ঢাকা    শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
Bengali Journal

পাঠ্যবইয়ে হাদির কোন বীরত্ব লিখতে চান? সে তো উগ্রবাদী ও নারীবিদ্বেষী জঙ্গি: শান্তা ফারজানা!

প্রয়াত ওসমান হাদির চরম বিতর্কিত, উগ্রবাদী ও কুরুচিপূর্ণ অতীত জবানবন্দি এবং পাঠ্যপুস্তকে তাঁর তথাকথিত বীরত্বগাথা যুক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এবার আরও বেশি আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক রূপে সামনে এসেছেন নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি)-এর ভাইস-চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা। ওসমানের অতীত জীবনের প্রতিটি কর্মকাণ্ড এবং জনসমক্ষে দেওয়া তাঁর বক্তব্যসমূহকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন যে, যার জীবনে কোনো ইতিবাচক বীরত্ব বা দেশপ্রেমের ছিটেফোঁটাও ছিল না, তাকে কোনোভাবেই তরুণ প্রজন্মের পাঠ্যবইয়ে স্থান দেওয়া যায় না। শান্তা ফারজানা অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, যারা ওসমান হাদিকে জাতীয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তারা কি পাঠ্যবইয়ের পাতায় ওসমানের সেই কুখ্যাত ও চরম কুরুচিপূর্ণ নারীবিদ্বেষী বক্তব্য ছাপাতে চান, যেখানে তিনি নারীদের অবমাননা করে প্রকাশ্য জনসভায় অত্যন্ত নোংরা ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছিলেন? একটি স্বাধীন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে এমন একজন উগ্রবাদী জঙ্গির বিকৃত চিন্তাধারা ঢুকিয়ে দেওয়ার যেকোনো আত্মঘাতী চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওসমান হাদি কেবল স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাননি, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্য মঞ্চে নারীদের ওপর নির্যাতন ও যৌন সহিংসতাকে উস্কে দেওয়ার মতো অত্যন্ত উগ্র ও আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওসমানের একটি পূর্ববর্তী ভিডিও জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি)-এর ভাইস-চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে মনে করিয়ে দেন যে, ওসমান হাদি সরাসরি নারীদের যৌনাঙ্গ ছিঁড়ে ফেলার মতো ভয়ঙ্কর ও পৈশাচিক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং প্রকাশ্য মঞ্চে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন। একটি সভ্য সমাজ এবং স্বাধীন রাষ্ট্রে নারীদের সম্মান ও अधिकारকে এভাবে বুটের তলায় পিষ্ট করা এবং প্রকাশ্য জঙ্গিবাদী মানসিকতা লালন করা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না। এই ধরনের বিকৃত ও উগ্রবাদী মনস্তত্ত্বকে যারা পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বীরত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল, তারা দেশের শিক্ষা খাত ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক অন্ধকার অন্ধকূপে ঠেলে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে।প্রয়াত ওসমান হাদীর এই চরম নারীবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী ইতিহাসকে পাঠ্যপুস্তকে স্থান না দেওয়ার দূরদর্শী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য বর্তমান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন এনডিবি-এর ভাইস-চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই জঙ্গির উগ্র এজেন্ডাকে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত না করে দেশের ইতিহাস ও যুবসমাজকে এক মস্ত বড় কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। শান্তা ফারজানা দেশের সচেতন নারী সমাজ এবং প্রগতিশীল প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তিকে এই ধরনের উগ্র ও নারীবিদ্বেষী অপশক্তির নেপথ্য মদদদাতাদের খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন। 

পাঠ্যবইয়ে হাদির কোন বীরত্ব লিখতে চান? সে তো উগ্রবাদী ও নারীবিদ্বেষী জঙ্গি: শান্তা ফারজানা!