ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
Bengali Journal
সর্বশেষ

চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেও শেষ বয়সে একা, ভাড়া বাসায় মিলল মায়ের মরদেহ

বরিশালের বাবুগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে তাহমিনা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার দুপুরে উপজেলার নতুন হাট এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এক থেকে দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে মানুষ করতে প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে কাজ করেন তাহমিনা। উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। তার বড় ছেলে সুমনের ঢাকার উত্তরায় ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তার বিয়ে হয়েছে। তাহমিনা বেগম বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করছিলেন। বাসার মালিক আব্দুর বারেক জানান, তাহমিনাকে তার বড় ভাই প্রায় তিন মাস আগে বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতেন এবং মাঝেমধ্যে বাজারের দোকানগুলোতে ঘোরাফেরা করতেন। গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার বিকাল থেকে বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়ালেও প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি তিনি। রবিবার সকালে দুর্গন্ধের উত্স খুঁজতে গিয়ে কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তাহমিনার বড় ভাইকে খবর দেওয়া হলে তিনি বাসায় এসে কক্ষের ভেতরে বোনের মরদেহ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাসে সন্তানদের কেউ তাকে দেখতে আসেননি। তবে এ বিষয়ে সন্তানদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, তাহমিনা আগে কয়েক বার স্ট্রোক করেছিলেন। হূদেরাগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত এবং ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করতেন না। শনিবার রাতে তার ছেলের সঙ্গে মায়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে জানান স্থানীয় এক বাসিন্দা। এদিকে, তাহমিনার ছেলে-মেয়েরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেন। তবে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে। বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও গার্ড অব অনারে জামায়াতের বর্বর বাধা: স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তির চরম আস্ফালন!

পিরোজপুর (২৪ অক্টোবর, ২০২৬): একাত্তরের বীর মুক্তিসেনা ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে চরম বর্বরতা ও ধৃষ্টতা দেখিয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র চক্র, জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ঐতিহাসিক মামলার অন্যতম সাক্ষী ও বাদী হওয়ার অপরাধে—মৃত্যুর পরও বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এই মধ্যযুগীয় পৈ'শাচিক হিংস্রতা চালাল পরাজিত অপশক্তি।পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক ভিটায় খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে বাধার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।পরাজিত শক্তির নগ্ন নখরাঘাত: খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট!আজ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়ায় পৌঁছালে শুরু হয় জামায়াত ক্যাডারদের নজিরবিহীন তাণ্ডব।যে স্বাধীন বাংলাদেশ রচনার জন্য মানিক পশারী একাত্তরে জীবন বাজি রেখে অস্ত্র ধরেছিলেন, সেই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতেই তাঁর দাফন প্রতিহত করতে স্থানীয় জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়। একটি স্বাধীন দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিন ও শেষ বিদায়ে এমন নগ্ন হামলা একাত্তরের খুনি চক্রের বিপজ্জনক পুনরুত্থানকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।প্রশাসনের নতজানু ভূমিকা ও পুলিশ লাইন্সে অবরুদ্ধ পরিবারজামায়াত নেতৃত্বের সরাসরি উসকানিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিনবাহী গাড়িকে পিরোজপুরের বিভিন্ন মোড়ে আটকে দেওয়া হয়। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দেন এবং পিরোজপুরের মাটিতে দাফন বা রাষ্ট্রীয় সম্মান দিতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। অথচ মৃত মানিক পশারি একজন গ্যাজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর এমন উগ্র আস্ফালনের মুখে স্থানীয় প্রশাসনের চরম অসহায়ত্ব ও নতজানু আপসকামী ভূমিকা দেখা গেছে:৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ পরিবার: স্বাধীনতাবিরোধী ক্যাডারদের প্রাণনাশের হুমকিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়।গোপনে শেষ বিদায়: প্রকাশ্য দিবালোকে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পৈতৃক ভিটায় দাফনের ব্যবস্থা না করে, প্রশাসনের দুর্বলতায় পুলিশ লাইন্সের চার দেয়ালের ভেতরে গোপনে দাফনের প্রক্রিয়া চালানো হয়, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর এক চরম আঘাত।দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবিএকটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের প্রতি জামায়াত ও তাদের সহযোগীদের এই অমানবিক অবমাননাকে সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সর্বত্র এখন একটিই প্রশ্ন: দেশ কি তবে একাত্তরের পরাজিত খুনিদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে?মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত উগ্র জামায়াত ক্যাডারদের গ্রেপ্তার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশের ওপর এই বর্বরতা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আক্রমণ।

