চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে রাত্রিযাপন ও অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত
ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ ও আলোচিত চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণির সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন ও সরকারি বাসায় রাত্রিযাপনের গুরুতর অপরাধে অবশেষে চূড়ান্ত বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়েছেন বহুল আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. গোলাম সাকলায়েন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক এই অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি) গুরুদণ্ড হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে সরাসরি ‘বাধ্যতামূলক অবসরে’ পাঠানোর জন্য প্রস্তুতকৃত প্রজ্ঞাপনের মূল সারসংক্ষেপে ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অফিশিয়ালি স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত এই মেগা ফাইল ও সারসংক্ষেপটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক আদেশের পর খুব শীঘ্রই গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং এর মাধ্যমে তাঁর বর্ণাঢ্য পুলিশি ক্যারিয়ারের এক কলঙ্কিত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। মূলত গত ২০২৪ সালের জুন মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা থেকে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কাছে সাকলায়েনের এই গুরুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় পিএসসির ইতিবাচক মতামত নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবার এই চূড়ান্ত মেগা অ্যাকশন গ্রহণ করছে।চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার নেপথ্য ইতিহাস অনুসন্ধান ও সরকারি নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভার থানার ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একই বছরের ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। সেই সময় ওই হাই-প্রোফাইল মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান ডিবির চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত গোলাম সাকলায়েন। তবে মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পেশাদারিত্বের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে তিনি নিজেই জড়িয়ে পড়েন পরীমণির রূপের জালে। পরবর্তীতে দেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সাকলায়েনের সরকারি ফ্ল্যাটে পরীমণির নিয়মিত যাতায়াতের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ও খবর বের হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিশেষ করে ২০২১ সালের ১ আগস্ট সকালে পরীমণি নিজের ব্যক্তিগত সাদা গাড়ি নিয়ে রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টারে সাকলায়েনের বাসায় যান এবং গভীর রাতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। সাকলায়েনের স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পনা ও জ্ঞাতসারে নায়িকা পরীমণি তাঁর রাজারবাগের সরকারি ফ্ল্যাটে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং পরদিন ২ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে সেই বাসা ত্যাগ করেন, যার অকাট্য ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়ে পুলিশের ভাবমূর্তিকে চরম ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এবং সিআইডি (CID) ও এলআইসি (LIC) শাখার ফরেনসিক রিপোর্টে সাকলায়েনের এই জঘন্য চারিত্রিক স্খলনের মেগা প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে দেওয়া সাকলায়েনের ফোনের সিডিআর (CDR - কল ডিটেল রেকর্ড) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি পেশাগত কাজের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন সময়ে দিনে ও রাতে নায়িকা পরীমণির বাসায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অবস্থান করেছেন। এছাড়া সিআইডি কর্তৃক জব্দকৃত পরীমণির মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের ২৯ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত পরীমণির ফেসবুক আইডি এবং ‘গোলাম সাকলায়েন সিথিল’ নামক ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তাঁদের আদান-প্রদানকৃত সব মেসেজ ও অডিও কথোপকথন সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত প্রয়োজনে স্থাপিত কোনো সম্পর্কের নয়; বরং ছিল অত্যন্ত গভীর ও অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক। এই অনৈতিক কেলেঙ্কারি ফাঁসের পরপরই সাকলায়েনকে ডিবি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রাইম জোনে বদলি করা হয়েছিল, তবে বিভাগীয় মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে এখন তাকে স্থায়ীভাবে ফোর্সড রিটায়ারমেন্ট বা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো চূড়ান্ত অসম্মানজনক শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ ক্রাইম সিন, সাইবার ফরেনসিক উইং ও বিনোদন ডেস্ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনের এই বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপন জারির সর্বশেষ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, পুলিশ প্রশাসনে এই রায়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং এই মেগা রায়ের পর চিত্রনায়িকা পরীমণির ব্যক্তিগত ও আইনি অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।