমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করা হবে। স্টারমার বলেন, ‘বাস্তব জীবনে আপনি কি আপনার সন্তানকে এমন কোনো অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে দেবেন, যার সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না? না। তাই আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। বছরের শেষ নাগাদ প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করা হবে এবং আগামী বসন্ত নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে ব্রিটেন ক্রমেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগে বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু, অ্যালগরিদম পরিবর্তন এবং শিশুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শিশুদের দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্টারমার জানান, তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও স্টারমার বলেন, জনগণ যথার্থভাবেই সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে দেশটি টিকটক, অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ সীমিত করে। এরপর বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিবেচনা শুরু করেছে। নতুন বিধিনিষেধ তৈরির আগে ব্রিটিশ সরকার শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ করেছে। আলোচনায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কারফিউ, অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা এবং আসক্তি তৈরিকারী ডিজাইন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও ছিল। এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মতামত জমা পড়ে। অংশ নেওয়া অভিভাবকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি এর সুফলের চেয়ে বেশি। আর ৯০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে সবাই একমত নন। কিছু মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক বলছেন, এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। অন্যদিকে লন্ডনের একদল স্কুলশিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে তাদের অনুভূতি দ্বিধাবিভক্ত।

কোন পোস্ট নেই !