দেশের সাধারণ মানুষ যখন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, জ্যামিতিক হারে বাড়া মুদ্রাস্ফীতি আর সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরার এক চরম নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে, ঠিক তখনই অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ একঝাঁক উপদেষ্টার অবিশ্বাস্য ও অনৈতিক আর্থিক লুটের খতিয়ান জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে, যা দেশের সচেতন সমাজকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তব্ধ করে দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারের ফাঁকা বুলি আওড়ানো সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মাত্র ১৮ মাসের দায়িত্বকালীন সময়ে বিদেশে নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসার নাম করে সরকারি কোষাগার থেকে সুকৌশলে ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকা (প্রায় ৭৯ লাখ টাকা) তুলে নিয়েছেন। দেশের রাজকোষের চাবি যাঁর হাতে ছিল, তিনি নিজেই যখন সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে নিজের বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক চিকিৎসার বিশাল অংকের বিল মেটান, তখন তা একসময়ের নীতি ও সততার বুলি আওড়ানো এই অর্থনীতিবিদের চরম নৈতিক স্খলন ও সুবিধাবাদের কদর্য রূপকেই হাতেনাতে প্রমাণ করে। দেশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা যখন রক্ত দিয়ে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, তখন ক্ষমতার মসনদে বসে তথাকথিত সংস্কারকদের এমন লাগামহীন অর্থ অপচয় ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের হরিলুটকে শহীদানদের চেতনার মুখে এক মস্ত বড় চপেটাঘাত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে চরম ও জঘন্য বিষয় হলো, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ একাই এই রাষ্ট্রীয় টাকা সাবাড় করেননি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা উপদেষ্টাদের মধ্যে বিদেশে চিকিৎসা খরচের ব্যয় হিসেবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছিল। এই হরিলুটের তালিকায় ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা তুলে নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, আর ড. সালেহউদ্দিনের ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের খতিয়ানটি এই তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্ষমতার ১৮ মাসে জনগণের টাকা ওড়ানোর এই উৎসবে আরো শামিল হয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন (৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা), সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (৭ লাখ ১৫ knee হাজার ৬৪৯ টাকা), সাবেক বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান (৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা), সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ (২ লাখ ৬৭ transcended হাজার ২১৬ টাকা), সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম (২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা) এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার (১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা)। বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ যখন ক্যানসার বা হৃদরোগের চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে নিরূপায় হয়ে মৃত্যুর প্রহর গণে, তখন একঝাঁক ‘জনগণের সেবক’ বা উপদেষ্টারা কোন রাজকীয় নৈতিকতার ভিত্তিতে সরকারি কোষাগার উজাড় করে নিজেদের ব্যক্তিগত বিল একা হজম করেন, সেই প্রশ্ন এখন পুরো দেশ জুড়ে তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে। এই পর্বতসম বিল তোলার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, স্বৈরাচারের পতন হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা এই নব্য সুবিধাবাদী শাসকরা দেশের টাকা নিজেদের ভোগবিলাসের হাতিয়ার হিসেবেই ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষ ক্ষোভের সাথে বলছেন, মুখে সুশাসন আর অন্তরালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে নেওয়ার এই জঘন্য সংস্কৃতি এককালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে এক চরমতম বেইমানি ছাড়া আর কিছুই নয়। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ অনুসন্ধানী ও রাজনৈতিক ডেস্ক উপদেষ্টাদের এই মেগা চিকিৎসা বিলের অন্তরালের আমলাতান্ত্রিক আঁতাত এবং জনগণের অর্থ অপচয়ের প্রতিটি চাঞ্চল্যকর নথিপত্র অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
দেশের সাধারণ মানুষ যখন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, জ্যামিতিক হারে বাড়া মুদ্রাস্ফীতি আর সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরার এক চরম নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে, ঠিক তখনই অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ একঝাঁক উপদেষ্টার অবিশ্বাস্য ও অনৈতিক আর্থিক লুটের খতিয়ান জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে, যা দেশের সচেতন সমাজকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তব্ধ করে দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারের ফাঁকা বুলি আওড়ানো সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মাত্র ১৮ মাসের দায়িত্বকালীন সময়ে বিদেশে নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসার নাম করে সরকারি কোষাগার থেকে সুকৌশলে ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকা (প্রায় ৭৯ লাখ টাকা) তুলে নিয়েছেন। দেশের রাজকোষের চাবি যাঁর হাতে ছিল, তিনি নিজেই যখন সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে নিজের বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক চিকিৎসার বিশাল অংকের বিল মেটান, তখন তা একসময়ের নীতি ও সততার বুলি আওড়ানো এই অর্থনীতিবিদের চরম নৈতিক স্খলন ও সুবিধাবাদের কদর্য রূপকেই হাতেনাতে প্রমাণ করে। দেশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা যখন রক্ত দিয়ে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, তখন ক্ষমতার মসনদে বসে তথাকথিত সংস্কারকদের এমন লাগামহীন অর্থ অপচয় ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের হরিলুটকে শহীদানদের চেতনার মুখে এক মস্ত বড় চপেটাঘাত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে চরম ও জঘন্য বিষয় হলো, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ একাই এই রাষ্ট্রীয় টাকা সাবাড় করেননি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা উপদেষ্টাদের মধ্যে বিদেশে চিকিৎসা খরচের ব্যয় হিসেবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছিল। এই হরিলুটের তালিকায় ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা তুলে নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, আর ড. সালেহউদ্দিনের ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের খতিয়ানটি এই তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্ষমতার ১৮ মাসে জনগণের টাকা ওড়ানোর এই উৎসবে আরো শামিল হয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন (৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা), সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (৭ লাখ ১৫ knee হাজার ৬৪৯ টাকা), সাবেক বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান (৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা), সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ (২ লাখ ৬৭ transcended হাজার ২১৬ টাকা), সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম (২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা) এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার (১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা)। বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ যখন ক্যানসার বা হৃদরোগের চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে নিরূপায় হয়ে মৃত্যুর প্রহর গণে, তখন একঝাঁক ‘জনগণের সেবক’ বা উপদেষ্টারা কোন রাজকীয় নৈতিকতার ভিত্তিতে সরকারি কোষাগার উজাড় করে নিজেদের ব্যক্তিগত বিল একা হজম করেন, সেই প্রশ্ন এখন পুরো দেশ জুড়ে তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে। এই পর্বতসম বিল তোলার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, স্বৈরাচারের পতন হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা এই নব্য সুবিধাবাদী শাসকরা দেশের টাকা নিজেদের ভোগবিলাসের হাতিয়ার হিসেবেই ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষ ক্ষোভের সাথে বলছেন, মুখে সুশাসন আর অন্তরালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে নেওয়ার এই জঘন্য সংস্কৃতি এককালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে এক চরমতম বেইমানি ছাড়া আর কিছুই নয়। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ অনুসন্ধানী ও রাজনৈতিক ডেস্ক উপদেষ্টাদের এই মেগা চিকিৎসা বিলের অন্তরালের আমলাতান্ত্রিক আঁতাত এবং জনগণের অর্থ অপচয়ের প্রতিটি চাঞ্চল্যকর নথিপত্র অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।

আপনার মতামত লিখুন