ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
Bengali Journal

সারাদেশ

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও গার্ড অব অনারে জামায়াতের বর্বর বাধা: স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তির চরম আস্ফালন!

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও গার্ড অব অনারে জামায়াতের বর্বর বাধা: স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তির চরম আস্ফালন!
অ্যাম্বুলেন্সে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ

পিরোজপুর (২৪ অক্টোবর, ২০২৬): একাত্তরের বীর মুক্তিসেনা ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে চরম বর্বরতা ও ধৃষ্টতা দেখিয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র চক্র, জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ঐতিহাসিক মামলার অন্যতম সাক্ষী ও বাদী হওয়ার অপরাধে—মৃত্যুর পরও বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এই মধ্যযুগীয় পৈ'শাচিক হিংস্রতা চালাল পরাজিত অপশক্তি।

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক ভিটায় খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে বাধার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পরাজিত শক্তির নগ্ন নখরাঘাত: খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট!

আজ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়ায় পৌঁছালে শুরু হয় জামায়াত ক্যাডারদের নজিরবিহীন তাণ্ডব।

যে স্বাধীন বাংলাদেশ রচনার জন্য মানিক পশারী একাত্তরে জীবন বাজি রেখে অস্ত্র ধরেছিলেন, সেই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতেই তাঁর দাফন প্রতিহত করতে স্থানীয় জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়। একটি স্বাধীন দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিন ও শেষ বিদায়ে এমন নগ্ন হামলা একাত্তরের খুনি চক্রের বিপজ্জনক পুনরুত্থানকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

প্রশাসনের নতজানু ভূমিকা ও পুলিশ লাইন্সে অবরুদ্ধ পরিবার

জামায়াত নেতৃত্বের সরাসরি উসকানিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিনবাহী গাড়িকে পিরোজপুরের বিভিন্ন মোড়ে আটকে দেওয়া হয়। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দেন এবং পিরোজপুরের মাটিতে দাফন বা রাষ্ট্রীয় সম্মান দিতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। অথচ মৃত মানিক পশারি একজন গ্যাজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।

স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর এমন উগ্র আস্ফালনের মুখে স্থানীয় প্রশাসনের চরম অসহায়ত্ব ও নতজানু আপসকামী ভূমিকা দেখা গেছে:

৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ পরিবার: স্বাধীনতাবিরোধী ক্যাডারদের প্রাণনাশের হুমকিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়।

গোপনে শেষ বিদায়: প্রকাশ্য দিবালোকে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পৈতৃক ভিটায় দাফনের ব্যবস্থা না করে, প্রশাসনের দুর্বলতায় পুলিশ লাইন্সের চার দেয়ালের ভেতরে গোপনে দাফনের প্রক্রিয়া চালানো হয়, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর এক চরম আঘাত।

দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবি

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের প্রতি জামায়াত ও তাদের সহযোগীদের এই অমানবিক অবমাননাকে সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সর্বত্র এখন একটিই প্রশ্ন: দেশ কি তবে একাত্তরের পরাজিত খুনিদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে?

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত উগ্র জামায়াত ক্যাডারদের গ্রেপ্তার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশের ওপর এই বর্বরতা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আক্রমণ।

বিষয় : জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা

আপনার মতামত লিখুন

Bengali Journal

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও গার্ড অব অনারে জামায়াতের বর্বর বাধা: স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তির চরম আস্ফালন!

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পিরোজপুর (২৪ অক্টোবর, ২০২৬): একাত্তরের বীর মুক্তিসেনা ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে চরম বর্বরতা ও ধৃষ্টতা দেখিয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র চক্র, জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ঐতিহাসিক মামলার অন্যতম সাক্ষী ও বাদী হওয়ার অপরাধে—মৃত্যুর পরও বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এই মধ্যযুগীয় পৈ'শাচিক হিংস্রতা চালাল পরাজিত অপশক্তি।

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক ভিটায় খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে বাধার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পরাজিত শক্তির নগ্ন নখরাঘাত: খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট!

আজ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়ায় পৌঁছালে শুরু হয় জামায়াত ক্যাডারদের নজিরবিহীন তাণ্ডব।

যে স্বাধীন বাংলাদেশ রচনার জন্য মানিক পশারী একাত্তরে জীবন বাজি রেখে অস্ত্র ধরেছিলেন, সেই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতেই তাঁর দাফন প্রতিহত করতে স্থানীয় জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়। একটি স্বাধীন দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিন ও শেষ বিদায়ে এমন নগ্ন হামলা একাত্তরের খুনি চক্রের বিপজ্জনক পুনরুত্থানকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

প্রশাসনের নতজানু ভূমিকা ও পুলিশ লাইন্সে অবরুদ্ধ পরিবার

জামায়াত নেতৃত্বের সরাসরি উসকানিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিনবাহী গাড়িকে পিরোজপুরের বিভিন্ন মোড়ে আটকে দেওয়া হয়। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দেন এবং পিরোজপুরের মাটিতে দাফন বা রাষ্ট্রীয় সম্মান দিতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। অথচ মৃত মানিক পশারি একজন গ্যাজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।

স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর এমন উগ্র আস্ফালনের মুখে স্থানীয় প্রশাসনের চরম অসহায়ত্ব ও নতজানু আপসকামী ভূমিকা দেখা গেছে:

৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ পরিবার: স্বাধীনতাবিরোধী ক্যাডারদের প্রাণনাশের হুমকিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়।

গোপনে শেষ বিদায়: প্রকাশ্য দিবালোকে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পৈতৃক ভিটায় দাফনের ব্যবস্থা না করে, প্রশাসনের দুর্বলতায় পুলিশ লাইন্সের চার দেয়ালের ভেতরে গোপনে দাফনের প্রক্রিয়া চালানো হয়, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর এক চরম আঘাত।

দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবি

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের প্রতি জামায়াত ও তাদের সহযোগীদের এই অমানবিক অবমাননাকে সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সর্বত্র এখন একটিই প্রশ্ন: দেশ কি তবে একাত্তরের পরাজিত খুনিদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে?

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত উগ্র জামায়াত ক্যাডারদের গ্রেপ্তার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশের ওপর এই বর্বরতা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আক্রমণ।


Bengali Journal

প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
Copyright © 2026 Bengali Journal
বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও গার্ড অব অনারে জামায়াতের বর্বর বাধা: স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তির চরম আস্ফালন!
0:00 0:00
1.0x