অবশেষে জামিন পেলেন ‘গরিবের ডাক্তার’ মিশু
বগুড়ায় ছয় দিন হাজতবাসের পর জামিনে ছাড়া পেলেন ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত ডা. সামির হোসেন মিশু। সোমবার সকালে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কৌসিক আহমেদ তার জামিন মঞ্জুর করেন।
দুপুরে তিনি বগুড়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। এ খবরে ডা. মিশু ভক্তদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
এর আগে রোববার তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৩ জুন রাতে শেরপুর উপজেলার রনবীরবালা ঘাটপাড় এলাকায় মকটেল আইসল্যান্ড নামে বিনোদন কেন্দ্রে জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে যুবদলের নেতাকর্মীরা তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন।
ডা. সামির হোসেন মিশুর আইনজীবী তানজিম আল মেজবা ও পুলিশ এসব তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া মহানগরীর জলেশ্বরীতলা এলাকার মৃত ডা. সাফদার হোসেনের ছেলে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। এছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের বগুড়া শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাগেরহাটে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত।
ক্রীড়ামোদী ও বিনোদনপ্রিয় ডা. মিশু দলমত নির্বিশেষে সবার ও গরিবের ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এজন্য বগুড়ায় তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত।
গত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে বগুড়া থেকে বদলি করা হয়।
বগুড়া শহরের নাটাইপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে মো. আরাফ গত ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর সদর থানায় বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭২ জনের নাম উল্লেখ করে ৪৭২ জনকে আসামি করা হয়। ডা. মিশু এ মামলার আসামি।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুরে বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যাচেষ্টা করা হয়। তিনি আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ডা. সামির হোসেন মিশু তাকে চিকিৎসা নিতে বাধা দিয়ে বের করে দেন।
এদিকে ডা. মিশু গত ২৩ জুন রাতে শেরপুর উপজেলার রনবীরবালা ঘাটপাড় এলাকায় মকটেল আইসল্যান্ডে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। রাত ১১টার দিকে প্রতিপক্ষ চিকিৎসকদের ইন্ধনে স্থানীয় যুবদল নেতারা তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে ‘মব’ থেকে বাঁচিয়ে গ্রেফতার করে। রাতেই তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে ডা. মিশুকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
অ্যাডভোকেট তানজিম আল মেজবা জানান, রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ডা. মিশুর জামিন শুনানি করা হয়। তিনি আদালতকে বুঝাতে সক্ষম হন, ডা. মিশু ২০১৬ সাল থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তিনি কোন দিন বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেননি। তাই বাদীকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আবদুল বাছেদ উপস্থিত ছিলেন।