ঢাকা    রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bengali Journal

ফুটবল

ফাইনালের লড়াইটা মেসি-ইয়ামালেরও

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইনালের লড়াইটা মেসি-ইয়ামালেরও
বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-স্পেন। ফুটবলের এই মহারণকে সামনে রেখে ভারতের ওডিশা রাজ্যের পুরি সমুদ্রসৈকতে বালুর ভাস্কর্য নির্মাণ করছেন ভারতীয় শিল্পী সুদর্শন পট্টনায়ক। নিচের ছবিতে দুই দলের দুই বড় ভরসা লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। ছবি: এএফপি

ফুটবল মাঝে মাঝে এমন গল্প লেখে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে কোলে নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই শিশুটিই আজকের লামিনে ইয়ামাল। প্রায় দুই দশক পর বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন দুজন—একজন সর্বকালের অন্যতম সেরা, অন্যজনকে ধরা হচ্ছে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় তারকা।

নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে আজকের ফাইনাল তাই শুধু আর্জেন্টিনা-স্পেনের লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মের প্রতীকী দ্বৈরথও। ৩৯ বছর বয়সী মেসি নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করতে নামছেন, আর সদ্য ১৯ বছরে পা দেওয়া ইয়ামাল চাইবেন নতুন এক যুগের সূচনা করতে।

এবারের বিশ্বকাপে মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন, বয়স তাঁর প্রতিভাকে স্পর্শ করতে পারেনি। গোল করেছেন, করিয়েছেন, কঠিন মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলেছেন ফাইনালে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ও টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জিতে ইতিহাসের অনন্য উচ্চতায় ওঠার সুযোগ এখন তাঁর সামনে। আগের মতো প্রতি মুহূর্তে ড্রিবলিং না করলেও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস এবং বড় ম্যাচে সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার ক্ষমতায় তিনি এখনো অতুলনীয়।

ইয়ামালের বিশ্বকাপটা পরিসংখ্যানে খুব উজ্জ্বল নয়। সাত ম্যাচে তাঁর গোল মাত্র একটি, অ্যাসিস্ট নেই। তবে সেই সংখ্যা পুরো গল্প বলে না। এপ্রিলে চোট পাওয়ার পর ৫৪ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে তাঁকে খেলতে হচ্ছে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ভূমিকায়, যেখানে আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও রাখতে হচ্ছে সমান অবদান। ফলে গোল-অ্যাসিস্ট কম হলেও স্পেনের দলীয় খেলায় তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

তবে ইয়ামালকে ঘিরে আলোচনার কারণ শুধু এই বিশ্বকাপ নয়। ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বার্সেলোনার হয়ে ১৫১টি ম্যাচে ৪৯ গোল করেছেন। একই বয়সে মেসির ম্যাচ ছিল মাত্র ৩২টি, গোল ৯টি। দুটি লা লিগা শিরোপার পাশাপাশি ইউরো ২০২৪ জয়ে স্পেনের অন্যতম নায়কও তিনি। তাই অনেকের চোখে তিনিই ফুটবলের পরবর্তী মহাতারকা।

তবে উত্তরাধিকার কখনো পরিসংখ্যান দিয়ে নির্ধারিত হয় না; সেটি ঠিক হয় সবচেয়ে বড় মঞ্চে। আর বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়ে বড় মঞ্চ আর নেই। সেই মঞ্চে লড়াই শুরুর আগে ইয়ামালকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মেসিও। তাঁর ভাষায়, ‘মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। সামনে তার ইতিহাস গড়ার সুযোগ আছে। তবে আমরা চেষ্টা করব, সেটা যেন এবার না হয়।’ শৈশবের সেই ছবির প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘ছবিটা অবিশ্বাস্য। তখন সে শিশু ছিল, আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে আমরা প্রতিপক্ষ।’

একই সঙ্গে ইয়ামালের প্রতি শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি, ‘সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি তার সাফল্য কামনা করি, কারণ তার সাফল্য বার্সেলোনারও সাফল্য। তবে ফাইনালে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব, যেন সে নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারে। যদিও সেটা করা সহজ হবে না।’

নিউজার্সির ফাইনালে কে জিতবেন, সেটি সময়ই বলবে। কিন্তু এই ফাইনালে ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হবে দুই প্রজন্মের দুই তারকার অনন্য এক মহারণের।

বিষয় : ফুটবল আর্জেন্টিনা ফুটবল ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ লিওনেল মেসি ফুটবল বিশ্বকাপ ছাপা সংস্করণ ফাইনাল স্পেন ফুটবল

আপনার মতামত লিখুন

Bengali Journal

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


ফাইনালের লড়াইটা মেসি-ইয়ামালেরও

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফুটবল মাঝে মাঝে এমন গল্প লেখে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে কোলে নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই শিশুটিই আজকের লামিনে ইয়ামাল। প্রায় দুই দশক পর বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন দুজন—একজন সর্বকালের অন্যতম সেরা, অন্যজনকে ধরা হচ্ছে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় তারকা।

নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে আজকের ফাইনাল তাই শুধু আর্জেন্টিনা-স্পেনের লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মের প্রতীকী দ্বৈরথও। ৩৯ বছর বয়সী মেসি নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করতে নামছেন, আর সদ্য ১৯ বছরে পা দেওয়া ইয়ামাল চাইবেন নতুন এক যুগের সূচনা করতে।

এবারের বিশ্বকাপে মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন, বয়স তাঁর প্রতিভাকে স্পর্শ করতে পারেনি। গোল করেছেন, করিয়েছেন, কঠিন মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলেছেন ফাইনালে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ও টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জিতে ইতিহাসের অনন্য উচ্চতায় ওঠার সুযোগ এখন তাঁর সামনে। আগের মতো প্রতি মুহূর্তে ড্রিবলিং না করলেও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস এবং বড় ম্যাচে সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার ক্ষমতায় তিনি এখনো অতুলনীয়।

ইয়ামালের বিশ্বকাপটা পরিসংখ্যানে খুব উজ্জ্বল নয়। সাত ম্যাচে তাঁর গোল মাত্র একটি, অ্যাসিস্ট নেই। তবে সেই সংখ্যা পুরো গল্প বলে না। এপ্রিলে চোট পাওয়ার পর ৫৪ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে তাঁকে খেলতে হচ্ছে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ভূমিকায়, যেখানে আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও রাখতে হচ্ছে সমান অবদান। ফলে গোল-অ্যাসিস্ট কম হলেও স্পেনের দলীয় খেলায় তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

তবে ইয়ামালকে ঘিরে আলোচনার কারণ শুধু এই বিশ্বকাপ নয়। ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বার্সেলোনার হয়ে ১৫১টি ম্যাচে ৪৯ গোল করেছেন। একই বয়সে মেসির ম্যাচ ছিল মাত্র ৩২টি, গোল ৯টি। দুটি লা লিগা শিরোপার পাশাপাশি ইউরো ২০২৪ জয়ে স্পেনের অন্যতম নায়কও তিনি। তাই অনেকের চোখে তিনিই ফুটবলের পরবর্তী মহাতারকা।

তবে উত্তরাধিকার কখনো পরিসংখ্যান দিয়ে নির্ধারিত হয় না; সেটি ঠিক হয় সবচেয়ে বড় মঞ্চে। আর বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়ে বড় মঞ্চ আর নেই। সেই মঞ্চে লড়াই শুরুর আগে ইয়ামালকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মেসিও। তাঁর ভাষায়, ‘মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। সামনে তার ইতিহাস গড়ার সুযোগ আছে। তবে আমরা চেষ্টা করব, সেটা যেন এবার না হয়।’ শৈশবের সেই ছবির প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘ছবিটা অবিশ্বাস্য। তখন সে শিশু ছিল, আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে আমরা প্রতিপক্ষ।’

একই সঙ্গে ইয়ামালের প্রতি শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি, ‘সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি তার সাফল্য কামনা করি, কারণ তার সাফল্য বার্সেলোনারও সাফল্য। তবে ফাইনালে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব, যেন সে নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারে। যদিও সেটা করা সহজ হবে না।’

নিউজার্সির ফাইনালে কে জিতবেন, সেটি সময়ই বলবে। কিন্তু এই ফাইনালে ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হবে দুই প্রজন্মের দুই তারকার অনন্য এক মহারণের।


Bengali Journal

প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
Copyright © 2026 Bengali Journal
ফাইনালের লড়াইটা মেসি-ইয়ামালেরও
0:00 0:00
1.0x