ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
Bengali Journal

দিনাজপুরে কৃষককে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৫ নেতা কারাগারে

রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে দিনদুপুরে কৃষক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় যুব নাগরিক শক্তি’র রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুনসহ (২৯) পাঁচজন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের দিনাজপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক শুনানির শেষে তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন। মামলায় কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন—সংগঠনের দাপুটে নেতা হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সমজিদুল মিনহাজ (২১) এবং হৃদয় হোসেন (২২)। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকা থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল সাদা প্রাইভেটকারসহ পুলিশ তাঁদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাধারণ কৃষক আব্দুস সামাদকে গত রবিবার রাতে শহরের গোপালগঞ্জ পাঁচমাইল এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এই চক্রটি। এরপর কারাবন্দি যুব নেতাদের পৈশাচিক মারধরের শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো কৃষকের পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়, যা না দিলে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।লোমহর্ষক এই ঘটনায় অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন (৩৬) তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অপহরণের অভিযোগ দায়ের করলে অভিযানে নামে পুলিশ। জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল গত সোমবার বিকেলে গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অপহৃত কৃষক আব্দুস সামাদকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং ঘটনাস্থল থেকে তিন অপহরণকারীকে হাতেনাতে আটক করে। তবে ঘটনার মোড় আরও নাটকীয় রূপ নেয় যখন আটককৃতদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে চক্রের অন্য সহযোগীরা; ফলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়। সোমবার রাতেই মামুন বাদী হয়ে নামধারী পাঁচজন ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি দস্যুতা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। ন্যাক্কারজনক বিষয় হলো, আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এনসিপির বিভিন্ন স্তরের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা কোতোয়ালি থানার ভেতরে ঢুকে বেআইনিভাবে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চরম অপচেষ্টা চালায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাত পর্যন্ত দিনাজপুর সদর থানা এলাকায় এক নজিরবিহীন ও থমথমে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় আইনের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের পাশে এসে অবস্থান নেন ছাত্রদল ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা, যাঁদের সম্মিলিত প্রতিরোধে অপরাধী চক্রের থানা ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং অপরাধের সাথে জড়িত বাকি অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ আইনি, জাতীয় ও জেলা অনুসন্ধানী উইং দিনাজপুরের এই চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া, নেপথ্যের গডফাদারদের রাজনৈতিক খুঁটির জোর এবং উত্তরবঙ্গের সার্বিক আইনশৃঙ্খলার প্রতিমুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

দিনাজপুরে কৃষককে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৫ নেতা কারাগারে