প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শফিকুর রহমানের যে মধুর সম্পর্ক, আগের ইতিহাসে ছিল না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমানের যে এত মধুর সম্পর্ক, এটা এর আগে ইতিহাস বলে না। এটাই হচ্ছে সেই সম্ভাবনা, যা তৈরি হয়েছে ৫ই আগস্টের পর। আপনারা যে বলছেন পরিবর্তনটা কী—এটাই পরিবর্তন। বৈষম্যহীনতা কী—এটাই হচ্ছে বৈষম্যহীনতার নজির।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ জনভোগান্তি পরিদর্শনে করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সঙ্গে শফিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
সকালে ঢাকা-১৫ আসনের চারটি ওয়ার্ড পরিদর্শন এবং সংকট নিরসনে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিরোধী দলীয় নেতা ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ডিএনসিসির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সংলগ্ন রাস্তা, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শেওড়াপাড়া ৩ নম্বর গলি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মণিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ সংলগ্ন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাইশটেক সরকার বাড়ি এলাকার নানা সমস্যার দিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে একটি মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তাঁরা।
মতবিনিময় সভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো দল বা আসনের নন বরং তিনি সারা দেশের তথা ৩০০ আসনের প্রধানমন্ত্রী। তাই আমি আমার আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব তার হাতেই অর্পণ করেছি। তিনি সংসদের অভিভাবক হিসেবে তা গ্রহণ করেছেন এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছেন।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ীই আমরা ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। আমরা সম্ভব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।’
তিনি সরকারের উন্নয়নকাজে স্থানীয় জনগণকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। এ ছাড়াও এমন উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির বা দৃষ্টান্ত নেই। এটিই আমাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও পরিবর্তন।’
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমেই সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। রাতারাতিই কোনো কিছু করা সম্ভব নয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমানের যে এত মধুর সম্পর্ক, এটা এর আগে ইতিহাস বলে না। এটাই হচ্ছে সেই সম্ভাবনা, যা তৈরি হয়েছে ৫ই আগস্টের পর। আপনারা যে বলছেন পরিবর্তনটা কী—এটাই পরিবর্তন। বৈষম্যহীনতা কী—এটাই হচ্ছে বৈষম্যহীনতার নজির।’
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশ কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের নয় বরং সবার। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই সকল সমস্যার সমাধানে কাজ করে যেতে হবে। তিনি ঢাকা-১৫ আসনে উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান প্রমুখ।