মাতারবাড়ী হয়ে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে চায় জাপান, যা বলল ভারত
বাংলাদেশ হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো তথা সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদার করতে জাপানের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে জাপান। গতকাল বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার করতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ভারতের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য আসে। তারেক রহমানের চলমান টোকিও সফরে দুই দেশ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের উন্নয়নে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত জাপানি সহায়তা দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। বন্দরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের ‘অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদারত্ব’ রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারত ও জাপানকে সম্পৃক্ত করে দুই দেশের বেশ কয়েকটি উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এসব সংযোগ আরও জোরদার করতে চায় নয়াদিল্লি। তিনি জানান, এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর কর্মজীবী জনগোষ্ঠীকে জাপানি ভাষা শেখানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এ সহযোগিতা ভারতের অভ্যন্তরে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকেও আরও গতিশীল করবে। বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো জাপানের কাছ থেকে সহায়তাও পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া। সফরকালে তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জাপানের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলটির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরটির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে দেশটি।
বর্তমানে বড় আকারের জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলটির উন্নয়ন এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এ পরিস্থিতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ বিবৃতিতে ‘যোগাযোগব্যবস্থা’ অংশে মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বন্দরটির উন্নয়নকাজ আরও জোরদার করার বিষয়ে জাপানের আগ্রহের কথাও তুলে ধরা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে দুই প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বিগ-বি (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) ’ উদ্যোগের ভিত্তিতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন, জ্বালানি এবং শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।
এই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের শিল্প ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।