দেশের বর্তমান অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং কড়া আইনি কড়াকড়ির আবহে এবার এক নতুন রাজনৈতিক ঘটনা ঘটিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক জরুরি ও জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি তুলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে কথা বলতে গিয়ে জিএম কাদের স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় বলেন, আওয়ামী লীগের মতো একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে দলটির সমর্থক দেশের একটি বিশাল ও মেগা জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি দূরে ঠেলে রাখা হয়েছে। জাপা চেয়ারম্যান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার যদি অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া না হয়, অর্থাত্ আওয়ামী লীগকে যদি দেশের স্বাভাবিক ও মূল ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশে কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া জাতীয় পার্টির এই শীর্ষ নেতার এমন মারমুখী ও আপসহীন জবানবন্দি দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন তোলপাড় এবং তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিতের পর যখন আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে মাইনাস করার এক সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে, তখন দেশের একটি অন্যতম সংসদের বিরোধী দল থাকা প্রধান রাজনৈতিক শক্তির প্রধানের মুখ থেকে এমন দাবি আসা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী কৌশল। জিএম কাদের যুক্তি দেখান যে, অতীতের কোনো রাজনৈতিক ক্ষোভ বা অপরাধের শাস্তি হিসেবে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে মৌলিক অধিকারের বাইরে নাগরিক সমাজ থেকে একঘরে করে রাখা কেবল মানবাধিকারেরই চরম লঙ্ঘন নয়, বরং তা দেশের আগামী দিনের ক্ষমতার সমীকরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে এক চিরস্থায়ী সংঘাত ও গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে। তিনি বর্তমান সরকারকে এক প্রকার হুশিয়ারি দিয়ে মনে করিয়ে দেন, সব পক্ষকে সমান সুযোগ এবং রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত না করে কোনো একপেশে বা চাতুর্যপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা হলে, তা যেমন দেশের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, তেমনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও তা চরম প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তবে জিএম কাদেরের এমন দাবি প্রকাশের পর অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই আন্দোলনের নব্য শক্তির মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আন্দোলনের সমন্বয়ক ও নিষিদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলো এই বক্তব্যকে ‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা’ এবং ‘আওয়ামী লীগের দালালি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, যা আগামী দিনে রাজপথে জাপা ও ছাত্র-জনতার শক্তির মাঝে এক নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও, দেশের বর্তমান আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকট এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা নানা জটিলতার মাঝে জিএম কাদেরের এই সাহসিকতাপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান মূলত দেশের একটি বড় সুপ্ত জনগোষ্ঠীর মনের কথাই ফুটিয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন দেশের উদারপন্থী কলামিস্টরা। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ রাজনৈতিক, অনুসন্ধানী ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উইং আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের এই মেগা জবানবন্দির সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া, দেশের অন্যান্য দলগুলোর পর্দার আড়ালের নানামুখী সমীকরণ এবং এ নিয়ে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের পরবর্তী কঠোর আইনি অবস্থানের প্রতিমুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
দেশের বর্তমান অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং কড়া আইনি কড়াকড়ির আবহে এবার এক নতুন রাজনৈতিক ঘটনা ঘটিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক জরুরি ও জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি তুলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে কথা বলতে গিয়ে জিএম কাদের স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় বলেন, আওয়ামী লীগের মতো একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে দলটির সমর্থক দেশের একটি বিশাল ও মেগা জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি দূরে ঠেলে রাখা হয়েছে। জাপা চেয়ারম্যান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার যদি অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া না হয়, অর্থাত্ আওয়ামী লীগকে যদি দেশের স্বাভাবিক ও মূল ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশে কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া জাতীয় পার্টির এই শীর্ষ নেতার এমন মারমুখী ও আপসহীন জবানবন্দি দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন তোলপাড় এবং তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিতের পর যখন আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে মাইনাস করার এক সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে, তখন দেশের একটি অন্যতম সংসদের বিরোধী দল থাকা প্রধান রাজনৈতিক শক্তির প্রধানের মুখ থেকে এমন দাবি আসা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী কৌশল। জিএম কাদের যুক্তি দেখান যে, অতীতের কোনো রাজনৈতিক ক্ষোভ বা অপরাধের শাস্তি হিসেবে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে মৌলিক অধিকারের বাইরে নাগরিক সমাজ থেকে একঘরে করে রাখা কেবল মানবাধিকারেরই চরম লঙ্ঘন নয়, বরং তা দেশের আগামী দিনের ক্ষমতার সমীকরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে এক চিরস্থায়ী সংঘাত ও গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে। তিনি বর্তমান সরকারকে এক প্রকার হুশিয়ারি দিয়ে মনে করিয়ে দেন, সব পক্ষকে সমান সুযোগ এবং রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত না করে কোনো একপেশে বা চাতুর্যপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা হলে, তা যেমন দেশের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, তেমনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও তা চরম প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তবে জিএম কাদেরের এমন দাবি প্রকাশের পর অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই আন্দোলনের নব্য শক্তির মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আন্দোলনের সমন্বয়ক ও নিষিদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলো এই বক্তব্যকে ‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা’ এবং ‘আওয়ামী লীগের দালালি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, যা আগামী দিনে রাজপথে জাপা ও ছাত্র-জনতার শক্তির মাঝে এক নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও, দেশের বর্তমান আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকট এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা নানা জটিলতার মাঝে জিএম কাদেরের এই সাহসিকতাপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান মূলত দেশের একটি বড় সুপ্ত জনগোষ্ঠীর মনের কথাই ফুটিয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন দেশের উদারপন্থী কলামিস্টরা। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ রাজনৈতিক, অনুসন্ধানী ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উইং আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের এই মেগা জবানবন্দির সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া, দেশের অন্যান্য দলগুলোর পর্দার আড়ালের নানামুখী সমীকরণ এবং এ নিয়ে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের পরবর্তী কঠোর আইনি অবস্থানের প্রতিমুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

আপনার মতামত লিখুন