চলতি বছরের জুন মাসে সারাদেশে মব সহিংসতা ও ৬৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্বিতণ্ডা ও ধর্মীয় অবমাননাসহ আসামিকে ছিনতাই ও মব সহিংসতার জেরে ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হামলার শিকার ও আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এই সময়ে আহত হয়েছেন ৩৪৬ জনের অধিক বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সংগঠনটি বলছে, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও এইচআরএসএস’র সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জুন মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে, মোট ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৩৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলেও এইচআরএসএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়।
এতে আরও বলা হয়, মে মাসের তুলনায়–নিহত ৫, আহত ২৮৯–জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে।
জুন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২২টিরও বেশি মামলা হয়েছে, যেখানে ৬২৭ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় এক হাজার ২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনা মিলিয়ে মোট ২৫৭টি ঘটনায় ৪ হাজার ৭৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাতের ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ২৮ জন আহত, পাঁচজন লাঞ্ছিত, নয়জন হুমকির সম্মুখীন এবং পাঁচজন আটক হয়েছেন। সাতটি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, ১৯ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর ২ জন কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ৯৪ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে, মোট ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলেও এইচআরএসএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়। এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে ৫৭ জন নারী নিহত, ৪৮ জন আহত এবং ৩৬ জন আত্মহত্যা করেছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু
জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও অভিযানে ৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং একজন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনে মারা যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪ জনের।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ১২টি হামলার ঘটনায় ৭ জন আহত হয়েছেন এবং ১২টি মন্দির, ১১টি প্রতিমা ও ৭টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৫টি হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত, দুইজন আহত ও চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিএসএফ কর্তৃক একজন আটক এবং সাতজনকে পুশইন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও চার শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গাসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আরাকান আর্মি ১২ জনকে আটক করেছে বলেও জানানো হয়।
৫৫টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ১৮৪ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৩৯ জন শ্রমিক মারা গেছেন।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জননিরাপত্তার অভাব দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের জন্য গ্রেপ্তার ও হয়রানি নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিষয় : সহিংসতা

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
চলতি বছরের জুন মাসে সারাদেশে মব সহিংসতা ও ৬৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্বিতণ্ডা ও ধর্মীয় অবমাননাসহ আসামিকে ছিনতাই ও মব সহিংসতার জেরে ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হামলার শিকার ও আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এই সময়ে আহত হয়েছেন ৩৪৬ জনের অধিক বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সংগঠনটি বলছে, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও এইচআরএসএস’র সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জুন মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে, মোট ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৩৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলেও এইচআরএসএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়।
এতে আরও বলা হয়, মে মাসের তুলনায়–নিহত ৫, আহত ২৮৯–জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে।
জুন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২২টিরও বেশি মামলা হয়েছে, যেখানে ৬২৭ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় এক হাজার ২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনা মিলিয়ে মোট ২৫৭টি ঘটনায় ৪ হাজার ৭৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাতের ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ২৮ জন আহত, পাঁচজন লাঞ্ছিত, নয়জন হুমকির সম্মুখীন এবং পাঁচজন আটক হয়েছেন। সাতটি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, ১৯ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর ২ জন কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ৯৪ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে, মোট ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলেও এইচআরএসএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়। এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে ৫৭ জন নারী নিহত, ৪৮ জন আহত এবং ৩৬ জন আত্মহত্যা করেছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু
জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও অভিযানে ৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং একজন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনে মারা যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪ জনের।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ১২টি হামলার ঘটনায় ৭ জন আহত হয়েছেন এবং ১২টি মন্দির, ১১টি প্রতিমা ও ৭টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৫টি হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত, দুইজন আহত ও চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিএসএফ কর্তৃক একজন আটক এবং সাতজনকে পুশইন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও চার শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গাসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আরাকান আর্মি ১২ জনকে আটক করেছে বলেও জানানো হয়।
৫৫টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ১৮৪ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৩৯ জন শ্রমিক মারা গেছেন।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জননিরাপত্তার অভাব দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের জন্য গ্রেপ্তার ও হয়রানি নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন