রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য এবং সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়, সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেন এক প্রকার 'অঘোষিত চ্যালেঞ্জ' ছুড়ে দিয়েছেন। গতকালের তথ্য বলছে, দেশের ৪৬টি জেলায় অন্তত ৭৪টি মিছিল ও শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে দলের সবচেয়ে বড় মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা। আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর গোপন নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করে এমন তথ্যই উঠে এসেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা দলবেঁধে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।
দলটির মূল ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, কোনো বড় সমাবেশ নয়, বরং কেক কাটা অনুষ্ঠান এবং 'ঝটিকা মিছিল' কৌশলে নেতাকর্মীরা দ্রুত রাজপথে জড়ো হচ্ছেন, দলের পতাকা উড়াচ্ছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, সুশৃঙ্খলভাবে মিছিল শেষ করার পরপরই তারা নিরাপদ অবস্থানে সরে যাচ্ছেন, যা তাদের নতুন কৌশলগত পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়। গত কয়েকদিনের সরকারি কড়াকড়ির মধ্যেও ৪৬ জেলায় ৭৪টি মিছিল করার এই সংখ্যাটি প্রমাণ করে যে, দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে বরং তা এখন ভূগর্ভস্থ বা গোপন নেটওয়ার্কে সক্রিয় রয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি যখন তুঙ্গে, তখন ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে এই বড় মাপের শোডাউনগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অটুট আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গতকাল সারা দেশে ২৩ জুনের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। ঢাকায় অন্তত ২৬ জন কর্মীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কয়েকজনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও, মাঠপর্যায়ে ছাত্রলীগের ব্যানারে অর্ধশতাধিক এবং যুবলীগের মোটরসাইকেল শোডাউনের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, কঠোর দমননীতি সত্ত্বেও দলটি রাজপথের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে হারায়নি। বিশেষ করে ফটিকছড়ি বা আমিনপুরের মতো অঞ্চলে যেভাবে উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এখন নিজস্ব পরিকল্পনায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
এদিকে, এই মিছিলগুলোকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী জোট ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ৪৬ জেলায় ৭৪টি মিছিল কেবল দলের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার বাইরেও আগামী দিনের বৃহত্তর আন্দোলনের একটি প্রস্তুতি পর্ব হতে পারে। বেঙ্গলি জার্নালের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই মিছিলের ভিডিওগুলো যাচাই-বাছাই করছে এবং এটি বুঝতে চেষ্টা করছে যে, সরকারের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কীভাবে এতগুলো জেলায় একইসাথে কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হলো।
বিষয় : আওয়ামীলীগ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য এবং সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়, সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেন এক প্রকার 'অঘোষিত চ্যালেঞ্জ' ছুড়ে দিয়েছেন। গতকালের তথ্য বলছে, দেশের ৪৬টি জেলায় অন্তত ৭৪টি মিছিল ও শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে দলের সবচেয়ে বড় মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা। আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর গোপন নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করে এমন তথ্যই উঠে এসেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা দলবেঁধে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।
দলটির মূল ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, কোনো বড় সমাবেশ নয়, বরং কেক কাটা অনুষ্ঠান এবং 'ঝটিকা মিছিল' কৌশলে নেতাকর্মীরা দ্রুত রাজপথে জড়ো হচ্ছেন, দলের পতাকা উড়াচ্ছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, সুশৃঙ্খলভাবে মিছিল শেষ করার পরপরই তারা নিরাপদ অবস্থানে সরে যাচ্ছেন, যা তাদের নতুন কৌশলগত পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়। গত কয়েকদিনের সরকারি কড়াকড়ির মধ্যেও ৪৬ জেলায় ৭৪টি মিছিল করার এই সংখ্যাটি প্রমাণ করে যে, দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে বরং তা এখন ভূগর্ভস্থ বা গোপন নেটওয়ার্কে সক্রিয় রয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি যখন তুঙ্গে, তখন ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে এই বড় মাপের শোডাউনগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অটুট আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গতকাল সারা দেশে ২৩ জুনের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। ঢাকায় অন্তত ২৬ জন কর্মীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কয়েকজনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও, মাঠপর্যায়ে ছাত্রলীগের ব্যানারে অর্ধশতাধিক এবং যুবলীগের মোটরসাইকেল শোডাউনের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, কঠোর দমননীতি সত্ত্বেও দলটি রাজপথের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে হারায়নি। বিশেষ করে ফটিকছড়ি বা আমিনপুরের মতো অঞ্চলে যেভাবে উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এখন নিজস্ব পরিকল্পনায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
এদিকে, এই মিছিলগুলোকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী জোট ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ৪৬ জেলায় ৭৪টি মিছিল কেবল দলের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার বাইরেও আগামী দিনের বৃহত্তর আন্দোলনের একটি প্রস্তুতি পর্ব হতে পারে। বেঙ্গলি জার্নালের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই মিছিলের ভিডিওগুলো যাচাই-বাছাই করছে এবং এটি বুঝতে চেষ্টা করছে যে, সরকারের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কীভাবে এতগুলো জেলায় একইসাথে কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হলো।

আপনার মতামত লিখুন