ঢাকা    বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
Bengali Journal

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং লাইভস্ট্রিমিং সেবায়ও নতুন বিধিনিষেধ আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর এই পদক্ষেপকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, নতুন এই পরিবর্তন শিশুদের ‘তাদের শৈশব ফিরিয়ে দেবে।’ তাঁর ভাষায়, পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞাই এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এটি আমাদের শিশুদের আরও নিরাপদ করবে, আরও সুখী করবে, তাদের আরও সময় দেবে, আরও নিরাপত্তা দেবে, বড় হয়ে ওঠার আরও স্বাধীনতা দেবে এবং আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে।’

সরকার জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করবে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছিল। ব্রিটেনের নতুন পরিকল্পনার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচারের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে সরকার। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য লাইভস্ট্রিমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করা হবে। স্টারমার বলেন, ‘বাস্তব জীবনে আপনি কি আপনার সন্তানকে এমন কোনো অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে দেবেন, যার সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না? না। তাই আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। বছরের শেষ নাগাদ প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করা হবে এবং আগামী বসন্ত নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে ব্রিটেন ক্রমেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগে বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু, অ্যালগরিদম পরিবর্তন এবং শিশুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে শিশুদের দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্টারমার জানান, তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও স্টারমার বলেন, জনগণ যথার্থভাবেই সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে দেশটি টিকটক, অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ সীমিত করে। এরপর বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিবেচনা শুরু করেছে।

নতুন বিধিনিষেধ তৈরির আগে ব্রিটিশ সরকার শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ করেছে। আলোচনায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কারফিউ, অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা এবং আসক্তি তৈরিকারী ডিজাইন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও ছিল। এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মতামত জমা পড়ে। অংশ নেওয়া অভিভাবকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি এর সুফলের চেয়ে বেশি। আর ৯০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর নির্ধারণের পক্ষে মত দেন।

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে সবাই একমত নন। কিছু মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক বলছেন, এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। অন্যদিকে লন্ডনের একদল স্কুলশিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে তাদের অনুভূতি দ্বিধাবিভক্ত।

বিষয় : টিকটক অস্ট্রেলিয়া তথ্যপ্রযুক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব ইনস্টাগ্রাম ব্রিটেন শিশু কিয়ার স্টারমার

আপনার মতামত লিখুন

Bengali Journal

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং লাইভস্ট্রিমিং সেবায়ও নতুন বিধিনিষেধ আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর এই পদক্ষেপকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, নতুন এই পরিবর্তন শিশুদের ‘তাদের শৈশব ফিরিয়ে দেবে।’ তাঁর ভাষায়, পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞাই এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এটি আমাদের শিশুদের আরও নিরাপদ করবে, আরও সুখী করবে, তাদের আরও সময় দেবে, আরও নিরাপত্তা দেবে, বড় হয়ে ওঠার আরও স্বাধীনতা দেবে এবং আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে।’

সরকার জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করবে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছিল। ব্রিটেনের নতুন পরিকল্পনার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচারের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে সরকার। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য লাইভস্ট্রিমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করা হবে। স্টারমার বলেন, ‘বাস্তব জীবনে আপনি কি আপনার সন্তানকে এমন কোনো অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে দেবেন, যার সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না? না। তাই আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। বছরের শেষ নাগাদ প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করা হবে এবং আগামী বসন্ত নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে ব্রিটেন ক্রমেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগে বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু, অ্যালগরিদম পরিবর্তন এবং শিশুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে শিশুদের দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্টারমার জানান, তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও স্টারমার বলেন, জনগণ যথার্থভাবেই সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে দেশটি টিকটক, অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ সীমিত করে। এরপর বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিবেচনা শুরু করেছে।

নতুন বিধিনিষেধ তৈরির আগে ব্রিটিশ সরকার শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ করেছে। আলোচনায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কারফিউ, অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা এবং আসক্তি তৈরিকারী ডিজাইন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও ছিল। এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মতামত জমা পড়ে। অংশ নেওয়া অভিভাবকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি এর সুফলের চেয়ে বেশি। আর ৯০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর নির্ধারণের পক্ষে মত দেন।

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে সবাই একমত নন। কিছু মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক বলছেন, এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। অন্যদিকে লন্ডনের একদল স্কুলশিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে তাদের অনুভূতি দ্বিধাবিভক্ত।


Bengali Journal

প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
Copyright © 2026 Bengali Journal
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন
0:00 0:00
1.0x