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও গার্ড অব অনারে জামায়াতের বর্বর বাধা: স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তির চরম আস্ফালন!

খুলনায় চাঁদা না পেয়ে মুদি দোকানিকে গুলি

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে এবার ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু (৪৫) নামে এক মুদি দোকানি আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যার পর নগরের টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার শিবপদ কুণ্ডুর ছেলে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের প্রবেশপথের এক কোনার দোকানে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময়ে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করে। একটি গুলি তাঁর পেটের নাভির ওপরে বিদ্ধ হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। এলাকার আরও একটি সূত্র জানায়, মুদি দোকানি আকাশের কাছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। তদন্ত না করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। যারা এ গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খুলনায় চাঁদা না পেয়ে মুদি দোকানিকে গুলি
খুলনায় চাঁদা না পেয়ে মুদি দোকানিকে গুলি

খুলনায় চাঁদা না পেয়ে মুদি দোকানিকে গুলি

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে এবার ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু (৪৫) নামে এক মুদি দোকানি আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যার পর নগরের টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার শিবপদ কুণ্ডুর ছেলে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের প্রবেশপথের এক কোনার দোকানে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময়ে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করে। একটি গুলি তাঁর পেটের নাভির ওপরে বিদ্ধ হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। এলাকার আরও একটি সূত্র জানায়, মুদি দোকানি আকাশের কাছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। তদন্ত না করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। যারা এ গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একদিকে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আর অন্যদিকে চেন্নাইয়ে রোড শো ও ১৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি!

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তীব্র বৈপরীত্য ও নাটকীয় দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন রাজধানী নয়াদিল্লি ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের আন্দোলন চরমে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে এক জমকালো রোড শো এবং ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।একই সময়ে ভারতের দুই প্রান্তে ঘটা এই ভিন্নধর্মী দুটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃশ্য দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক জটিল রূপ ফুটিয়ে তুলেছে।১. চেন্নাইয়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ও বর্ণাঢ্য রোড শোতামিলনাড়ু সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চেন্নাইয়ের রাজপথে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য রোড শোতে অংশ নেন, যেখানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলীয় সমর্থক তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এই সফরে তিনি দক্ষিণ ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোসহ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ঝটিকা সফর ও বড় অংকের উন্নয়ন উপহারের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।২. অন্যদিকে দিল্লিতে তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও টানাপোড়েনঠিক যখন প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণের রাজ্যে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রচারে ব্যস্ত, তখন দেশের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলন, নীতিগত প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর বিক্ষোভের কারণে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ উত্তাল রয়েছে।দিল্লির এই চলমান অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর চেন্নাই সফর এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ভারতের জাতীয় গণমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী পক্ষগুলো যেখানে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জনঅসন্তোষের কথা বলছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন শিবির একে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরছে।

একদিকে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আর অন্যদিকে চেন্নাইয়ে রোড শো ও ১৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি!

