‘মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী সভা, মসজিদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা!’
পবিত্র আল্লাহ্র ঘরের ভেতরে রাজনৈতিক চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় সভা পরিচালনা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করার এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে রংপুরে। জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদের ভেতর জামায়াতে ইসলামীর এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ধর্মীয় ও সামাজিক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাগরিবের নামাজের পরপরই উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে এই চাঞ্চল্যকর দলীয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র একটি উপাসনালয়কে আক্ষরিক অর্থেই রাজনৈতিক কার্যালয়ে রূপান্তর করার এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভের আগুন জ্বলছে এবং এটি মসজিদের আদব ও ইসলামী শরীয়াহর স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে।মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাগরিবের জামাত শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদের ভেতরের নামাজের স্থান পরিষ্কার করে সেখানে কায়দা করে চেয়ার এবং টেবিল বসিয়ে দলীয় এজেন্ডা নিয়ে রাজনৈতিক সভা শুরু করেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ওই বিতর্কিত সভা থেকেই মনোহর বাদশা নামের এক ব্যক্তিকে আগামী ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল। এই মেগা রাজনৈতিক ঘোষণার সময় জামায়াতের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শীর্ষ এবং মাঝারি সারির একঝাঁক নেতা মসজিদের ভেতরে গোল হয়ে বসা ছিলেন। মসজিদের পবিত্র পরিবেশের মধ্যে এমন খাস পলিটিক্যাল সভার ছবি ও ভিডিও দ্রুত ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে গেলে সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, "মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে কিসের ভণ্ডামি? এরা ইসলামের নামে ভণ্ডামি শুরু করে একে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলছে।"এই স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে মিঠাপুকুরের ঐতিহ্যবাহী হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সম্মানিত পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বেঙ্গলি জার্নালকে জানান, আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রোগ্রামে সাধারণত প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করা হয়ে থাকে, যা সরাসরি গিবতের পর্যায়ে পড়ে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী পবিত্র মসজিদের ভেতরে বসে কোনোভাবেই গিবত বা রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এছাড়া রাজকীয় চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে এভাবে দলীয় সভা করাকালীন মসজিদের পবিত্র সৌন্দর্যহানি হয়ে থাকলে এটি ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদের আদবের মারাত্মক ও গুরুতর লঙ্ঘন। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ জাতীয় ডেস্ক, রিলিজিয়ন উইং ও ক্রাইম সিন সেল মিঠাপুকুরের ওই চকপাড়া জামে মসজিদের বর্তমান পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের আইনি পর্যবেক্ষণ এবং জামায়াতের এই পদক্ষেপের পর রংপুর অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে সৃষ্ট তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিমুহূর্তের আপডেট অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করছে।