ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
Bengali Journal

“পাবলিক আর আগের মতো টাকা পাঠায় না!”— ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফাতিমা তাসনিম জুমা।

এতদিন ধরে সংস্কৃতির বড় বড় বুলি আওড়ানো এবং আদর্শের মুখোশ পরে থাকা ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-এর আসল রূপ এবার পাবলিকের সচেতনতার জোয়ারে একদম হাটে হাঁড়ি ভেঙে মাঝনদীতে ডুবে গেছে। সংগঠনটির শীর্ষ দুই কান্ডারি—চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাতিমা তাসনিম জুমা যেভাবে আইনি দলিলের দোহাই দিয়ে হুট করে লেজ গুটিয়ে দায়িত্ব থেকে পালানোর ঘোষণা দিয়েছেন, তার ভেতরের আসল বিড়ালটি শেষ পর্যন্ত ঝোলা থেকে বেরিয়েই পড়েছে। বিদায়লগ্নে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জুমা তাঁর ফেসবুক পোস্টে যে কান্নাকাটি করেছেন, তাতেই আসল রহস্য ফাঁস হয়ে গেছে; তিনি অত্যন্ত আক্ষেপ করে লিখেছেন, “মানুষ আর আগের মতো টাকা পাঠায় না!” জুমার এই একটি লাইনেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এতদিন ধরে যে কালচারাল সেন্টারের নামে দেশ-বিদেশ থেকে ফান্ডের নামে কোটি কোটি টাকার চশমখোরি কিংবা একচেটিয়া বাণিজ্য চলছিল, সচেতন আমজনতা এখন তাদের ভণ্ডামি ধরে ফেলায় সেই টাকার পাইপলাইন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। যখনই পাবলিকের পকেট থেকে ‘ফ্রি ফান্ড’ বা চ্যারিটির নামে ডাল-ভাতের টাকা আসা বন্ধ হয়েছে, ঠিক তখনই এই স্বঘোষিত সাংস্কৃতিক পন্ডিতদের তথাকথিত সমাজসেবার ভূত মাথা থেকে নেমে গেছে এবং তারা ওসমান হাদির ওয়ারিশদের আইনি দলিলের ঠ্যালায় পড়ে স্রেফ অস্তিত্ব সংকটে ভুগে ময়দান ছেড়ে পালানোর পথ বেছে নিয়েছে।ডিজিটাল দুনিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেটিজেনরা জুমার এই পোস্টের পর রীতিমতো হাসির রোল তুলেছেন এবং এই তথাকথিত এলিট সমাজসেবকদের ধুয়ে দিয়ে বলছেন—ফান্ড আসার আসল ধান্দাবাজি যখন লাটে ওঠে, তখন এদের আদর্শের বেলুনও এক সেকেন্ডে ফুস হয়ে যায়। নেটিজেনদের স্পষ্ট দাবি, এতদিন ধরে যারা সংস্কৃতির নামে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে ফায়দা লুটেছে, মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় তাদের সেই সাজানো দোকান এখন পুরোপুরি দেউলিয়া। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বা স্বচ্ছতা না রেখে কেবল ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং করে যে ফান্ডের ব্যবসা চালানো হচ্ছিল, সচেতন মানুষ এখন সেখানে এক পয়সা দিতেও রাজি নয়; যার ফলে এই সাংস্কৃতিক বাবুদের পিঠ এখন একদম দেওয়ালে ঠেকে গেছে। জুমার স্বীকারোক্তিই প্রমাণ করে যে, এই তথাকথিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার কোনো নৈতিক বা আদর্শিক ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল না, বরং এটি ছিল স্রেফ মানুষের পাঠানো টাকার ওপর বেঁচে থাকা একটা পরজীবী আখড়া। টাকা পাঠানো বন্ধ হওয়া মাত্রই চেয়ারম্যান আর ভাইস প্রেসিডেন্টের একযোগে সিংহাসন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার এই ন্যাক্কারজনক দৃশ্য মূলত প্রমাণ করে যে, যেখানে টাকা নেই, সেখানে এই ধান্দাবাজদের কোনো সংস্কৃতির দরদও নেই। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ ক্রাইম, ফাইন্যান্সিয়াল স্ক্যাম ও কড়া স্যাটায়ার উইং ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের নামে এযাবৎকাল আসা ফান্ডের টাকার আসল হিসাব-নিকাশ, নেপথ্যের অর্থ আত্মসাতের গোপন গুঞ্জন এবং এই দেউলিয়া নেতাদের ময়দান ছেড়ে পালানোর প্রতিটি মচমচে খবরাখবরের প্রতিমুহূর্তের অনুসন্ধান করছে।

“পাবলিক আর আগের মতো টাকা পাঠায় না!”— ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফাতিমা তাসনিম জুমা।