ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bengali Journal

‘আ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ’ বইতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি সায়েম লিখেছিলেন / জিয়া আমার বিছানায় পা তুলে বুকের উপর অস্ত্র উঁচিয়ে বললো সাইন ইট

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি ক্ষমতার পুরোনো কৌশলেরই নতুন রূপ— দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আকস্মিক ‘অসুস্থতা ও পদত্যাগ’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নটিই এখন পুরো দেশের ক্ষমতার অলিন্দ ও সচেতন নাগরিক মহলে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি চলে গেছে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি হওয়া বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের বহুল আলোচিত ‘আ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ’ (At Bangabhaban: Last Phase) বইটির দিকে। সেই বইয়ে বিচারপতি সায়েম অত্যন্ত বিষাদময় ভাষায় বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে জিয়াউর রহমান তাঁর বিছানায় বুটসহ পা তুলে এক হাতে স্টিক ও অন্য হাতে রিভলভার উঁচিয়ে আট-দশজন সশস্ত্র সেনাবেষ্টিত অবস্থায় ‘অসুস্থতার কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে সই নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাত্র সাত দিনের মাথায় বিতর্কিত এই বইটি বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের পর সেই পুরোনো ইতিহাস ও রাষ্ট্রপতিদের ‘অসুস্থতা দেখিয়ে বিদায়’ করার কৌশলটি আবার নতুন করে জনসমক্ষে সোচ্চার ও রাষ্ট্রীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে বঙ্গভবন থেকে কোনো রাষ্ট্রপতির বিদায় নেওয়ার নেপথ্যে ‘শারীরিক অসুস্থতা’র অজুহাতটি যে সবসময় কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয় থাকে না, বরং তার পেছনে থাকে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ— তা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে। বিচারপতি সায়েমের সাথে ঘটে যাওয়া সেই ঐতিহাসিক ঘটনার মতো এবারও রাষ্ট্র প্রধানের পরিবর্তন এবং পদত্যাগের ক্ষেত্রে ‘অসুস্থতা’র একই ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার হওয়ায় সচেতন মহলে তীব্র খটকা ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঐতিহাসিক নথিপত্র এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া বইয়ের সেই রক্তহিম করা অনুচ্ছেদগুলো আজ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনীতির আড্ডায় ফিরে আসায় তৎকালীন ও বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কারের মূল চরিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম মনস্তাত্ত্বিক বিতর্ক। সায়েমের সেই করুণ আত্মকাহিনীর সুর ধরেই সাধারণ জনগণ এবং ইতিহাসবিদরা বর্তমান ক্ষমতার পরিবর্তন ও বঙ্গভবনের অভ্যন্তরীণ নাটকীয়তাকে মেলাতে চেষ্টা করছেন। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ জাতীয়, ঐতিহাসিক ও অনুসন্ধানী উইং রাষ্ট্রপতির এই আকস্মিক পদত্যাগের সাংবিধানিক গতিপথ, সায়েমের ঐতিহাসিক বই ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রতিটি আপডেট অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীর অকপট স্বীকারোক্তি / “আমরা স্টুডেন্টরা বোকামি করে শেখ হাসিনাকে পাঠাইছি, এখন উনাকে ব্যাক চাই”

দেশের চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক অবক্ষয়ের মাঝেই এবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভেতর থেকে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক আত্মোপলব্ধির বক্তব্য সামনে এসেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠকে মুহূর্তের মধ্যে তোলপাড় করে তুলেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপ ও প্রকাশ্য আলোচনায় এক সাধারণ শিক্ষার্থী অত্যন্ত অনুশোচনা ও ক্ষোভের সাথে অকপটে স্বীকার করেছেন— “আমরা স্টুডেন্টরা বোকামি করে শেখ হাসিনাকে পাঠাইছি; এখন দেশের এই চরম অবস্থায় আমরা উনাকে আবারও স্বদেশে ব্যাক (ফিরিয়ে) চাই।” ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার পটপরিবর্তনের পর যখন ধারণা করা হচ্ছিল যে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বিগত সরকারের পুরোপুরি বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে খোদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুখ থেকে এমন সরাসরি ও লোহা-কাঁপানো স্বীকারোক্তি দেশের রাজনৈতিক বোদ্ধা ও নীতিনির্ধারকদের রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে। এই একটিমাত্র মন্তব্য যেন পুরো দেশের ছাত্রসমাজের ভেতরের অলিন্দে জমে থাকা চাপা ক্ষোভ ও মোহভঙ্গের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে সামনে এসেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে তৈরি হওয়া অস্থিরতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার অভাবই শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক মনস্তাত্ত্বিক ইউ-টার্নের প্রধান কারণ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অনুধাবন করছেন যে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প ছিল না, যা তাদের এই প্রকাশ্য ‘ব্যাক চাই’ স্লোগানের মাধ্যমে ফুটে উঠছে। এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য সামনে আসার পর দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা ও আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে যেমন নতুন করে আশার সঞ্চার ও রাজপথে ফেরার উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শিবির ও সমমনা দলগুলোর নীতিনির্ধারক মহলে এক অঘোষিত অস্বস্তি ও চরম মনস্তাত্ত্বিক উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ জাতীয়, ক্রাইম ও কৌশলগত রাজনৈতিক উইং সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই নতুন মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের গতিধারা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া এবং আগামী দিনের ছাত্র রাজনীতির নতুন মেরুকরণের প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

