ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
Bengali Journal

মতামত

আবারও কেন সামনে আসছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের প্রশ্ন?

আবারও কেন সামনে আসছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের প্রশ্ন?

আবারও কেন সামনে আসছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের প্রশ্ন?

৫ আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাপ্রবাহ, সাংবিধানিক বিতর্ক ও বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন বাস্তবতা:

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বড় পরিবর্তন ঘটেছিল, তার প্রতিটি দিক নিয়ে পরবর্তী সময়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি

-সেদিন শেখ হাসিনা কি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন? যদি করে থাকেন, তাহলে সেই পদত্যাগের সাংবিধানিক ও দস্তাবেজ ভিত্তি কোথায়?

এই বিষয়টি নতুন নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের একটি সাক্ষাৎকারের পরে পদত্যাগপত্র নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক দেখা যায়। রাষ্ট্রপতি তখন বলেছিলেন যে তিনি শুনেছেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তাঁর কাছে পদত্যাগের কোনো লিখিত প্রমাণ নেই। তবে ৫ আগস্ট রাতের জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যই পরবর্তীতে বিতর্ককে আরও গভীর করে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয়ে যায়। তাই একটি লিখিত পদত্যাগপত্রের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি সাংবিধানিক প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত।

তবে এখানে আরেকটি বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে Reuters, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের বিষয়টি সেভাবেই রিপোর্ট করেছিল। Reuters-এর ৬ আগস্ট ২০২৪-এর প্রতিবেদনে তাঁকে পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয় যে তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যান।

অর্থাৎ এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার—রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পদত্যাগের দস্তাবেজ প্রমাণ। রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারান এবং দেশত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্রের নথি নিয়ে রাষ্ট্রপতির পরবর্তী বক্তব্য একটি আলাদা সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তাহলে প্রশ্নটি আবার সামনে আসছে কেন?

বাংলাদেশের রাজনীতি ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেমে থাকেনি। বরং ঘটনাপ্রবাহ বহু দূর এগিয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে, দলের কার্যক্রম ও নিবন্ধন নিয়ে আইনি পদক্ষেপ এসেছে এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ৫ আগস্টের সাংবিধানিক ঘটনাগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ ইতিহাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সময়ের সঙ্গে সেই প্রশ্ন আবার উঠে আসতে পারে।

তবে এখানেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দায়িত্ব হলো—প্রশ্নটিকে প্রশ্ন হিসেবেই রাখা; প্রমাণিত সত্য হিসেবে কোনো অনির্ধারিত দাবিকে উপস্থাপন না করা।

ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আছে। শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ ভারতে পৌঁছান। ভারতীয় সরকারের তৎকালীন বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি স্বল্প নোটিশে ভারতে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন।

এই কারণে 'ভারত তাঁকে নিয়ে গেছে' এবং 'বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে তিনি ভারতে গেছেন'—এই দুটি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যটিও তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা দরকার। ভারতের অবস্থান কী এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের আইনি ও কূটনৈতিক ভিত্তি কী—এসব প্রশ্নও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

রাজনীতিতে পদত্যাগপত্র কি ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন হতে পারে? এখানে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো রাজনৈতিক পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে পদত্যাগপত্রের প্রশ্নটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—এটা বলা যায়। কারণ একটি সরকার কীভাবে ক্ষমতা ছাড়ল, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় থাকল এবং পরবর্তী সরকার কী ভিত্তিতে গঠিত হলো—এসব প্রশ্ন রাষ্ট্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে মূল নথি, সাংবিধানিক বিধান, রাষ্ট্রীয় রেকর্ড এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর—শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নয়।

২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময়ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন বলে পরবর্তী বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।

আজ ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন সংসদ নির্বাচিত হয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং শেখ হাসিনা আর রাষ্ট্রের কার্যরত প্রধানমন্ত্রী নন। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ওয়েবসাইটও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তার ফলাফলকে বর্তমান নির্বাচনী কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে।

তাই 'শেখ হাসিনা ২০২৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী'—এই দাবিটি বর্তমান বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নয়। বরং ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ক্ষমতা ছাড়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের বৈধতা—এই দুটি বিষয় আলাদা করে বিশ্লেষণ করাই অধিক যুক্তিসংগত।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি হয়তো শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের চেয়েও বড়,—বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন কি সবসময় সংবিধান, আইন ও নথির স্পষ্ট ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই হবে?

৫ আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাকে ইতিহাসের একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা যায়; কিন্তু রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে তার প্রতিটি সাংবিধানিক পদক্ষেপের নথি ও ব্যাখ্যাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক পরিবর্তন একদিনে ঘটতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সাংবিধানিক ইতিহাস বহু বছর ধরে আলোচিত হয়।

ড. বাবু আব্দুল্লাহ আল আমীন

 কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক 

মুলুজ, ফ্রান্স

আপনার মতামত লিখুন

Bengali Journal

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


আবারও কেন সামনে আসছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের প্রশ্ন?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


আবারও কেন সামনে আসছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের প্রশ্ন?

৫ আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাপ্রবাহ, সাংবিধানিক বিতর্ক ও বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন বাস্তবতা:

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বড় পরিবর্তন ঘটেছিল, তার প্রতিটি দিক নিয়ে পরবর্তী সময়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি

-সেদিন শেখ হাসিনা কি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন? যদি করে থাকেন, তাহলে সেই পদত্যাগের সাংবিধানিক ও দস্তাবেজ ভিত্তি কোথায়?

এই বিষয়টি নতুন নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের একটি সাক্ষাৎকারের পরে পদত্যাগপত্র নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক দেখা যায়। রাষ্ট্রপতি তখন বলেছিলেন যে তিনি শুনেছেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তাঁর কাছে পদত্যাগের কোনো লিখিত প্রমাণ নেই। তবে ৫ আগস্ট রাতের জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যই পরবর্তীতে বিতর্ককে আরও গভীর করে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয়ে যায়। তাই একটি লিখিত পদত্যাগপত্রের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি সাংবিধানিক প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত।

তবে এখানে আরেকটি বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে Reuters, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের বিষয়টি সেভাবেই রিপোর্ট করেছিল। Reuters-এর ৬ আগস্ট ২০২৪-এর প্রতিবেদনে তাঁকে পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয় যে তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যান।

অর্থাৎ এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার—রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পদত্যাগের দস্তাবেজ প্রমাণ। রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারান এবং দেশত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্রের নথি নিয়ে রাষ্ট্রপতির পরবর্তী বক্তব্য একটি আলাদা সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তাহলে প্রশ্নটি আবার সামনে আসছে কেন?

বাংলাদেশের রাজনীতি ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেমে থাকেনি। বরং ঘটনাপ্রবাহ বহু দূর এগিয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে, দলের কার্যক্রম ও নিবন্ধন নিয়ে আইনি পদক্ষেপ এসেছে এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ৫ আগস্টের সাংবিধানিক ঘটনাগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ ইতিহাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সময়ের সঙ্গে সেই প্রশ্ন আবার উঠে আসতে পারে।

তবে এখানেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দায়িত্ব হলো—প্রশ্নটিকে প্রশ্ন হিসেবেই রাখা; প্রমাণিত সত্য হিসেবে কোনো অনির্ধারিত দাবিকে উপস্থাপন না করা।

ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আছে। শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ ভারতে পৌঁছান। ভারতীয় সরকারের তৎকালীন বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি স্বল্প নোটিশে ভারতে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন।

এই কারণে 'ভারত তাঁকে নিয়ে গেছে' এবং 'বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে তিনি ভারতে গেছেন'—এই দুটি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যটিও তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা দরকার। ভারতের অবস্থান কী এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের আইনি ও কূটনৈতিক ভিত্তি কী—এসব প্রশ্নও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

রাজনীতিতে পদত্যাগপত্র কি ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন হতে পারে? এখানে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো রাজনৈতিক পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে পদত্যাগপত্রের প্রশ্নটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—এটা বলা যায়। কারণ একটি সরকার কীভাবে ক্ষমতা ছাড়ল, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় থাকল এবং পরবর্তী সরকার কী ভিত্তিতে গঠিত হলো—এসব প্রশ্ন রাষ্ট্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে মূল নথি, সাংবিধানিক বিধান, রাষ্ট্রীয় রেকর্ড এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর—শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নয়।

২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময়ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন বলে পরবর্তী বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।

আজ ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন সংসদ নির্বাচিত হয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং শেখ হাসিনা আর রাষ্ট্রের কার্যরত প্রধানমন্ত্রী নন। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ওয়েবসাইটও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তার ফলাফলকে বর্তমান নির্বাচনী কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে।

তাই 'শেখ হাসিনা ২০২৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী'—এই দাবিটি বর্তমান বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নয়। বরং ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ক্ষমতা ছাড়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের বৈধতা—এই দুটি বিষয় আলাদা করে বিশ্লেষণ করাই অধিক যুক্তিসংগত।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি হয়তো শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের চেয়েও বড়,—বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন কি সবসময় সংবিধান, আইন ও নথির স্পষ্ট ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই হবে?

৫ আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাকে ইতিহাসের একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা যায়; কিন্তু রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে তার প্রতিটি সাংবিধানিক পদক্ষেপের নথি ও ব্যাখ্যাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক পরিবর্তন একদিনে ঘটতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সাংবিধানিক ইতিহাস বহু বছর ধরে আলোচিত হয়।

ড. বাবু আব্দুল্লাহ আল আমীন

 কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক 

মুলুজ, ফ্রান্স


Bengali Journal

প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
Copyright © 2026 Bengali Journal
আবারও কেন সামনে আসছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের প্রশ্ন?
0:00 0:00
1.0x