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তীব্র বৈপরীত্য ও নাটকীয় দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন রাজধানী নয়াদিল্লি ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের আন্দোলন চরমে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে এক জমকালো রোড শো এবং ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।একই সময়ে ভারতের দুই প্রান্তে ঘটা এই ভিন্নধর্মী দুটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃশ্য দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক জটিল রূপ ফুটিয়ে তুলেছে।১. চেন্নাইয়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ও বর্ণাঢ্য রোড শোতামিলনাড়ু সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চেন্নাইয়ের রাজপথে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য রোড শোতে অংশ নেন, যেখানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলীয় সমর্থক তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এই সফরে তিনি দক্ষিণ ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোসহ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ঝটিকা সফর ও বড় অংকের উন্নয়ন উপহারের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।২. অন্যদিকে দিল্লিতে তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও টানাপোড়েনঠিক যখন প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণের রাজ্যে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রচারে ব্যস্ত, তখন দেশের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলন, নীতিগত প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর বিক্ষোভের কারণে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ উত্তাল রয়েছে।দিল্লির এই চলমান অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর চেন্নাই সফর এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ভারতের জাতীয় গণমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী পক্ষগুলো যেখানে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জনঅসন্তোষের কথা বলছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন শিবির একে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন

নারীরা কি গাড়ি চালাতে পারবেন, ইসলাম কী বলে?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের প্রয়োজন ও মানবিক মর্যাদাকে সবসময় অগ্রাধিকার দেয়। আধুনিক যুগে প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হলো যানবাহন। পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও পারিবারিক, সামাজিক ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হয়। তবে নারীরা গাড়ি চালাতে পারবেন কি না—এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ইসলাম নারীর স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয়তাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার আত্মমর্যাদা, নিরাপত্তা ও শালীনতার সুরক্ষায় কিছু জরুরি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। গাড়ি চালানো মূলত বৈধ: শরিয়তের মূলনীতি ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নারী কোনো যানবাহনে আরোহণ করা যেমন বৈধ, একইভাবে কোনো বাহন নিজে চালানোও মূলত বৈধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের যুগে নারীরা তৎকালীন বাহন (যেমন উট ও ঘোড়া) হাঁকিয়ে যাতায়াত করতেন। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবী (সা.) উষ্ট্রারোহী নারীদের প্রশংসাও করেছেন— خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ ‘উট চালনাকারী নারীদের মধ্যে কুরাইশের নেককার নারীগণই সর্বোত্তম। তারা সন্তানের প্রতি শৈশবে সর্বাধিক স্নেহশীল এবং স্বামীর সম্পদের সর্বোত্তম হেফাজতকারী।’ (বুখারি ৫০৮২, মুসলিম ২৫২৭) কাতারের আওকাফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ইসলামওয়েব’-এর ফতোয়াতেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো নিষিদ্ধ পর্যায়— যেমন অননুমোদিত দীর্ঘ সফর বা পরপুরুষের সাথে নির্জনতা তৈরি না হলে নারীর গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ জায়েজ। জরুরি পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার অগ্রাধিকার বাস্তব জীবনের নানা প্রয়োজনে একজন নারীর গাড়ি চালানো কেবল বৈধই নয়, ক্ষেত্রবিশেষে অধিক নিরাপদও হতে পারে— নারীর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে শরিয়তের আবশ্যক শর্ত ১. শালীনতা ও পর্দার বিধান বজায় রাখা গাড়ি চালানোর সময় পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণে পূর্ণ শালীনতা বজায় রাখা ফরজ। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন— يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না।’ (সুরা আল-আহজাব: আয়াত ৫৯) আরও পড়ুনআরও পড়ুনঅসুস্থতা বা অপারগতায় কি নামাজ ছাড়া যাবে? ২. দূরপাল্লার সফরে মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা শহরের ভেতর বা স্বাভাবিক দূরত্বে চলাচলে মাহরাম আবশ্যক না হলেও দূরপাল্লার দীর্ঘ সফরে মাহরামের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُسَافِرُ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ عَلَيْهَا ‘আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য সঙ্গে মাহরাম পুরুষ ছাড়া এক দিন ও এক রাতের পথ সফর করা বৈধ নয়।’ (মুসলিম ১৩৩৯) ৩. গায়রে মাহরামের সাথে নির্জনতা (খালওয়াত) পরিহার করা গাড়ির মতো আবদ্ধ স্থানে কোনো পরপুরুষের সাথে নির্জনে একা বসা বা যাতায়াত করা হারাম। নবীজি (সা.) সতর্ক করে বলেছেন— لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ ‘কোনো পুরুষ যখনই কোনো (গায়রে মাহরাম) নারীর সঙ্গে নির্জনে একাকী মিলিত হয়, তখন শয়তান তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয়।’ (তিরমিজি ১১৭১) ইসলাম নারীকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার পক্ষে নয়, বরং তার ইজ্জত-আব্রু ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনের পূর্ণ অধিকার দেয়। তাই কোনো নারী যদি পর্দার বিধান অক্ষুণ্ন রেখে, পরপুরুষের সাথে নির্জনতা এড়িয়ে এবং দূরপাল্লার ক্ষেত্রে মাহরাম সঙ্গে রেখে গাড়ি চালান, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ প্রশংসনীয় ও বৈধ। এতে তার স্বাবলম্বিতা প্রকাশ পায় এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকেও নিজেকে নিরাপদে রাখা সম্ভব হয়।