“আমরা স্টুডেন্টরা বোকামি করে শেখ হাসিনাকে পাঠাইছি, এখন উনাকে ব্যাক চাই”

৩০ পিস ইয়াবাসহ শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি গ্রেফতার

বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপির অন্যতম প্রধান অঙ্গ সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৃণমূল নেতৃত্বে মাদকের থাবা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হাতেনাতে গ্রেফতারের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। জামালপুর সদরের শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফয়সাল আহম্মেদকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মাদকসহ গ্রেফতারের এই লজ্জাজনক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি বজায় রাখতে কঠোর অ্যাকশনে গেছে জেলা ছাত্রদল। শনিবার (১৮ জুলাই) রাতেই জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকের সরাসরি নির্দেশনায় এবং দপ্তর সম্পাদক মীর সোহান আহমেদের সই করা এক জরুরি সাংগঠনিক চিঠির মাধ্যমে ফয়সাল আহম্মেদকে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য পদসহ ছাত্রদলের সমস্ত সাংগঠনিক স্তর থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সাথে, মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত এই নেতার সাথে ছাত্রদলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী যেন কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন, সেই ব্যাপারেও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে জেলা কমিটি। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল আহম্মেদ জামালপুর সদর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় মাঠপর্যায়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল সদর উপজেলার লক্ষীরচর ঘাট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখান থেকে শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফয়সাল আহম্মেদকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এই মাদক চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবির টিম নান্দিনা বাদাম বাড়ি এলাকার মুক্তারের ছেলে নাজমুল নামের আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম গণমাধ্যমকে জানান, ইয়াবাসহ আটককৃত ফয়সাল ও নাজমুলের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ এক নেতার এমন মাদককাণ্ডে গ্রেফতার ও দ্রুততম সময়ে বহিষ্কারের ঘটনা পুরো জামালপুর জেলা জুড়ে তীব্র তোলপাড় ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ জাতীয়, ক্রাইম ও মাদক বিরোধী অনুসন্ধানী উইং জামালপুরের এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের পরিচয়, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করার পর আইনি পদক্ষেপ এবং মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের আসন্ন ক্র্যাশ প্রোগ্রামের প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

৩০ পিস ইয়াবাসহ শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি গ্রেফতার
মেয়াদ শেষের আট মাস আগেই বিএনপির এমপির স্ত্রীকে সভাপতি করে মহিলা কলেজের কমিটি পরিবর্তন

মেয়াদ শেষের আট মাস আগেই বিএনপির এমপির স্ত্রীকে সভাপতি করে মহিলা কলেজের কমিটি পরিবর্তন

সাভারের ঐতিহ্যবাহী মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ সভাপতি পদে পরিবর্তন এনেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কোনো ধরনের অভিযোগ বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সাবেক সভাপতিকে সরিয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ড. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকা রিতাকে নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মেয়াদের মাঝপথে এই রদবদলকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়। প্রথম চিঠিতে দেখা যায় গত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কলেজ পরিদর্শক মো. আবদুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে দুই বছর মেয়াদের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে সভাপতি এবং অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলমকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।পরবর্তী দ্বিতীয় চিঠিতে দেখা যায় আগের চিঠির দুই বছরের মেয়াদের প্রায় আট মাস বাকি থাকতেই গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত অপর এক চিঠিতে হঠাৎ পরিবর্তন আনা হয়। চিঠিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ সংবিধির ৭ নং ধারার ক্ষমতাবলে সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন খানের স্থলে এমপি-পত্নী সাবিনা সিদ্দিকা ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে শিরিন আফরোজকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরিবর্তিত এই কমিটির মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী ২৩ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত।দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়।দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়।হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বেঙ্গলি জার্নালেকে জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ম মেনে তাদের দুই বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছিল। সফলভাবে এডহক কমিটির দায়িত্ব পালন শেষে তারা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছিলেন। কিন্তু এভাবে না জানিয়ে হঠাৎ মেয়াদ শেষ না হতেই নতুন কমিটি এটি কি ধরনের বিষয়?ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, মেয়াদের আট মাস বাকি থাকতেই কোনো প্রকার অবহিতকরণ বা নোটিশ ছাড়া সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নতুন সভাপতি মনোনয়ন আনা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া মেয়াদের মাঝপথে এভাবে সরানো হবে তা ভাবতেও পারিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে মধ্যবর্তী সময়ে বসানোর এই প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা ছাড়া মেয়াদের আগেই এভাবে কমিটি বদলে ফেলার কারণে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে মনে করি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি না থাকাই ভালো।কলেজের অধ্যক্ষ এস এম এ জামানকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কলেজের অফিস সহকারী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবর্তন সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন এবং বর্তমানে নতুন সভাপতি দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে সভাপতি মনোনয়নের বিষয়টি সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা হয় বলে এর পেছনের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।এদিকে নবনিযুক্ত সভাপতি সাবিনা সিদ্দিকা রিতা জানান, প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও নারী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ড. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এলাকায় নারী শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজ। দীর্ঘদিনের সুপরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে মেয়াদের মাঝপথে হঠাৎ এমন রদবদলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে

