নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রোববার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ব্রাজিল। তবে এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। ক্লাব ফুটবলের সেই তিক্ততা এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে গড়াতে যাচ্ছে।
ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘রকএম সকএম রোবট’ নামে একটি খেলনা জনপ্রিয় ছিল। একটি ছোট বক্সিং রিংয়ে লাল ও নীল রঙের দুটি রোবট একে অপরের মুখোমুখি হতো। বর্তমান ফুটবলে হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের লড়াই অনেকটা সেই যান্ত্রিক যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়।
নরওয়ের স্ট্রাইকার হালান্ড এবং ব্রাজিলের রক্ষণভাগের গ্যাব্রিয়েল দুজনেই প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। শারীরিক শক্তি, আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং বাম পায়ে খেলার ক্ষমতার দিক থেকে তাদের মধ্যে দারুণ মিল রয়েছে। তারা দুজনেই নিজ সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রতিপক্ষের কাছে অপছন্দের পাত্র।
তাদের এই ব্যক্তিগত লড়াই শুরু হয় ২০২২ সালের জুলাইয়ে হালান্ড ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে সিটি-আর্সেনাল ম্যাচে হালান্ড একটি গোল করেন এবং ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় সিটি। সেই ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল হালান্ডকে টেনে ধরার কারণে সিটির পেনাল্টি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনভিনিসিয়ুস নাকি হালান্ড, কে এগিয়ে?
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে এই দুই খেলোয়াড়ের দ্বৈরথ চরমে পৌঁছায়। শেষ মুহূর্তে স্টোন্সের সমতাসূচক গোলের পর হালান্ড বল নিয়ে গ্যাব্রিয়েলের মাথার পেছনে ছুড়ে মারেন। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতাকে ‘বিনয়ী থাকো’ (স্টে হাম্বল) বলে উসকানি দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।
ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘সেটি ছিল কাপুরুষোচিত কাজ।’ তবে গ্যাব্রিয়েল বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। তিনি টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিলকে বলেন, ‘এটি স্বাভাবিক। এটি একটি লড়াই, একটি যুদ্ধ। ফুটবলে একে অপরকে উসকানি দেওয়া খেলারই অংশ।’
ফিরতি ম্যাচে আর্সেনাল ৫-১ গোলে সিটিকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয়। সেই ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল সরাসরি হালান্ডের সামনে গিয়ে উদযাপন করেন। পরে একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘দল গোল করার পর আমি সরাসরি তার কানে গিয়ে চিৎকার করছিলাম।’
প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত তারা আটবার মুখোমুখি হয়েছেন। মাঠে একসঙ্গে ৭০৬ মিনিটে কাটিয়েছেন তারা। এই দুজনের মধ্যে ২৬ বার ডুয়েলে ১৬ বার জয়ী হয়েছেন হালান্ড। গ্যাব্রিয়েল তাকে চারবার ফাউল করেছেন এবং হালান্ড করেছেন তিনবার।
গত এপ্রিলে ম্যানচেস্টারের ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের বিরুদ্ধে টেনে ধরার অভিযোগ করেন হালান্ড। তবে রেফারি অ্যান্থনি টেইলর সেটি নাকচ করে বলেন, ‘তোমরা দুজনেই একে অপরকে ধরে আছ।’ সেই ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের টানাটানিতে হালান্ডের জার্সি ছিঁড়ে যাওয়ার দৃশ্যটিও ছিল স্মরণীয়। ম্যাচের শেষ দিকে তারা একে অপরকে মাথা দিয়ে আঘাত করার উপক্রম করেছিলেন।
হালান্ড পরে বলেন, ‘আমি যদি পড়ে যেতাম, তবে সেটি লাল কার্ড হতো। আমি কখনোই এটি করব না। আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছেন সব সময় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এবং কাপুরুষ হওয়া যাবে না।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনবাবাদের কাছ থেকে ব্রাজিল জয়ের যে গল্প জেনে নিতে পারেন হালান্ডরা
তবে মাঠের এই তিক্ততার বাইরে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা রয়েছে। অনেক সময় তাদের কোলাকুলি করতে বা কৌতুক বিনিময় করতেও দেখা যায়। গ্যাব্রিয়েল এক পডকাস্টে হালান্ডকে কৌতুক করে ‘ওই বদমাশটা’ বলে অভিহিত করলেও তার বিপক্ষে খেলাটা উপভোগ করেন বলে জানিয়েছেন। হালান্ডও বলেন, ‘এটি সব সময় একটি দারুণ চ্যালেঞ্জ।’
আজকের ম্যাচে এই দুই খেলোয়াড় নিজ নিজ দেশের জন্য অপরিহার্য। হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের মধ্যকার এই ব্যক্তিগত দ্বৈরথে যে জয়ী হবে, তার দলের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে। অন্যদিকে নিরপেক্ষ দর্শকদের জন্য এই ম্যাচটি হবে টানটান উত্তেজনাকর এক প্রদর্শনী।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রোববার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ব্রাজিল। তবে এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। ক্লাব ফুটবলের সেই তিক্ততা এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে গড়াতে যাচ্ছে।
ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘রকএম সকএম রোবট’ নামে একটি খেলনা জনপ্রিয় ছিল। একটি ছোট বক্সিং রিংয়ে লাল ও নীল রঙের দুটি রোবট একে অপরের মুখোমুখি হতো। বর্তমান ফুটবলে হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের লড়াই অনেকটা সেই যান্ত্রিক যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়।
নরওয়ের স্ট্রাইকার হালান্ড এবং ব্রাজিলের রক্ষণভাগের গ্যাব্রিয়েল দুজনেই প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। শারীরিক শক্তি, আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং বাম পায়ে খেলার ক্ষমতার দিক থেকে তাদের মধ্যে দারুণ মিল রয়েছে। তারা দুজনেই নিজ সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রতিপক্ষের কাছে অপছন্দের পাত্র।
তাদের এই ব্যক্তিগত লড়াই শুরু হয় ২০২২ সালের জুলাইয়ে হালান্ড ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে সিটি-আর্সেনাল ম্যাচে হালান্ড একটি গোল করেন এবং ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় সিটি। সেই ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল হালান্ডকে টেনে ধরার কারণে সিটির পেনাল্টি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনভিনিসিয়ুস নাকি হালান্ড, কে এগিয়ে?