অল্প উপকরণে ঘরেই ফেসওয়াশ বানাবেন যেভাবে

অল্প উপকরণে ঘরেই ফেসওয়াশ বানাবেন যেভাবে

বাজার থেকে কেনা ফেসওয়াশে সালফেট, প্যারাবেন ও কৃত্রিম সুগন্ধি থাকে। এগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সালফেট, প্যারাবেনযুক্ত ফেসওয়াশ ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে মুখ শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের সুরক্ষায় বাজারের কেনা ফেসওয়াশের বদলে বাসায়ই বানিয়ে নিন পছন্দের উপকরণের ফেসওয়াশ। তবে বানাতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে। ভারতীয় গণমাধ্যম 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র একটি প্রতিবেদনে ঘরেই ফেসওয়াশ বানানোর উপায় সম্পর্কে বলে হয়েছে। যেমন  তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম বা তেল ক্ষরণের কারণে ব্রণ ও র্যাকশের সমস্যা বেশি হয়। তাই এমন ত্বকের জন্য বেসন ও হলুদের ফেসওয়াশ ভালো। ২ চামচ বেসন, আধ চা-চামচ নিমপাতা গুঁড়া বা পুদিনাপাতা বাটা, সামান্য হলুদগুঁড়া এবং প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে নিতে হবে। মুখে হালকা হাতে মালিশ করে ৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানির সাহায্যে ধুয়ে ফেলতে হবে। বেসন ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণর সমস্যা দূর করে। শুষ্ক ত্বকের জন্য শুষ্ক ত্বক ধোয়ার পরে টানটান হয়ে যায় এবং চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এমন উপাদান প্রয়োজন, যা ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখবে। ১ চামচ মিহি ওটসের গুঁড়া, ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এটি মুখে ও গলায় বৃত্তাকারে মালিশ করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ওটস প্রাকৃতিক স্ক্রাবের মতো কাজ করবে এবং দুধ-মধু ত্বক নরম করবে। সংবেদনশীল বা স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য এমন উপাদান প্রয়োজন যা মাখলে জ্বালা বা চুলকানি হবে না। অনেকের ত্বকেই অ্যালার্জির সমস্যা হয়। তাই সে ক্ষেত্রে কেনা ফেসওয়াশ একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। ২ চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল, ২ চামচ ঠান্ডা করা গ্রিন টি এবং ২ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। গ্রিন টি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে তা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। এটি মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

