ঢাকা    শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
Bengali Journal

জাতীয়

জামিন পেয়েও মিলল না মুক্তি, ছেলের শোকে বাবার মৃত্যু; জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলও মুক্তি পেলেন না ছাত্রলীগ নেতা সজিবুর!

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
জামিন পেয়েও মিলল না মুক্তি, ছেলের শোকে বাবার মৃত্যু; জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলও মুক্তি পেলেন না ছাত্রলীগ নেতা সজিবুর!

রাজনৈতিক বৈরিতা আর আইনি বেড়াজালের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক চরম মানবিক বিপর্যয় ও বেদনাবিধুর ট্র্যাজেডির চিত্র সামনে এসেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কারাবন্দি সজিবুর রহমানকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ ২১ মাস কারাবাস শেষে সম্প্রতি একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেলেও, জেলগেট থেকে বের হওয়ার পূর্বেই আরেকটি নতুন রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার (এলসি) দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাতক পাখির মতো পথ চেয়ে থাকা বৃদ্ধ বাবা মো. রবি উল্লাহ যখন শুনলেন জামিন পাওয়ার পরও তাঁর ছেলে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না, তখন এই তীব্র মানসিক আঘাত ও শোকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর ধুকুন্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে স্ট্রোক করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একাধারে একমাত্র ছেলের মুক্তি না পাওয়ার আকুলতা এবং পরবর্তীতে বাবার আকস্মিক মৃত্যুর এই লোমহর্ষক ঘটনাটি পুরো এলাকায় এক থমথমে ও শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তবে ট্র্যাজেডির এখানেই শেষ নয়; বাবার জানাজা, দাফন এবং শেষ বিদায়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে সজিবুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম কাওসার আহমেদ মানবিক দিক বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্যারোলে সাময়িক মুক্তির জন্য আবেদন করলেও, রহস্যজনক কারণে সেই প্যারোলে মুক্তির আবেদনটি নাকচ করে দেওয়া হয়। ফলে, এক দুর্ভাগ্যজনক নিয়তির পরিহাসে সজিবুর রহমান সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের চার দেওয়ালের ভেতরে বন্দি থেকে চোখের জলে বাবার শেষ বিদায়ের মুখোমুখি হয়েছেন, যা দেশের মানবাধিকার ও মানবিক আইন প্রয়োগের নীতিকে এক বিশাল প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের এই শীর্ষ নেতাকে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নরসিংদীর রায়পুরা এলাকা থেকে র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানার জি.আর. মামলা নং ৩৭০/২৪-এর অধীনে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত ৮ জুলাই বিকেল ৪টায় নিজ গ্রামে বাবার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় একজন বন্দির ন্যূনতম মানবিক অধিকার হিসেবে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য করা প্যারোলের আবেদনটি কেন ও কী কারণে জেলা প্রশাসন বা কারা কর্তৃপক্ষ নাকচ করল—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তীব্র সমালোচনা, আলোচনা ও আইনি বিতর্ক চলছে। সাধারণ নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক আদর্শ বা অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী নিজস্ব গতিতে চলবে, কিন্তু পিতা-মাতার শেষ জানাজায় সাময়িক সময়ের জন্য অংশ নিতে না দেওয়া চরম অমানবিক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন বা কারা কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ জাতীয়, আইনি ও মানবাধিকার অনুসন্ধানী উইং শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা সজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলোর আইনি অগ্রগতি, প্যারোল নাকচ হওয়ার নেপথ্যের প্রশাসনিক কারণ এবং দেশের বিচার ব্যবস্থায় মানবিক অধিকার প্রয়োগের বাস্তব চিত্র প্রতিমুহূর্তে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করছে।

আপনার মতামত লিখুন

Bengali Journal

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


জামিন পেয়েও মিলল না মুক্তি, ছেলের শোকে বাবার মৃত্যু; জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলও মুক্তি পেলেন না ছাত্রলীগ নেতা সজিবুর!

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজনৈতিক বৈরিতা আর আইনি বেড়াজালের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক চরম মানবিক বিপর্যয় ও বেদনাবিধুর ট্র্যাজেডির চিত্র সামনে এসেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কারাবন্দি সজিবুর রহমানকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ ২১ মাস কারাবাস শেষে সম্প্রতি একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেলেও, জেলগেট থেকে বের হওয়ার পূর্বেই আরেকটি নতুন রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার (এলসি) দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাতক পাখির মতো পথ চেয়ে থাকা বৃদ্ধ বাবা মো. রবি উল্লাহ যখন শুনলেন জামিন পাওয়ার পরও তাঁর ছেলে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না, তখন এই তীব্র মানসিক আঘাত ও শোকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর ধুকুন্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে স্ট্রোক করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একাধারে একমাত্র ছেলের মুক্তি না পাওয়ার আকুলতা এবং পরবর্তীতে বাবার আকস্মিক মৃত্যুর এই লোমহর্ষক ঘটনাটি পুরো এলাকায় এক থমথমে ও শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তবে ট্র্যাজেডির এখানেই শেষ নয়; বাবার জানাজা, দাফন এবং শেষ বিদায়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে সজিবুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম কাওসার আহমেদ মানবিক দিক বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্যারোলে সাময়িক মুক্তির জন্য আবেদন করলেও, রহস্যজনক কারণে সেই প্যারোলে মুক্তির আবেদনটি নাকচ করে দেওয়া হয়। ফলে, এক দুর্ভাগ্যজনক নিয়তির পরিহাসে সজিবুর রহমান সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের চার দেওয়ালের ভেতরে বন্দি থেকে চোখের জলে বাবার শেষ বিদায়ের মুখোমুখি হয়েছেন, যা দেশের মানবাধিকার ও মানবিক আইন প্রয়োগের নীতিকে এক বিশাল প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের এই শীর্ষ নেতাকে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নরসিংদীর রায়পুরা এলাকা থেকে র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানার জি.আর. মামলা নং ৩৭০/২৪-এর অধীনে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত ৮ জুলাই বিকেল ৪টায় নিজ গ্রামে বাবার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় একজন বন্দির ন্যূনতম মানবিক অধিকার হিসেবে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য করা প্যারোলের আবেদনটি কেন ও কী কারণে জেলা প্রশাসন বা কারা কর্তৃপক্ষ নাকচ করল—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তীব্র সমালোচনা, আলোচনা ও আইনি বিতর্ক চলছে। সাধারণ নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক আদর্শ বা অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী নিজস্ব গতিতে চলবে, কিন্তু পিতা-মাতার শেষ জানাজায় সাময়িক সময়ের জন্য অংশ নিতে না দেওয়া চরম অমানবিক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন বা কারা কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ জাতীয়, আইনি ও মানবাধিকার অনুসন্ধানী উইং শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা সজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলোর আইনি অগ্রগতি, প্যারোল নাকচ হওয়ার নেপথ্যের প্রশাসনিক কারণ এবং দেশের বিচার ব্যবস্থায় মানবিক অধিকার প্রয়োগের বাস্তব চিত্র প্রতিমুহূর্তে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করছে।


Bengali Journal

প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
Copyright © 2026 Bengali Journal
জামিন পেয়েও মিলল না মুক্তি, ছেলের শোকে বাবার মৃত্যু; জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলও মুক্তি পেলেন না ছাত্রলীগ নেতা সজিবুর!
0:00 0:00
1.0x