দেশের বর্তমান উত্তাল ও কড়া প্রশাসনিক কড়াকড়ির মাঝে এবার বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্দরমহলের এক চরম চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন সত্য জনসমক্ষে উগড়ে দিয়েছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সফল উপদেষ্টা এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ডয়চে ভেলে’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার চরম ও বিতর্কিত সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি নিজের অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করি না।” সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিক যখন অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে—‘অন্তর্বর্তী সরকার যখন আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মতো এত বড় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন আপনি নিজেই তো সেই অন্তর্বর্তী সরকারের এক অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন; তাহলে এখন কেন এই দ্বিমত?’ এই প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত সাহসী ও সোজাসাপ্টা ভঙ্গিতে সাবেক এই ক্ষমতাধর উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই আওয়ামী লীগের ওপর এই পাইকারি নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিলেন না এবং এখনো এটিকে বিন্দুমাত্র সমর্থন করেন না। তিনি অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে মনে করিয়ে দেন যে, দলটির ভেতরে যাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধী বা গণহত্যার সাথে জড়িত, তাঁদের শতভাগ কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা যেতে পারে; কিন্তু অপরাধীদের বিচারের অজুহাতে দেশের সম্পূর্ণ বৃহত্তর একটা বিশাল জনগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক শক্তিকে পাইকারি হারে নিষিদ্ধ করে দেওয়ার এই ফ্যাসিবাদী কৌশলের পক্ষে তিনি কোনোভাবেই অবস্থান নিতে পারেন না।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতো একাধিক শীর্ষ ও হেভিওয়েট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলানো একজন প্রবীণ ও ঝানু সাবেক আমলার মুখ থেকে এমন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ফাঁসের পর পুরো দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন তোলপাড় এবং সরকারের ভেতরে-বাইরে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এম সাখাওয়াত হোসেনের এই ঐতিহাসিক জবানবন্দি মূলত প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে মাইনাস বা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে সবার সর্বসম্মত কোনো পদক্ষেপ ছিল না, বরং একটি নির্দিষ্ট উগ্রপন্থী মহলের চরম ও অন্যায্য রাজনৈতিক চাপের মুখেই এই একপেশে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সরকারের অন্দরে থেকে সমস্ত নথিপত্র ও গোয়েন্দা খতিয়ান নিবিড়ভাবে দেখা এই সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন কঠোর অবস্থান দেশের আগামী দিনের ক্ষমতার সমীকরণ, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তিকেই এক মস্ত বড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দেশের বুদ্ধিজীবী ও উদারপন্থী কলামিস্টদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের রাষ্ট্রে কোটি কোটি সমর্থকপুষ্ট একটি রাজনৈতিক দলকে এভাবে মাঠের বাইরে একঘরে করে রাখা যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ও চরম অস্থিরতারই জন্ম দেবে—এম সাখাওয়াত হোসেনের এই আন্তর্জাতিক জবানবন্দি মূলত সেই নগ্ন সত্যটিকেই আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত সাহসের সাথে হাতেনাতে ফুটিয়ে তুলেছে।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
দেশের বর্তমান উত্তাল ও কড়া প্রশাসনিক কড়াকড়ির মাঝে এবার বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্দরমহলের এক চরম চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন সত্য জনসমক্ষে উগড়ে দিয়েছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সফল উপদেষ্টা এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ডয়চে ভেলে’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার চরম ও বিতর্কিত সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি নিজের অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করি না।” সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিক যখন অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে—‘অন্তর্বর্তী সরকার যখন আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মতো এত বড় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন আপনি নিজেই তো সেই অন্তর্বর্তী সরকারের এক অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন; তাহলে এখন কেন এই দ্বিমত?’ এই প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত সাহসী ও সোজাসাপ্টা ভঙ্গিতে সাবেক এই ক্ষমতাধর উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই আওয়ামী লীগের ওপর এই পাইকারি নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিলেন না এবং এখনো এটিকে বিন্দুমাত্র সমর্থন করেন না। তিনি অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে মনে করিয়ে দেন যে, দলটির ভেতরে যাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধী বা গণহত্যার সাথে জড়িত, তাঁদের শতভাগ কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা যেতে পারে; কিন্তু অপরাধীদের বিচারের অজুহাতে দেশের সম্পূর্ণ বৃহত্তর একটা বিশাল জনগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক শক্তিকে পাইকারি হারে নিষিদ্ধ করে দেওয়ার এই ফ্যাসিবাদী কৌশলের পক্ষে তিনি কোনোভাবেই অবস্থান নিতে পারেন না।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতো একাধিক শীর্ষ ও হেভিওয়েট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলানো একজন প্রবীণ ও ঝানু সাবেক আমলার মুখ থেকে এমন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ফাঁসের পর পুরো দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন তোলপাড় এবং সরকারের ভেতরে-বাইরে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এম সাখাওয়াত হোসেনের এই ঐতিহাসিক জবানবন্দি মূলত প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে মাইনাস বা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে সবার সর্বসম্মত কোনো পদক্ষেপ ছিল না, বরং একটি নির্দিষ্ট উগ্রপন্থী মহলের চরম ও অন্যায্য রাজনৈতিক চাপের মুখেই এই একপেশে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সরকারের অন্দরে থেকে সমস্ত নথিপত্র ও গোয়েন্দা খতিয়ান নিবিড়ভাবে দেখা এই সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন কঠোর অবস্থান দেশের আগামী দিনের ক্ষমতার সমীকরণ, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তিকেই এক মস্ত বড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দেশের বুদ্ধিজীবী ও উদারপন্থী কলামিস্টদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের রাষ্ট্রে কোটি কোটি সমর্থকপুষ্ট একটি রাজনৈতিক দলকে এভাবে মাঠের বাইরে একঘরে করে রাখা যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ও চরম অস্থিরতারই জন্ম দেবে—এম সাখাওয়াত হোসেনের এই আন্তর্জাতিক জবানবন্দি মূলত সেই নগ্ন সত্যটিকেই আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত সাহসের সাথে হাতেনাতে ফুটিয়ে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন