পবিত্র মহান জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে একজন আইনপ্রণেতার দেওয়া বক্তব্য কতটা বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য, তা নিয়ে ২০২৬ সালের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস করেছে বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ অনুসন্ধান টিম (Investigation Team)। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামী দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম তাঁর পরিবারকে এক বিশাল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হিসেবে দাবি করে এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর বক্তব্য পেশ করেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, “আমার বাবা ও আমার দাদা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমার বাবারা সাত ভাই, যার মধ্যে চারজনই বীর মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তাই নয়, আমার দাদারা ছিলেন ১৯ জন, যার মধ্যে ১১ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে আমার নিজের পরিবারেই ৪৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং আমার মা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক।” জামায়াত দলীয় একজন এমপির মুখ থেকে মহান স্বাধীনতার পক্ষে এবং নিজেদের পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতির এমন অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি শোনার পর রাজনৈতিক মহলে যেমন বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়, তেমনি দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক কৌতূহল।
সংসদ সদস্যের এমন আকাশচুম্বী ও চাঞ্চল্যকর দাবির সত্যতা যাচাইতে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে বেঙ্গলি জার্নালের চৌকস ইনভেস্টিগেশন টিম। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (EC) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের জমা দেওয়া সর্বশেষ নির্বাচনী হলফনামা ও মনোনয়নপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে বের হয়ে আসে এক চোখ কপালে ওঠার মতো ঐতিহাসিক ও গাণিতিক জালিয়াতির চিত্র। নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত নথিতে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম নিজে স্বাক্ষর করে তাঁর যে সুনির্দিষ্ট জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন, তা হলো ১০ জানুয়ারি, ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ (১০/০১/১৯৮১ইং)। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন তাঁর অফিশিয়াল বয়স হিসাব করে দেখা যায়, তিনি ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন বয়সের একজন নাগরিক। অর্থাৎ, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ যখন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শত্রুমুক্ত হয়, তারও দীর্ঘ ১০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে জন্ম নিয়েছেন এই জামায়াত নেতা।
বেঙ্গলি জার্নালের অনুসন্ধানী দল এই গাণিতিক হিসাবের পর ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে যে, যদি আব্দুল মুনতাকিমের জন্মই হয়ে থাকে স্বাধীনতার ১০ বছর পর ১৯৮১ সালে, তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নিজের আপন পিতা কীভাবে শহীদ হলেন? চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে মৃত্যুবরণ করা বা শহীদ হওয়া কোনো পিতার পক্ষে ১৯৮১ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া আক্ষরিক অর্থেই সম্পূর্ণ অসম্ভব, অবাস্তব এবং কাল্পনিক। এই একটি মাত্র অকাট্য দালিলিক প্রমাণই স্পষ্ট করে দেয় যে, পবিত্র জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও সংবেদনশীল ফোরামে দাঁড়িয়ে এই জামায়াত দলীয় সদস্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন একটি পারিবারিক গল্প ফেঁদেছেন। নিজের জামায়াতী রাজনৈতিক পরিচয় ঢাকতে বা সস্তা বাহবা কুড়াতে তিনি কেবল ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সংখ্যাই সাজাননি, বরং নিজের মায়ের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হওয়ার দাবিটিকেও চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, যা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও জাতীয় সংসদের পবিত্রতার ওপর এক বড় ধরনের আঘাত।
এই চাঞ্চল্যকর ও অকাট্য জালিয়াতির খবর বেঙ্গলি জার্নালের অনুসন্ধানী ডেস্কে আসার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, জামায়াতের মতো একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির মুখ থেকে ইতিহাস বিকৃতির এই অপচেষ্টা এবং সংসদে দাঁড়িয়ে এমন প্রকাশ্য মিথ্যাচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হলফনামার এই অকাট্য সত্য প্রকাশের পর আব্দুল মুনতাকিম সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্পিকারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে আইনি বিতর্ক শুরু হওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ ইনভেস্টিগেশন সেল, পার্লামেন্টারি উইং ও পলিটিক্যাল ডেস্ক সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের এই মিথ্যাচারের পর স্পিকারের সম্ভাব্য আইনি একশন, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান এবং এই মেগা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রতিমুহূর্তে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করছে।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
পবিত্র মহান জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে একজন আইনপ্রণেতার দেওয়া বক্তব্য কতটা বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য, তা নিয়ে ২০২৬ সালের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস করেছে বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ অনুসন্ধান টিম (Investigation Team)। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামী দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম তাঁর পরিবারকে এক বিশাল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হিসেবে দাবি করে এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর বক্তব্য পেশ করেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, “আমার বাবা ও আমার দাদা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমার বাবারা সাত ভাই, যার মধ্যে চারজনই বীর মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তাই নয়, আমার দাদারা ছিলেন ১৯ জন, যার মধ্যে ১১ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে আমার নিজের পরিবারেই ৪৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং আমার মা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক।” জামায়াত দলীয় একজন এমপির মুখ থেকে মহান স্বাধীনতার পক্ষে এবং নিজেদের পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতির এমন অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি শোনার পর রাজনৈতিক মহলে যেমন বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়, তেমনি দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক কৌতূহল।
সংসদ সদস্যের এমন আকাশচুম্বী ও চাঞ্চল্যকর দাবির সত্যতা যাচাইতে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে বেঙ্গলি জার্নালের চৌকস ইনভেস্টিগেশন টিম। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (EC) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের জমা দেওয়া সর্বশেষ নির্বাচনী হলফনামা ও মনোনয়নপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে বের হয়ে আসে এক চোখ কপালে ওঠার মতো ঐতিহাসিক ও গাণিতিক জালিয়াতির চিত্র। নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত নথিতে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম নিজে স্বাক্ষর করে তাঁর যে সুনির্দিষ্ট জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন, তা হলো ১০ জানুয়ারি, ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ (১০/০১/১৯৮১ইং)। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন তাঁর অফিশিয়াল বয়স হিসাব করে দেখা যায়, তিনি ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন বয়সের একজন নাগরিক। অর্থাৎ, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ যখন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শত্রুমুক্ত হয়, তারও দীর্ঘ ১০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে জন্ম নিয়েছেন এই জামায়াত নেতা।
বেঙ্গলি জার্নালের অনুসন্ধানী দল এই গাণিতিক হিসাবের পর ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে যে, যদি আব্দুল মুনতাকিমের জন্মই হয়ে থাকে স্বাধীনতার ১০ বছর পর ১৯৮১ সালে, তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নিজের আপন পিতা কীভাবে শহীদ হলেন? চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে মৃত্যুবরণ করা বা শহীদ হওয়া কোনো পিতার পক্ষে ১৯৮১ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া আক্ষরিক অর্থেই সম্পূর্ণ অসম্ভব, অবাস্তব এবং কাল্পনিক। এই একটি মাত্র অকাট্য দালিলিক প্রমাণই স্পষ্ট করে দেয় যে, পবিত্র জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও সংবেদনশীল ফোরামে দাঁড়িয়ে এই জামায়াত দলীয় সদস্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন একটি পারিবারিক গল্প ফেঁদেছেন। নিজের জামায়াতী রাজনৈতিক পরিচয় ঢাকতে বা সস্তা বাহবা কুড়াতে তিনি কেবল ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সংখ্যাই সাজাননি, বরং নিজের মায়ের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হওয়ার দাবিটিকেও চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, যা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও জাতীয় সংসদের পবিত্রতার ওপর এক বড় ধরনের আঘাত।
এই চাঞ্চল্যকর ও অকাট্য জালিয়াতির খবর বেঙ্গলি জার্নালের অনুসন্ধানী ডেস্কে আসার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, জামায়াতের মতো একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির মুখ থেকে ইতিহাস বিকৃতির এই অপচেষ্টা এবং সংসদে দাঁড়িয়ে এমন প্রকাশ্য মিথ্যাচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হলফনামার এই অকাট্য সত্য প্রকাশের পর আব্দুল মুনতাকিম সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্পিকারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে আইনি বিতর্ক শুরু হওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ ইনভেস্টিগেশন সেল, পার্লামেন্টারি উইং ও পলিটিক্যাল ডেস্ক সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের এই মিথ্যাচারের পর স্পিকারের সম্ভাব্য আইনি একশন, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান এবং এই মেগা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রতিমুহূর্তে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করছে।

আপনার মতামত লিখুন