জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের পরিবারকে দেওয়া সরকারি অনুদানের টাকা পেয়ে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে নিহত শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ করেছেন আবদুল মতিনের প্রথম স্ত্রী ও জুলাই শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের মা মমতাজ বেগম। এতে মনের কষ্টে একমাত্র মেয়ে শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিন ওরফে স্মাইলকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও স্বীকার করেন মমতাজ বেগম। তিনি গত মঙ্গলবার আত্মহননে চেষ্টা চালান। আবদুল মতিন ও মমতাজ বেগম দম্পতির বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামে। ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর সংসার জীবনের মাথায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এই দম্পতির একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের কাছে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি ডান চোখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথা ভেদ করে বের হয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই শাহরিয়ার মারা যান।
মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ একমাত্র ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুকে পুঁজি করে শুরু থেকেই নানা ধরণের ধান্ধাবাজি ও প্রতারণা শুরু করেন। আমি বারবার নিষেধ করার পরেও তিনি আমার কোনো কথাই শুনতে চাননি। দুই বউয়ের ভরণপোষণের কোনো সামর্থ্য তার নেই। কারণ আমি তার (স্বামী) সঙ্গে ২২টি বছর কাটিয়েছি। উনার আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। আমার ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুর ভাতার টাকা পেয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার নানা পাঁয়তারা শুরু করেন। এমনকি এক জুলাই শহীদের মা’কেও বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। তাকে বুঝিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সর্বশেষ তিনি গত মাসের ২৯ মে (শুক্রবার) আমার অনুমতি ছাড়া ছেলের ভাতার অনুদানে ৭ লাখ টাকার কাবিন ও ৫ লাখ টাকার গহনা পড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ের পর মাইক্রোবাসে করে নতুন বউ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এতে আমি ভীষণ মর্মাহত হয়েছি। একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে এখনো আমি কাতর, তার মাঝে এই ঘটনা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। তাই একমাত্র মেয়েকে নিয়ে আমি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু স্বজন ও জুলাই পরিবারের সদস্যরা আমাকে মতিনের বিচারের আশ্বাস দিলে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি।
মমতাজ বেগম আরো বলেন, শহীদ পরিবারকে দেওয়া সরকারি বরাদ্দের এককালীন ৩০ লাখ টাকাও তিনি আমার সই জালিয়াতি করে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি সচেতন থাকায় সেই চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। শুধু তাই নয়, আমার শহীদ ছেলের নাম ভাঙিয়ে আবদুল মতিন বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার আমি সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা ও মমতাজ বেগমের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন’, হ্যাঁ, আমি বিয়ে করেছি। আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আবদারে বিয়েটা করেছি। আমি প্রথমে বিয়ে করতে চাইনি। আমি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। কিন্তু বাড়িতে আমার মা একা থাকতে পারেন না, তিনি সবসময় কান্নাকাটি করেন। তাই রীতিমতো বাধ্য হয়েই বিয়েটা করেছি। এ ছাড়া আপনারা জানেন যে, আমার একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছে। আমার স্ত্রী মমতাজ বেগমের এখন আর সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই পরিবার আমাকে জোরপূর্বকভাবে বিয়ে করিয়েছে। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন’, আমি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। তার প্রমাণও আমার কাছে আছে। বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে এখন মিথ্যাচার করছেন। এ ছাড়া আমার ব্যাপারে বলা বাকি অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মতিন এও বলেন, বিষয়টি এখন সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় নববধূর নাম ও পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা হাসানুর রহমান সজিব বলেন,’ মোহাম্মদ আবদুল মতিনরা দুই ভাই। বর্তমানে দুই ভাইয়ের কারো ছেলে সন্তান নেই। মতিন সাহেবের একমাত্র ছেলে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছে। তাই ছেলে সন্তানের আশায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ে করাতো দোষের কিছু না। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জুলাইযোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন বলেন,’ একজন জুলাই শহীদের বাবা হয়ে মতিন সাহেব যে কাজটি করেছেন তা মোটেও উচিত হয়নি। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের পরিবারকে দেওয়া সরকারি অনুদানের টাকা পেয়ে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে নিহত শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ করেছেন আবদুল মতিনের প্রথম স্ত্রী ও জুলাই শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের মা মমতাজ বেগম। এতে মনের কষ্টে একমাত্র মেয়ে শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিন ওরফে স্মাইলকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও স্বীকার করেন মমতাজ বেগম। তিনি গত মঙ্গলবার আত্মহননে চেষ্টা চালান। আবদুল মতিন ও মমতাজ বেগম দম্পতির বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামে। ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর সংসার জীবনের মাথায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এই দম্পতির একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের কাছে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি ডান চোখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথা ভেদ করে বের হয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই শাহরিয়ার মারা যান।
মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ একমাত্র ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুকে পুঁজি করে শুরু থেকেই নানা ধরণের ধান্ধাবাজি ও প্রতারণা শুরু করেন। আমি বারবার নিষেধ করার পরেও তিনি আমার কোনো কথাই শুনতে চাননি। দুই বউয়ের ভরণপোষণের কোনো সামর্থ্য তার নেই। কারণ আমি তার (স্বামী) সঙ্গে ২২টি বছর কাটিয়েছি। উনার আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। আমার ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুর ভাতার টাকা পেয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার নানা পাঁয়তারা শুরু করেন। এমনকি এক জুলাই শহীদের মা’কেও বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। তাকে বুঝিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সর্বশেষ তিনি গত মাসের ২৯ মে (শুক্রবার) আমার অনুমতি ছাড়া ছেলের ভাতার অনুদানে ৭ লাখ টাকার কাবিন ও ৫ লাখ টাকার গহনা পড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ের পর মাইক্রোবাসে করে নতুন বউ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এতে আমি ভীষণ মর্মাহত হয়েছি। একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে এখনো আমি কাতর, তার মাঝে এই ঘটনা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। তাই একমাত্র মেয়েকে নিয়ে আমি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু স্বজন ও জুলাই পরিবারের সদস্যরা আমাকে মতিনের বিচারের আশ্বাস দিলে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি।
মমতাজ বেগম আরো বলেন, শহীদ পরিবারকে দেওয়া সরকারি বরাদ্দের এককালীন ৩০ লাখ টাকাও তিনি আমার সই জালিয়াতি করে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি সচেতন থাকায় সেই চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। শুধু তাই নয়, আমার শহীদ ছেলের নাম ভাঙিয়ে আবদুল মতিন বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার আমি সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা ও মমতাজ বেগমের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন’, হ্যাঁ, আমি বিয়ে করেছি। আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আবদারে বিয়েটা করেছি। আমি প্রথমে বিয়ে করতে চাইনি। আমি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। কিন্তু বাড়িতে আমার মা একা থাকতে পারেন না, তিনি সবসময় কান্নাকাটি করেন। তাই রীতিমতো বাধ্য হয়েই বিয়েটা করেছি। এ ছাড়া আপনারা জানেন যে, আমার একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছে। আমার স্ত্রী মমতাজ বেগমের এখন আর সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই পরিবার আমাকে জোরপূর্বকভাবে বিয়ে করিয়েছে। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন’, আমি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। তার প্রমাণও আমার কাছে আছে। বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে এখন মিথ্যাচার করছেন। এ ছাড়া আমার ব্যাপারে বলা বাকি অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মতিন এও বলেন, বিষয়টি এখন সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় নববধূর নাম ও পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা হাসানুর রহমান সজিব বলেন,’ মোহাম্মদ আবদুল মতিনরা দুই ভাই। বর্তমানে দুই ভাইয়ের কারো ছেলে সন্তান নেই। মতিন সাহেবের একমাত্র ছেলে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছে। তাই ছেলে সন্তানের আশায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ে করাতো দোষের কিছু না। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জুলাইযোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন বলেন,’ একজন জুলাই শহীদের বাবা হয়ে মতিন সাহেব যে কাজটি করেছেন তা মোটেও উচিত হয়নি। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন