ঢাকা    শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
Bengali Journal

নিষিদ্ধের পরেও তুমুল জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ, দিন যত যাচ্ছে মিছিলের সংখ্যা বাড়ছে!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন অধ্যায়ে, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও জনসাধারণের মাঝে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ‘তুমুল জনপ্রিয়তা’ এবং রাজপথে দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচির আকস্মিক ও নাটকীয় উত্থানের খবর রাজনৈতিক মহলে এক নতুন মেরুকরণ ও মেগা তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এবং পরবর্তীতে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও, বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এক মেগা পুনরুত্থানের হুঙ্কার দিচ্ছেন। তাঁদের অত্যন্ত কড়া ও আত্মবিশ্বাসী দাবি, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দমন-পীড়নের মুখেও আওয়ামী লীগের প্রতি জনসাধারণের ভালোবাসা ও সমর্থন বিন্দুমাত্র কমেনি বরং দিন যত যাচ্ছে, দেশের আনাচে-কানাচে দলটির রাজনৈতিক মিছিল, ঝটিকা শোডাউন এবং সভা-সমাবেশের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম রাজপথ থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর ও প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জেও আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল এবং “শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই” স্লোগানে রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠার ঘটনা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। পরিবর্তিত জমানায় যেখানে দলটির অধিকাংশ শীর্ষ নেতৃত্ব আত্মগোপনে বা কারাবন্দি, ঠিক তখনই তৃণমূল নেতাকর্মীদের এমন দুঃসাহসিক ও সুসংগঠিতভাবে রাজপথে ফিরে আসার প্রবণতা প্রমাণ করছে যে, দলটির শিকড় জনসাধারণের মনে কতটা গভীরে প্রোথিত।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভূ-রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, আওয়ামী লীগের এই ‘সারপ্রাইজ’ পুনরুত্থান এবং জনসাধারণের মাঝে তাঁদের তথাকথিত জনপ্রিয়তার দাবি মূলত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের জন্য এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক মেগা চ্যালেঞ্জ। তাঁদের মতে, জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে দলটির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হলেও, দেশের একটি বিশাল অংশ এখনও আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ন্যারেটিভে বিশ্বাসী। এছাড়া, তৃণমূল নেতাকর্মীদের এই হঠাৎ গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার নেপথ্যে দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ও গোপন দিকনির্দেশনা এবং ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক শোডাউন তৈরির সুপরিকল্পিত ছক কাজ করছে বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেঙ্গলি জার্নালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনের কড়াকড়ি উপেক্ষা করেই নিয়মিত ঝটিকা মিছিল ও দলীয় সভা সম্পন্ন করছেন। তাঁরা অত্যন্ত কৌশলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে নেতাকর্মীদের জড়ো করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন, যা পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে চরম সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি করছে।অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির এমন প্রকাশ্য মিছিল ও জনপ্রিয়তার দাবিকে বর্তমান সরকার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এক চরম ধৃষ্টতা এবং শহীদদের আত্মার সাথে নজিরবিহীন তামাশা হিসেবে বর্ণনা করছেন। সরকার সমর্থক ও বিরোধী দলগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী ও দলীয়করণের রাজনীতিকে চিরতরে বর্জন করেছে; ফলে ভুয়া জনপ্রিয়তা ও বোমাবাজির মিছিল দিয়ে জনসাধারণের মনে আবার জায়গা পাওয়ার দিন এখন আর নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলটির এমন অনমনীয় ও আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনের রাজপথের রাজনীতিকে আবারও এক রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ জাতীয় ডেস্ক, ক্রাইম-পলিটিক্স উইং ও গোয়েন্দা উইং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের ঝটিকা বিক্ষোভ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া আইনি পর্যবেক্ষণ এবং এই মেগা ইস্যুর পর দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অফিশিয়াল পাল্টাপাল্টি জবাবের সার্বিক গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

নিষিদ্ধের পরেও তুমুল জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ, দিন যত যাচ্ছে মিছিলের সংখ্যা বাড়ছে!