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে এই দুই খেলোয়াড়ের দ্বৈরথ চরমে পৌঁছায়। শেষ মুহূর্তে স্টোন্সের সমতাসূচক গোলের পর হালান্ড বল নিয়ে গ্যাব্রিয়েলের মাথার পেছনে ছুড়ে মারেন। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতাকে ‘বিনয়ী থাকো’ (স্টে হাম্বল) বলে উসকানি দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।
ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘সেটি ছিল কাপুরুষোচিত কাজ।’ তবে গ্যাব্রিয়েল বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। তিনি টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিলকে বলেন, ‘এটি স্বাভাবিক। এটি একটি লড়াই, একটি যুদ্ধ। ফুটবলে একে অপরকে উসকানি দেওয়া খেলারই অংশ।’
ফিরতি ম্যাচে আর্সেনাল ৫-১ গোলে সিটিকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয়। সেই ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল সরাসরি হালান্ডের সামনে গিয়ে উদযাপন করেন। পরে একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘দল গোল করার পর আমি সরাসরি তার কানে গিয়ে চিৎকার করছিলাম।’
প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত তারা আটবার মুখোমুখি হয়েছেন। মাঠে একসঙ্গে ৭০৬ মিনিটে কাটিয়েছেন তারা। এই দুজনের মধ্যে ২৬ বার ডুয়েলে ১৬ বার জয়ী হয়েছেন হালান্ড। গ্যাব্রিয়েল তাকে চারবার ফাউল করেছেন এবং হালান্ড করেছেন তিনবার।
গত এপ্রিলে ম্যানচেস্টারের ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের বিরুদ্ধে টেনে ধরার অভিযোগ করেন হালান্ড। তবে রেফারি অ্যান্থনি টেইলর সেটি নাকচ করে বলেন, ‘তোমরা দুজনেই একে অপরকে ধরে আছ।’ সেই ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের টানাটানিতে হালান্ডের জার্সি ছিঁড়ে যাওয়ার দৃশ্যটিও ছিল স্মরণীয়। ম্যাচের শেষ দিকে তারা একে অপরকে মাথা দিয়ে আঘাত করার উপক্রম করেছিলেন।
হালান্ড পরে বলেন, ‘আমি যদি পড়ে যেতাম, তবে সেটি লাল কার্ড হতো। আমি কখনোই এটি করব না। আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছেন সব সময় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এবং কাপুরুষ হওয়া যাবে না।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনবাবাদের কাছ থেকে ব্রাজিল জয়ের যে গল্প জেনে নিতে পারেন হালান্ডরা
তবে মাঠের এই তিক্ততার বাইরে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা রয়েছে। অনেক সময় তাদের কোলাকুলি করতে বা কৌতুক বিনিময় করতেও দেখা যায়। গ্যাব্রিয়েল এক পডকাস্টে হালান্ডকে কৌতুক করে ‘ওই বদমাশটা’ বলে অভিহিত করলেও তার বিপক্ষে খেলাটা উপভোগ করেন বলে জানিয়েছেন। হালান্ডও বলেন, ‘এটি সব সময় একটি দারুণ চ্যালেঞ্জ।’
আজকের ম্যাচে এই দুই খেলোয়াড় নিজ নিজ দেশের জন্য অপরিহার্য। হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের মধ্যকার এই ব্যক্তিগত দ্বৈরথে যে জয়ী হবে, তার দলের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে। অন্যদিকে নিরপেক্ষ দর্শকদের জন্য এই ম্যাচটি হবে টানটান উত্তেজনাকর এক প্রদর্শনী।

আপনার মতামত লিখুন