“শেখ মুজিবের পথ ধরো, বেলুচিস্তান স্বাধীন করো!”— উত্তাল বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা;

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঝড় তুলে অবশেষে চরম রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি মুক্তিসংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে পাকিস্তান থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে বেলুচিস্তানের মুক্তিকামী সাধারণ জনগণ ও তাদের সশস্ত্র বিপ্লবী নেতৃত্ব। দশকের পর দশক ধরে চলা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম অর্থনৈতিক শোষণ, নির্মম সামরিক নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বেলুচিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান শহরগুলোতে এখন তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। চলমান এই ঐতিহাসিক স্বাধীনতা আন্দোলনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, বেলুচ নেতাদের বিভিন্ন বিশাল সভা-সমাবেশ ও উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে লাখো মানুষ এখন বজ্রকণ্ঠে স্লোগান দিচ্ছেন— “শেখ মুজিবের পথ ধরো, বেলুচিস্তান স্বাধীন করো।” ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব এবং বাঙালি জাতির রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে বাংলাদেশ স্বাধীন করার সেই অমোঘ ইতিহাস আজ বেলুচ জনগণের মুক্তির প্রধানতম রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দর্শনে পরিণত হয়েছে, যা পাকিস্তানের সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ভূ-রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, বেলুচিস্তানের এই প্রকাশ্য স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জনসমাবেশে বাংলাদেশের ইতিহাসকে স্মরণ করা বিশ্ব মানচিত্রে পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক চরম সংকট ও অস্তিত্বের প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। বেলুচ লিবারেশন আর্মি ও প্রগতিশীল বেলুচ রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যেভাবে বাঙালি নারীদের ওপর ও নিরীহ জনগণের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় বেলুচিস্তানেও হাজার হাজার তরুণের ওপর জোরপূর্বক গুম ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এই চরম অত্যাচার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে তারা ১৯৭১ সালের বীর বাঙালিদের সেই ঐতিহাসিক সশস্ত্র প্রতিরোধকেই আদর্শ হিসেবে বেছে নিয়েছে। পুরো বেলুচিস্তান জুড়ে পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে দেওয়ার এবং সমান্তরাল স্বাধীন সরকার গঠনের এই প্রকাশ্য ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পাড়াগুলোতে তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘসহ পরাশক্তিগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ আন্তর্জাতিক, কৌশলগত ভূ-রাজনীতি ও ক্রাইম উইং বেলুচিস্তানের এই মেগা স্বাধীনতা ঘোষণার পর ইসলামাবাদের সামরিক কোয়ার্টারের অভ্যন্তরীণ পাল্টা সামরিক অ্যাকশন, ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকার সামরিক গতিবিধি এবং জাতিসংঘের আসন্ন বিশেষ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

মেয়াদ শেষের আট মাস আগেই বিএনপির এমপির স্ত্রীকে সভাপতি করে মহিলা কলেজের কমিটি পরিবর্তন

সাভারের ঐতিহ্যবাহী মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ সভাপতি পদে পরিবর্তন এনেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কোনো ধরনের অভিযোগ বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সাবেক সভাপতিকে সরিয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ড. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকা রিতাকে নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মেয়াদের মাঝপথে এই রদবদলকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়। প্রথম চিঠিতে দেখা যায় গত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কলেজ পরিদর্শক মো. আবদুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে দুই বছর মেয়াদের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে সভাপতি এবং অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলমকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।পরবর্তী দ্বিতীয় চিঠিতে দেখা যায় আগের চিঠির দুই বছরের মেয়াদের প্রায় আট মাস বাকি থাকতেই গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত অপর এক চিঠিতে হঠাৎ পরিবর্তন আনা হয়। চিঠিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ সংবিধির ৭ নং ধারার ক্ষমতাবলে সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন খানের স্থলে এমপি-পত্নী সাবিনা সিদ্দিকা ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে শিরিন আফরোজকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরিবর্তিত এই কমিটির মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী ২৩ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত।দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়।দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়।হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বেঙ্গলি জার্নালেকে জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ম মেনে তাদের দুই বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছিল। সফলভাবে এডহক কমিটির দায়িত্ব পালন শেষে তারা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছিলেন। কিন্তু এভাবে না জানিয়ে হঠাৎ মেয়াদ শেষ না হতেই নতুন কমিটি এটি কি ধরনের বিষয়?ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, মেয়াদের আট মাস বাকি থাকতেই কোনো প্রকার অবহিতকরণ বা নোটিশ ছাড়া সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নতুন সভাপতি মনোনয়ন আনা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া মেয়াদের মাঝপথে এভাবে সরানো হবে তা ভাবতেও পারিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে মধ্যবর্তী সময়ে বসানোর এই প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা ছাড়া মেয়াদের আগেই এভাবে কমিটি বদলে ফেলার কারণে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে মনে করি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি না থাকাই ভালো।কলেজের অধ্যক্ষ এস এম এ জামানকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কলেজের অফিস সহকারী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবর্তন সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন এবং বর্তমানে নতুন সভাপতি দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে সভাপতি মনোনয়নের বিষয়টি সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা হয় বলে এর পেছনের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।এদিকে নবনিযুক্ত সভাপতি সাবিনা সিদ্দিকা রিতা জানান, প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও নারী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ড. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এলাকায় নারী শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজ। দীর্ঘদিনের সুপরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে মেয়াদের মাঝপথে হঠাৎ এমন রদবদলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

পবিত্র জুম্মার মহাসম্মান ও বরকত: দোয়া কবুলের এই পুণ্যময় দিনে মুমিনের করণীয় ও আমল

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে সেরা, শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় দিন হলো আজকের এই পবিত্র ও ঐতিহাসিক শুক্রবার, যা ইসলামের ইতিহাসে ‘ইয়াওমুল জুমা’ বা জুম্মার দিন হিসেবে বিশেষভাবে সুপরিচিত। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিল অনুযায়ী, জুম্মার দিনকে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর ওপর এক বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমান্বিত মর্যাদা দান করা হয়েছে, এমনকি ইসলামে একে ‘নকদ বা গরিবের হজের দিন’ এবং সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ঈদ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলামের সুমহান আদর্শ অনুযায়ী, এই বরকতময় জুম্মার দিনের অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, এই দিনে এমন একটি মোবারক সময় লুকিয়ে রয়েছে যখন বান্দা আল্লাহর দরবারে হাত তুলে খাঁটি মনে যা-ই প্রার্থনা করে, দয়াময় আল্লাহ তাআলা তাঁর সেই নেক দোয়া কখনোই ফিরিয়ে দেন না, বরং তা নিশ্চিতভাবে কবুল করে নেন। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, জুম্মার দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই সময় নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে তা দান করেন। ইসলামি চিন্তাবিদ ও বুজুর্গানে দ্বীনের মতে, এই কাঙ্ক্ষিত ও মহিমান্বিত সময়টি হলো মূলত জুম্মার দিন আসরের নামাজের পর থেকে শুরু করে পবিত্র মাগরিবের আজানের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত; তাই এই অন্তিম সময়ে মহান আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার, দুরুদ শরিফ ও রোনাজারির মাধ্যমে অতিবাহিত করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য এক পরম সৌভাগ্যের বিষয়।পবিত্র ও পুণ্যময় এই জুম্মার দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমল রয়েছে, যা পালনের মাধ্যমে বান্দা অসীম সওয়াব ও জীবনের গুনাহ খাতার মার্জনা লাভ করতে পারে। জুম্মার দিনের প্রধান সুন্নতি আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে—সকালে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন তথা গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বা নতুন পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা এবং জুম্মার আজানের সাথে সাথে সমস্ত দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও কেনাবেচা বন্ধ করে অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে আগেভাগে মসজিদের প্রথম কাতারে গিয়ে স্থান নেওয়া। এছাড়া, জুম্মার দিনে বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পাঠ করা এবং পবিত্র কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও তাৎপর্যপূর্ণ সূরা ‘সূরা আল-কাহাফ’ তিলাওয়াত করার ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে; কারণ যে ব্যক্তি জুম্মার দিনে এই সূরা তিলাওয়াত করবে, মহান আল্লাহ তাআলা তার জন্য এক জুম্মা থেকে পরবর্তী জুম্মা পর্যন্ত বিশেষ নূরের আলো চমকিয়ে দেন এবং তাকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে সম্পূর্ণ হেফাজতে রাখেন। আজকের এই বরকতময় ও পবিত্র শুক্রবারে আসুন আমরা আমাদের পরিবার, সমাজ, দেশ ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করি। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ ইসলামি ও সম্পাদকীয় উইং পবিত্র জুম্মার দিনের এই অপরিসীম গুরুত্ব, দোয়া কবুলের বিশেষ আমলসমূহ এবং ধর্মপ্রাণ পাঠকদের আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য নিত্যনতুন বিশুদ্ধ তথ্য ও নির্ভরযোগ্য ইসলামি দিকনির্দেশনার প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করছে।

অল্প উপকরণে ঘরেই ফেসওয়াশ বানাবেন যেভাবে

অল্প উপকরণে ঘরেই ফেসওয়াশ বানাবেন যেভাবে

বাজার থেকে কেনা ফেসওয়াশে সালফেট, প্যারাবেন ও কৃত্রিম সুগন্ধি থাকে। এগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সালফেট, প্যারাবেনযুক্ত ফেসওয়াশ ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে মুখ শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের সুরক্ষায় বাজারের কেনা ফেসওয়াশের বদলে বাসায়ই বানিয়ে নিন পছন্দের উপকরণের ফেসওয়াশ। তবে বানাতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে। ভারতীয় গণমাধ্যম 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র একটি প্রতিবেদনে ঘরেই ফেসওয়াশ বানানোর উপায় সম্পর্কে বলে হয়েছে। যেমন  তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম বা তেল ক্ষরণের কারণে ব্রণ ও র্যাকশের সমস্যা বেশি হয়। তাই এমন ত্বকের জন্য বেসন ও হলুদের ফেসওয়াশ ভালো। ২ চামচ বেসন, আধ চা-চামচ নিমপাতা গুঁড়া বা পুদিনাপাতা বাটা, সামান্য হলুদগুঁড়া এবং প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে নিতে হবে। মুখে হালকা হাতে মালিশ করে ৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানির সাহায্যে ধুয়ে ফেলতে হবে। বেসন ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণর সমস্যা দূর করে। শুষ্ক ত্বকের জন্য শুষ্ক ত্বক ধোয়ার পরে টানটান হয়ে যায় এবং চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এমন উপাদান প্রয়োজন, যা ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখবে। ১ চামচ মিহি ওটসের গুঁড়া, ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এটি মুখে ও গলায় বৃত্তাকারে মালিশ করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ওটস প্রাকৃতিক স্ক্রাবের মতো কাজ করবে এবং দুধ-মধু ত্বক নরম করবে। সংবেদনশীল বা স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য এমন উপাদান প্রয়োজন যা মাখলে জ্বালা বা চুলকানি হবে না। অনেকের ত্বকেই অ্যালার্জির সমস্যা হয়। তাই সে ক্ষেত্রে কেনা ফেসওয়াশ একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। ২ চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল, ২ চামচ ঠান্ডা করা গ্রিন টি এবং ২ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। গ্রিন টি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে তা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। এটি মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

সানি লিওন নাকি মন্দারমণিতে।— এমন খবরে নেটিজেনদের মাঝে শোরগোল। একবার পছন্দের অভিনেত্রীর দর্শন কি পেতে পারেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী একের পর এক পোস্ট দিতে থাকেন। দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে মন্দারমণির জনপ্রিয়তা। ভাবুন তো, একবার সেখানে গিয়েই যদি দেখা মেলে আপনার পছন্দের অভিনেত্রী সানি লিওনের, তাহলে কেমন হয়? সামাজিক মাধ্যমে সানি লিওনের করা সেই মন্তব্য থেকে বাড়ছে সবার আগ্রহ। পরিবার হোক কিংবা বন্ধু অথবা কাছের মানুষ— একান্তে সময় কাটাতে মন্দারমণির কোনো বিকল্প নেই৷ সানি লিওনের পরের সিনেমার শুটিং হওয়ার কথা সেই মন্দারমণিতেই। গাড়ি নিয়ে ঘণ্টা চারেকের সফরে বেরিয়ে পড়লেই পৌঁছে যাওয়া যায় সমুদ্রতীরে। নির্জন সৈকতে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনার মতো শান্তি যেন অন্য কোথাও মেলে না। মন্দারমণি সফর নিয়ে অভিনেত্রী সানি লিওন নিজেই জল্পনা উসকে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার একটি ছবি ঘিরে শোরগোল। কচি কলাপাতা রঙের ব্রালেটের ওপর সবুজ রঙের প্রিন্টেড শ্রাগ আর কো-অর্ড হট প্যান্ট। চোখে সানগ্লাস আর উঁচু করে বাঁধা বেণি। সমুদ্রের ধারে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন সানি লিওন। অন্য একটি ছবিতে লিখেছেন— ‘মন্দারমণি মুড’। তবে কি সানি লিওন তার পরবর্তী সিনেমার শুটিয়ে আসবেন মন্দারমণিতে? এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে তিনি যে সমুদ্র পছন্দ করেন, তা তার ভক্ত-অনুরাগীরা জানেন। একাধিকবার তাকে সমুদ্রতটে পোজ দিয়ে ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে। কখনো রঙিন বিকিনিতে, আবার কখনো স্নানপোশাকে অভিনেত্রী যে সমুদ্র-প্রিয়, তা বুঝিয়েছেন বারবার। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার রৌদ্রস্নানের ছবিও ভাইরাল হয়েছিল অনেকবার। ভক্ত-অনুরাগীরা নানা মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যম। কেউ কেউ আবার মজা করে লিখেছেন— সানি লিওনই নাকি পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ হতে চলেছেন।

মেয়াদ শেষের আট মাস আগেই বিএনপির এমপির স্ত্রীকে সভাপতি করে মহিলা কলেজের কমিটি পরিবর্তন

মেয়াদ শেষের আট মাস আগেই বিএনপির এমপির স্ত্রীকে সভাপতি করে মহিলা কলেজের কমিটি পরিবর্তন