সানি লিওন নাকি মন্দারমণিতে।— এমন খবরে নেটিজেনদের মাঝে শোরগোল। একবার পছন্দের অভিনেত্রীর দর্শন কি পেতে পারেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী একের পর এক পোস্ট দিতে থাকেন। দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে মন্দারমণির জনপ্রিয়তা। ভাবুন তো, একবার সেখানে গিয়েই যদি দেখা মেলে আপনার পছন্দের অভিনেত্রী সানি লিওনের, তাহলে কেমন হয়? সামাজিক মাধ্যমে সানি লিওনের করা সেই মন্তব্য থেকে বাড়ছে সবার আগ্রহ। পরিবার হোক কিংবা বন্ধু অথবা কাছের মানুষ— একান্তে সময় কাটাতে মন্দারমণির কোনো বিকল্প নেই৷ সানি লিওনের পরের সিনেমার শুটিং হওয়ার কথা সেই মন্দারমণিতেই। গাড়ি নিয়ে ঘণ্টা চারেকের সফরে বেরিয়ে পড়লেই পৌঁছে যাওয়া যায় সমুদ্রতীরে। নির্জন সৈকতে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনার মতো শান্তি যেন অন্য কোথাও মেলে না। মন্দারমণি সফর নিয়ে অভিনেত্রী সানি লিওন নিজেই জল্পনা উসকে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার একটি ছবি ঘিরে শোরগোল। কচি কলাপাতা রঙের ব্রালেটের ওপর সবুজ রঙের প্রিন্টেড শ্রাগ আর কো-অর্ড হট প্যান্ট। চোখে সানগ্লাস আর উঁচু করে বাঁধা বেণি। সমুদ্রের ধারে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন সানি লিওন। অন্য একটি ছবিতে লিখেছেন— ‘মন্দারমণি মুড’। তবে কি সানি লিওন তার পরবর্তী সিনেমার শুটিয়ে আসবেন মন্দারমণিতে? এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে তিনি যে সমুদ্র পছন্দ করেন, তা তার ভক্ত-অনুরাগীরা জানেন। একাধিকবার তাকে সমুদ্রতটে পোজ দিয়ে ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে। কখনো রঙিন বিকিনিতে, আবার কখনো স্নানপোশাকে অভিনেত্রী যে সমুদ্র-প্রিয়, তা বুঝিয়েছেন বারবার। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার রৌদ্রস্নানের ছবিও ভাইরাল হয়েছিল অনেকবার। ভক্ত-অনুরাগীরা নানা মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যম। কেউ কেউ আবার মজা করে লিখেছেন— সানি লিওনই নাকি পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ হতে চলেছেন।

খুলনায় চাঁদা না পেয়ে মুদি দোকানিকে গুলি

খুলনায় চাঁদা না পেয়ে মুদি দোকানিকে গুলি

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে এবার ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু (৪৫) নামে এক মুদি দোকানি আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যার পর নগরের টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার শিবপদ কুণ্ডুর ছেলে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের প্রবেশপথের এক কোনার দোকানে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময়ে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করে। একটি গুলি তাঁর পেটের নাভির ওপরে বিদ্ধ হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। এলাকার আরও একটি সূত্র জানায়, মুদি দোকানি আকাশের কাছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। তদন্ত না করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। যারা এ গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রিয়াদে কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

রিয়াদে কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১ জন কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী। তারা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১০ অক্টোবর আনুমানিক দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে। এ ঘটনায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা হতাহত হন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি এবং আহতদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস। কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশির সঙ্গে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তারা হলেন, হাফেজ হাসান (ঢাকা), কাজী নুরুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং মো. ওমর ফারুক (সৌদি প্রবাসী কর্মী)। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন সাফকাত রহমান (নওগাঁ) ও মো. দাউদুল ইসলাম (কুমিল্লা)। সাফকাত রহমান অচেতন অবস্থায় আছেন। রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। দুজনেরই বাড়ি ঢাকা। প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আব্দুল্লাহ (ঢাকা)। সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন আরমান হোসেনসহ (ঢাকা) তিন বাংলাদেশি কর্মী। কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রফিক মিয়া। কিং খালেদ মেডিক্যাল সিটিতে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি কর্মী হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। এ ছাড়া এজতাহ সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল; সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত সবাই রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে আসা এবং রিয়াদ হয়ে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৫০০ যাত্রী আটকা পড়েন। এ ছাড়া রিয়াদ থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও আটকে পড়েন। তাদের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টার্মিনাল-৩-এ সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪, রিয়াদ এয়ারের আরএক্স১৭ এবং ইউএস-বাংলার ইউএস২৮১ ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে আসা এবং ফ্লাইনাস, ফ্লাইএডিল ও ফ্লাইরিয়াদে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১০০ জন যাত্রীর আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে আসা ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রিয়াদ-ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আলখোবার স্থলবন্দর দিয়ে বাহরাইন যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ এর আগে রবিবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত চার বাংলাদেশি কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, তারা সৌদির কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন। আমরা সবার পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ মিশন সেখানে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। হতাহতদের অবস্থা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশিরা যাতে যতটা সম্ভব নিরাপদে থাকতে পারেন, সে বিষয়ে মিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ ধরনের ঘটনায় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘মাত্র ঘটনাটা ঘটেছে। আমরা অবশ্যই সৌদি সরকারের সঙ্গে কাজ করবো। অনেক সময় দেখা যায়, বাংলাদেশি ভাইয়েরা ওখানে যারা বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করেন, তাদের কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। তো সব ফরমালিটি কমপ্লিট করে তাদের মরদেহ শিগগিরই দেশে ফেরত আনার চেষ্টা করবো। তাদের দেশে আনার খরচ আমরা বহন করে থাকি।’

জনপ্রিয় পোশাক ব্রান্ড লাইভ শপিং এর ফ্যাক্টরি আউটলেটে মব সৃষ্টি বিশৃঙ্খলা

জনপ্রিয় পোশাক ব্রান্ড লাইভ শপিং এর ফ্যাক্টরি আউটলেটে মব সৃষ্টি বিশৃঙ্খলা

রাজধানীর মিরপুরে জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড ‘লাইভ শপিং’ (Live Shopping)-এর নতুন ফ্যাক্টরি আউটলেটের শুভ উদ্বোধনের দিনেই ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক এক ঘটনা। বিশেষ ছাড় ও নানা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জোরপূর্বক শোরুমে প্রবেশ করে চরম বিশৃঙ্খলা ও মব তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে।প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বারবার ফোন করেও সময়মতো কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়নি।বিশেষ অফার ঘিরে ভিড় ও মব তৈরির অপচেষ্টাআজ ছিল লাইভ শপিং-এর মিরপুর ফ্যাক্টরি আউটলেটের উদ্বোধনী দিন। বিশেষ মূল্যছাড় ও আকর্ষণীয় আয়োজনের ঘোষণা থাকায় সকাল থেকেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় জমে।আউটলেট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়:অহেতুক গোলযোগ ও ভাঙচুরের চেষ্টা: স্বাভাবিক কেনাকাটার পরিবেশ চলাকালেই সুযোগসন্ধানী একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে শোরুমের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা অহেতুক হট্টগোল শুরু করে মব কালচার তৈরির পাঁয়তারা চালায় এবং একপর্যায়ে দোকানে ভাঙচুর করার চেষ্টা করে।  জরুরি সেবায় সাড়া না পাওয়ার ক্ষোভ: আউটলেটে উপস্থিত ক্রেতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো কার্যকর সহায়তা মেলেনি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরবর্তীতে ৯৯৯ থেকে লাইভ শপিং এর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানাগেছে। রাজধানীতে মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রশ্ন:বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মব তৈরির অপচেষ্টায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ কেনাকাটা করতে আসা নারী ও শিশুরা। ব্যবসায়ী মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় চাঁদাবাজি, চাঁদাবাজির রেশ ধরে হামলা ও অহেতুক ‘মব’ তৈরি করে প্রতিষ্ঠান জিম্মি করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে—এটি তারই অংশ হতে পারে।  উদ্বোধনের মতো একটি আনন্দঘন দিনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রদানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও প্রশাসনে গাফিলতি ব্যবসায়িক পরিবেশকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।লাইভ শপিং কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং মিরপুর এলাকার আউটলেটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিন বিনাবিচারে আটক বন্ধের নির্দেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের; এটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য দলটির জন্য।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিন বিনাবিচারে আটক বন্ধের নির্দেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের; এটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য দলটির জন্য।

বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাবেক সংসদ সদস্য, আমলা ও অন্যান্যদের দীর্ঘ দিন ধরে বিনা বিচারে ও জামিন ছাড়া আটক রাখার কঠোর সমালোচনা করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঢালাও বিনাবিচারে আটক রাখা বন্ধ করতে এবং আটককৃত ব্যক্তিদের জামিনের অধিকার, চিকিৎসাসেবা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উঠে আসা মূল বিষয়সমূহঢালাও ও বিনা বিচারে আটক: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হয়, যাদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ দিন ধরে কারাবন্দী রাখা হয়েছে।জামিন প্রক্রিয়ায় বাধা: প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন নিয়মিত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। এমনকি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন মামলা দিয়ে মুক্তি আটকে দিচ্ছে।কারাগারে মৃত্যু ও চিকিৎসার অভাব: আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক এবং নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জামিনের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে এবং বিনাবিচারে থাকা অবস্থায় ইতোমধ্যে একাধিক প্রবীণ ও অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর কারাগারে মৃত্যু হয়েছে।আন্তর্জাতিক আইনি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ: বিচার শুরু বা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যায় না। HRW মনে করিয়ে দিয়েছে যে "অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ ধরে নেওয়া" এবং "সবার ক্ষেত্রে সমান আইনি অধিকার প্রয়োগ" আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মূল ভিত্তি।কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগশেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আইনি সুরক্ষা, বিনাবিচারে আটক বন্ধ করা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অবস্থান।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে:এতদিন ধরে দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চলা ঢালাও গ্রেপ্তার, জামিন অস্বীকার এবং আইনি সুরক্ষাহীনতার যে অভিযোগ তুলে ধরা হচ্ছিল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই বিবৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার নিরপেক্ষ সত্যতা প্রমাণিত হলো।বিশ্বমঞ্চে বর্তমান সরকারের ওপর মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রাখার আইনি ও নৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।আওয়ামী লীগ এটিকে নিজেদের জন্য এক বড় কূটনৈতিক ও আইনি বিজয় হিসেবে দেখছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চলা নিপীড়ন তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একদিকে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আর অন্যদিকে চেন্নাইয়ে রোড শো ও ১৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি!

একদিকে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আর অন্যদিকে চেন্নাইয়ে রোড শো ও ১৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি!

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তীব্র বৈপরীত্য ও নাটকীয় দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন রাজধানী নয়াদিল্লি ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের আন্দোলন চরমে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে এক জমকালো রোড শো এবং ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।একই সময়ে ভারতের দুই প্রান্তে ঘটা এই ভিন্নধর্মী দুটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃশ্য দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক জটিল রূপ ফুটিয়ে তুলেছে।১. চেন্নাইয়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ও বর্ণাঢ্য রোড শোতামিলনাড়ু সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চেন্নাইয়ের রাজপথে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য রোড শোতে অংশ নেন, যেখানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলীয় সমর্থক তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এই সফরে তিনি দক্ষিণ ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোসহ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ঝটিকা সফর ও বড় অংকের উন্নয়ন উপহারের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।২. অন্যদিকে দিল্লিতে তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও টানাপোড়েনঠিক যখন প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণের রাজ্যে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রচারে ব্যস্ত, তখন দেশের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলন, নীতিগত প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর বিক্ষোভের কারণে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ উত্তাল রয়েছে।দিল্লির এই চলমান অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর চেন্নাই সফর এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ভারতের জাতীয় গণমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী পক্ষগুলো যেখানে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জনঅসন্তোষের কথা বলছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন শিবির একে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরছে।

কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

সানি লিওন নাকি মন্দারমণিতে।— এমন খবরে নেটিজেনদের মাঝে শোরগোল। একবার পছন্দের অভিনেত্রীর দর্শন কি পেতে পারেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী একের পর এক পোস্ট দিতে থাকেন। দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে মন্দারমণির জনপ্রিয়তা। ভাবুন তো, একবার সেখানে গিয়েই যদি দেখা মেলে আপনার পছন্দের অভিনেত্রী সানি লিওনের, তাহলে কেমন হয়? সামাজিক মাধ্যমে সানি লিওনের করা সেই মন্তব্য থেকে বাড়ছে সবার আগ্রহ। পরিবার হোক কিংবা বন্ধু অথবা কাছের মানুষ— একান্তে সময় কাটাতে মন্দারমণির কোনো বিকল্প নেই৷ সানি লিওনের পরের সিনেমার শুটিং হওয়ার কথা সেই মন্দারমণিতেই। গাড়ি নিয়ে ঘণ্টা চারেকের সফরে বেরিয়ে পড়লেই পৌঁছে যাওয়া যায় সমুদ্রতীরে। নির্জন সৈকতে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনার মতো শান্তি যেন অন্য কোথাও মেলে না। মন্দারমণি সফর নিয়ে অভিনেত্রী সানি লিওন নিজেই জল্পনা উসকে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার একটি ছবি ঘিরে শোরগোল। কচি কলাপাতা রঙের ব্রালেটের ওপর সবুজ রঙের প্রিন্টেড শ্রাগ আর কো-অর্ড হট প্যান্ট। চোখে সানগ্লাস আর উঁচু করে বাঁধা বেণি। সমুদ্রের ধারে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন সানি লিওন। অন্য একটি ছবিতে লিখেছেন— ‘মন্দারমণি মুড’। তবে কি সানি লিওন তার পরবর্তী সিনেমার শুটিয়ে আসবেন মন্দারমণিতে? এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে তিনি যে সমুদ্র পছন্দ করেন, তা তার ভক্ত-অনুরাগীরা জানেন। একাধিকবার তাকে সমুদ্রতটে পোজ দিয়ে ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে। কখনো রঙিন বিকিনিতে, আবার কখনো স্নানপোশাকে অভিনেত্রী যে সমুদ্র-প্রিয়, তা বুঝিয়েছেন বারবার। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার রৌদ্রস্নানের ছবিও ভাইরাল হয়েছিল অনেকবার। ভক্ত-অনুরাগীরা নানা মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যম। কেউ কেউ আবার মজা করে লিখেছেন— সানি লিওনই নাকি পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ হতে চলেছেন।

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং লাইভস্ট্রিমিং সেবায়ও নতুন বিধিনিষেধ আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর এই পদক্ষেপকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, নতুন এই পরিবর্তন শিশুদের ‘তাদের শৈশব ফিরিয়ে দেবে।’ তাঁর ভাষায়, পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞাই এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এটি আমাদের শিশুদের আরও নিরাপদ করবে, আরও সুখী করবে, তাদের আরও সময় দেবে, আরও নিরাপত্তা দেবে, বড় হয়ে ওঠার আরও স্বাধীনতা দেবে এবং আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে।’ সরকার জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করবে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছিল। ব্রিটেনের নতুন পরিকল্পনার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচারের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে সরকার। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য লাইভস্ট্রিমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করা হবে। স্টারমার বলেন, ‘বাস্তব জীবনে আপনি কি আপনার সন্তানকে এমন কোনো অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে দেবেন, যার সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না? না। তাই আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। বছরের শেষ নাগাদ প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করা হবে এবং আগামী বসন্ত নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে ব্রিটেন ক্রমেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগে বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু, অ্যালগরিদম পরিবর্তন এবং শিশুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শিশুদের দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্টারমার জানান, তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও স্টারমার বলেন, জনগণ যথার্থভাবেই সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে দেশটি টিকটক, অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ সীমিত করে। এরপর বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিবেচনা শুরু করেছে। নতুন বিধিনিষেধ তৈরির আগে ব্রিটিশ সরকার শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ করেছে। আলোচনায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কারফিউ, অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা এবং আসক্তি তৈরিকারী ডিজাইন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও ছিল। এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মতামত জমা পড়ে। অংশ নেওয়া অভিভাবকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি এর সুফলের চেয়ে বেশি। আর ৯০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে সবাই একমত নন। কিছু মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক বলছেন, এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। অন্যদিকে লন্ডনের একদল স্কুলশিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে তাদের অনুভূতি দ্বিধাবিভক্ত।

কোন পোস্ট নেই !