“বুকে গুলি করলেও শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেই!” - আইনজীবী মহসীন রশীদ
দেশের বর্তমান উত্তাল ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই এবার এক নতুন মেগা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন রশীদ। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের একটি জনপ্রিয় টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় দাবি করেছেন যে, বুকে গুলি করা হলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই দেশে ফিরে আসবেনই। অনুষ্ঠান চলাকালীন উপস্থাপিকা যখন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তোলেন যে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন—সেক্ষেত্রে আপনি কী মনে করেন? এই প্রশ্নের জবাবে অতীতে শেখ হাসিনা বিরোধী অবস্থানের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসা এই সিনিয়র আইনজীবী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তিনি অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরবেন এবং তাঁকে গুলি করলেও তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঠেকানো যাবে না। অ্যাডভোকেট মহসিন রশীদ যুক্তি দেখান যে, একজন নাগরিক হিসেবে এই স্বাধীন ভূখণ্ডে পা রাখার এবং ফিরে আসার পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার শেখ হাসিনার রয়েছে। যেহেতু তিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি আসবেন, তাই যেকোনো পরিস্থিতি বা চরম প্রতিকূলতা ডিঙিয়েও তাঁর এই দেশে ফেরা শতভাগ নিশ্চিত বলে তিনি মনে করেন।আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত সক্রিয় এই প্রবীণ আইনজীবীর মুখ থেকে সাবেক স্বৈরশাসকের পক্ষে এমন মারমুখী ও অনড় অবস্থান প্রকাশ পাওয়ার পর পুরো রাজনৈতিক মহলে এক নতুন মেরুকরণ ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই অ্যাডভোকেট মহসিন রশীদই অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের তীব্র সমালোচনা ও বিরোধী অবস্থানের কারণে লাইমলাইটে এসেছিলেন এবং পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। সেই অবস্থান থেকে হঠাত্ চ্যানেল আইয়ের মতো জাতীয় গণমাধ্যমের পর্দায় এসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পক্ষে এমন কঠোর ও মরণজয়ী মন্তব্য করা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ এবং এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট মহলের চরম বিরোধিতা এবং আইনি মারপ্যাঁচের মাঝেও শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দেশের আইন শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কোন দিকে মোড় দেওয়াবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সচেতন মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ রাজনৈতিক ও আইনি উইং টকশোতে দেওয়া অ্যাডভোকেট মহসিনের এই বিস্ফোরক বক্তব্যের সামাজিক প্রতিক্রিয়া, সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য আইনজীবীদের অবস্থান এবং এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের পরবর্তী প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।