সাভারের ঐতিহ্যবাহী মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ সভাপতি পদে পরিবর্তন এনেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কোনো ধরনের অভিযোগ বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সাবেক সভাপতিকে সরিয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ড. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকা রিতাকে নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মেয়াদের মাঝপথে এই রদবদলকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়। প্রথম চিঠিতে দেখা যায় গত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কলেজ পরিদর্শক মো. আবদুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে দুই বছর মেয়াদের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে সভাপতি এবং অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলমকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।পরবর্তী দ্বিতীয় চিঠিতে দেখা যায় আগের চিঠির দুই বছরের মেয়াদের প্রায় আট মাস বাকি থাকতেই গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত অপর এক চিঠিতে হঠাৎ পরিবর্তন আনা হয়। চিঠিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ সংবিধির ৭ নং ধারার ক্ষমতাবলে সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন খানের স্থলে এমপি-পত্নী সাবিনা সিদ্দিকা ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে শিরিন আফরোজকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরিবর্তিত এই কমিটির মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী ২৩ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত।দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়।দুটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে পরিবর্তন আনা হয়।হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বেঙ্গলি জার্নালেকে জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ম মেনে তাদের দুই বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছিল। সফলভাবে এডহক কমিটির দায়িত্ব পালন শেষে তারা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছিলেন। কিন্তু এভাবে না জানিয়ে হঠাৎ মেয়াদ শেষ না হতেই নতুন কমিটি এটি কি ধরনের বিষয়?ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, মেয়াদের আট মাস বাকি থাকতেই কোনো প্রকার অবহিতকরণ বা নোটিশ ছাড়া সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নতুন সভাপতি মনোনয়ন আনা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া মেয়াদের মাঝপথে এভাবে সরানো হবে তা ভাবতেও পারিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে মধ্যবর্তী সময়ে বসানোর এই প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা ছাড়া মেয়াদের আগেই এভাবে কমিটি বদলে ফেলার কারণে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে মনে করি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি না থাকাই ভালো।কলেজের অধ্যক্ষ এস এম এ জামানকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কলেজের অফিস সহকারী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবর্তন সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন এবং বর্তমানে নতুন সভাপতি দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে সভাপতি মনোনয়নের বিষয়টি সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা হয় বলে এর পেছনের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।এদিকে নবনিযুক্ত সভাপতি সাবিনা সিদ্দিকা রিতা জানান, প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও নারী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ড. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এলাকায় নারী শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজ। দীর্ঘদিনের সুপরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে মেয়াদের মাঝপথে হঠাৎ এমন রদবদলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে

জিয়া আমার বিছানায় পা তুলে বুকের উপর অস্ত্র উঁচিয়ে বললো সাইন ইট

‘আ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ’ বইতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি সায়েম লিখেছিলেন / জিয়া আমার বিছানায় পা তুলে বুকের উপর অস্ত্র উঁচিয়ে বললো সাইন ইট

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি ক্ষমতার পুরোনো কৌশলেরই নতুন রূপ— দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আকস্মিক ‘অসুস্থতা ও পদত্যাগ’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নটিই এখন পুরো দেশের ক্ষমতার অলিন্দ ও সচেতন নাগরিক মহলে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি চলে গেছে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি হওয়া বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের বহুল আলোচিত ‘আ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ’ (At Bangabhaban: Last Phase) বইটির দিকে। সেই বইয়ে বিচারপতি সায়েম অত্যন্ত বিষাদময় ভাষায় বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে জিয়াউর রহমান তাঁর বিছানায় বুটসহ পা তুলে এক হাতে স্টিক ও অন্য হাতে রিভলভার উঁচিয়ে আট-দশজন সশস্ত্র সেনাবেষ্টিত অবস্থায় ‘অসুস্থতার কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে সই নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাত্র সাত দিনের মাথায় বিতর্কিত এই বইটি বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের পর সেই পুরোনো ইতিহাস ও রাষ্ট্রপতিদের ‘অসুস্থতা দেখিয়ে বিদায়’ করার কৌশলটি আবার নতুন করে জনসমক্ষে সোচ্চার ও রাষ্ট্রীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে বঙ্গভবন থেকে কোনো রাষ্ট্রপতির বিদায় নেওয়ার নেপথ্যে ‘শারীরিক অসুস্থতা’র অজুহাতটি যে সবসময় কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয় থাকে না, বরং তার পেছনে থাকে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ— তা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে। বিচারপতি সায়েমের সাথে ঘটে যাওয়া সেই ঐতিহাসিক ঘটনার মতো এবারও রাষ্ট্র প্রধানের পরিবর্তন এবং পদত্যাগের ক্ষেত্রে ‘অসুস্থতা’র একই ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার হওয়ায় সচেতন মহলে তীব্র খটকা ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঐতিহাসিক নথিপত্র এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া বইয়ের সেই রক্তহিম করা অনুচ্ছেদগুলো আজ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনীতির আড্ডায় ফিরে আসায় তৎকালীন ও বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কারের মূল চরিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম মনস্তাত্ত্বিক বিতর্ক। সায়েমের সেই করুণ আত্মকাহিনীর সুর ধরেই সাধারণ জনগণ এবং ইতিহাসবিদরা বর্তমান ক্ষমতার পরিবর্তন ও বঙ্গভবনের অভ্যন্তরীণ নাটকীয়তাকে মেলাতে চেষ্টা করছেন। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ জাতীয়, ঐতিহাসিক ও অনুসন্ধানী উইং রাষ্ট্রপতির এই আকস্মিক পদত্যাগের সাংবিধানিক গতিপথ, সায়েমের ঐতিহাসিক বই ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রতিটি আপডেট অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করছে।

‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’

‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’

পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের সচিবালয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি একটি অনলাইন পোর্টালকে বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’ পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।’ এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে কথা বলবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন কেউ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদই রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

নড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

নড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

নড়াইলে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনজিওকর্মী আটক হয়েছেন। চট্টগ্রাম ও মাগুরায় ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নড়াইলে রবিউল সিকদার রবি (৩০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, শিশুটিকে তার বাবা বাড়ির পাশের দোকান থেকে চানাচুর কিনে দেন। সে চানাচুর নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। দীর্ঘ সময় পরও বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে রবিউল সিকদারের ঘরের মধ্যে কাঁথা জড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় রবিউল বাড়িতে ছিলেন না। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাকিবুল হাসান বলেন, দোষীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।  চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনজিওকর্মী আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল সোমবার রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে এনজিওকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রাকিবুল ইসলাম পিরোজপুরের শাড়িকতলা ইউনিয়নের কালিটাটি বটতলা গ্রামের দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, ঋণের কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে এনজিওকর্মী রাকিবুল ইসলাম শিশুটির বাড়িতে যান। এ সময় শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। আশপাশের মানুষ টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। ভোলাহাট থানার ওসি আব্দুল বারেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চট্টগ্রামে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড বিড়ালছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মো. রুবেল। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে শ্বাসরোধে হত্যা শেষে লাশ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মাগুরায় ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার ঘটনায় একজনের মৃত্যুদণ্ড মাগুরায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যার ঘটনায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার মাগুরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসান শেখ (২৮) শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার কুমার নদের পারে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ওই দিন বিকেলে কুমার নদের পারে রসুনক্ষেত দেখতে গেলে হাসান শেখ তাকে অনুসরণ করেন এবং একটি বাঁশবাগানের ভেতরে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি বাধা দিলে হাসান তাকে প্রথমে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করেন এবং পরে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করেন। পিপি আরও জানান, ভুক্তভোগীর শরীর থেকে একটি ছোট্ট লোম পাওয়া গিয়েছিল যা ডিএনএ পরীক্ষায় আসামির বলে প্রমাণিত হয়। এ ছাড়া উদ্ধার করা ব্লেডে একজন নারীর রক্ত পাওয়া যায়, যা দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে যে, এই ব্লেড দিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। পিপি জানান, মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ সব সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত হাসানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। আদালত পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামি হাসান শেখ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আদালতে তাঁর উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

“শেখ মুজিবের পথ ধরো, বেলুচিস্তান স্বাধীন করো!”— উত্তাল বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা;

“শেখ মুজিবের পথ ধরো, বেলুচিস্তান স্বাধীন করো!”— উত্তাল বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা;

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঝড় তুলে অবশেষে চরম রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি মুক্তিসংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে পাকিস্তান থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে বেলুচিস্তানের মুক্তিকামী সাধারণ জনগণ ও তাদের সশস্ত্র বিপ্লবী নেতৃত্ব। দশকের পর দশক ধরে চলা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম অর্থনৈতিক শোষণ, নির্মম সামরিক নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বেলুচিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান শহরগুলোতে এখন তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। চলমান এই ঐতিহাসিক স্বাধীনতা আন্দোলনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, বেলুচ নেতাদের বিভিন্ন বিশাল সভা-সমাবেশ ও উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে লাখো মানুষ এখন বজ্রকণ্ঠে স্লোগান দিচ্ছেন— “শেখ মুজিবের পথ ধরো, বেলুচিস্তান স্বাধীন করো।” ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব এবং বাঙালি জাতির রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে বাংলাদেশ স্বাধীন করার সেই অমোঘ ইতিহাস আজ বেলুচ জনগণের মুক্তির প্রধানতম রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দর্শনে পরিণত হয়েছে, যা পাকিস্তানের সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ভূ-রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, বেলুচিস্তানের এই প্রকাশ্য স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জনসমাবেশে বাংলাদেশের ইতিহাসকে স্মরণ করা বিশ্ব মানচিত্রে পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক চরম সংকট ও অস্তিত্বের প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। বেলুচ লিবারেশন আর্মি ও প্রগতিশীল বেলুচ রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যেভাবে বাঙালি নারীদের ওপর ও নিরীহ জনগণের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় বেলুচিস্তানেও হাজার হাজার তরুণের ওপর জোরপূর্বক গুম ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এই চরম অত্যাচার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে তারা ১৯৭১ সালের বীর বাঙালিদের সেই ঐতিহাসিক সশস্ত্র প্রতিরোধকেই আদর্শ হিসেবে বেছে নিয়েছে। পুরো বেলুচিস্তান জুড়ে পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে দেওয়ার এবং সমান্তরাল স্বাধীন সরকার গঠনের এই প্রকাশ্য ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পাড়াগুলোতে তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘসহ পরাশক্তিগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ আন্তর্জাতিক, কৌশলগত ভূ-রাজনীতি ও ক্রাইম উইং বেলুচিস্তানের এই মেগা স্বাধীনতা ঘোষণার পর ইসলামাবাদের সামরিক কোয়ার্টারের অভ্যন্তরীণ পাল্টা সামরিক অ্যাকশন, ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকার সামরিক গতিবিধি এবং জাতিসংঘের আসন্ন বিশেষ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

বাংলার পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ সানি লিওন

সানি লিওন নাকি মন্দারমণিতে।— এমন খবরে নেটিজেনদের মাঝে শোরগোল। একবার পছন্দের অভিনেত্রীর দর্শন কি পেতে পারেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী একের পর এক পোস্ট দিতে থাকেন। দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে মন্দারমণির জনপ্রিয়তা। ভাবুন তো, একবার সেখানে গিয়েই যদি দেখা মেলে আপনার পছন্দের অভিনেত্রী সানি লিওনের, তাহলে কেমন হয়? সামাজিক মাধ্যমে সানি লিওনের করা সেই মন্তব্য থেকে বাড়ছে সবার আগ্রহ। পরিবার হোক কিংবা বন্ধু অথবা কাছের মানুষ— একান্তে সময় কাটাতে মন্দারমণির কোনো বিকল্প নেই৷ সানি লিওনের পরের সিনেমার শুটিং হওয়ার কথা সেই মন্দারমণিতেই। গাড়ি নিয়ে ঘণ্টা চারেকের সফরে বেরিয়ে পড়লেই পৌঁছে যাওয়া যায় সমুদ্রতীরে। নির্জন সৈকতে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনার মতো শান্তি যেন অন্য কোথাও মেলে না। মন্দারমণি সফর নিয়ে অভিনেত্রী সানি লিওন নিজেই জল্পনা উসকে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার একটি ছবি ঘিরে শোরগোল। কচি কলাপাতা রঙের ব্রালেটের ওপর সবুজ রঙের প্রিন্টেড শ্রাগ আর কো-অর্ড হট প্যান্ট। চোখে সানগ্লাস আর উঁচু করে বাঁধা বেণি। সমুদ্রের ধারে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন সানি লিওন। অন্য একটি ছবিতে লিখেছেন— ‘মন্দারমণি মুড’। তবে কি সানি লিওন তার পরবর্তী সিনেমার শুটিয়ে আসবেন মন্দারমণিতে? এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে তিনি যে সমুদ্র পছন্দ করেন, তা তার ভক্ত-অনুরাগীরা জানেন। একাধিকবার তাকে সমুদ্রতটে পোজ দিয়ে ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে। কখনো রঙিন বিকিনিতে, আবার কখনো স্নানপোশাকে অভিনেত্রী যে সমুদ্র-প্রিয়, তা বুঝিয়েছেন বারবার। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তার রৌদ্রস্নানের ছবিও ভাইরাল হয়েছিল অনেকবার। ভক্ত-অনুরাগীরা নানা মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যম। কেউ কেউ আবার মজা করে লিখেছেন— সানি লিওনই নাকি পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনশিল্পের নতুন মুখ হতে চলেছেন।

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং লাইভস্ট্রিমিং সেবায়ও নতুন বিধিনিষেধ আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর এই পদক্ষেপকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, নতুন এই পরিবর্তন শিশুদের ‘তাদের শৈশব ফিরিয়ে দেবে।’ তাঁর ভাষায়, পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞাই এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এটি আমাদের শিশুদের আরও নিরাপদ করবে, আরও সুখী করবে, তাদের আরও সময় দেবে, আরও নিরাপত্তা দেবে, বড় হয়ে ওঠার আরও স্বাধীনতা দেবে এবং আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে।’ সরকার জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করবে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছিল। ব্রিটেনের নতুন পরিকল্পনার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচারের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে সরকার। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য লাইভস্ট্রিমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করা হবে। স্টারমার বলেন, ‘বাস্তব জীবনে আপনি কি আপনার সন্তানকে এমন কোনো অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে দেবেন, যার সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না? না। তাই আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। বছরের শেষ নাগাদ প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করা হবে এবং আগামী বসন্ত নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে ব্রিটেন ক্রমেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগে বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু, অ্যালগরিদম পরিবর্তন এবং শিশুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শিশুদের দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্টারমার জানান, তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও স্টারমার বলেন, জনগণ যথার্থভাবেই সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে দেশটি টিকটক, অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ সীমিত করে। এরপর বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিবেচনা শুরু করেছে। নতুন বিধিনিষেধ তৈরির আগে ব্রিটিশ সরকার শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ করেছে। আলোচনায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কারফিউ, অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা এবং আসক্তি তৈরিকারী ডিজাইন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও ছিল। এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মতামত জমা পড়ে। অংশ নেওয়া অভিভাবকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি এর সুফলের চেয়ে বেশি। আর ৯০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে সবাই একমত নন। কিছু মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক বলছেন, এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। অন্যদিকে লন্ডনের একদল স্কুলশিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে তাদের অনুভূতি দ্বিধাবিভক্ত।

কোন পোস্ট নেই !