প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
ধর্ষণের কথা স্বীকারের পরও মাত্র ৫০ হাজার টাকা ও কিল-ঘুষিতে মুক্তি! নান্দাইলে সালিশের নামে মধ্যযুগীয় প্রহসন, ধর্ষককে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ
||
দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ধর্ষণের মতো এক জঘন্যতম ও অমার্জনীয় ফৌজদারি অপরাধকে ধামাচাপা দিতে সালিশের নামে এক মধ্যযুগীয় প্রহসন ও ন্যাক্কারজনক সালিশি বিচারের ঘটনা ঘটেছে। নান্দাইল উপজেলার স্থানীয় এক গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে অভিযুক্ত ধর্ষককে হাত বেঁধে এক সালিশী বৈঠকে উপস্থিত করা হয়, যেখানে এলাকার প্রভাবশালী মাতব্বরেরা এক ঘরে বসে বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সালিশ চলাকালীন সময়ে উপস্থিত সবার সামনে যখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট ও পৈশাচিক অভিযোগটি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তখন অভিযুক্ত ধর্ষক সবার সামনে নিজ মুখে ধর্ষণের লোমহর্ষক সত্যতা স্বীকার করে নেয়। ঘটনার ভয়াবহতা ও সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর যেখানে দেশের কঠোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী সরাসরি পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, সেখানে উপস্থিত মাতব্বরেরা অপরাধীর কেবল একটি মৌখিক ক্ষমা এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবে না মর্মে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতেই সন্তুষ্ট হন। এরপর চূড়ান্ত রায় হিসেবে ধর্ষককে নামমাত্র কয়েকটি কিল-ঘুষি এবং মাত্র ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা আর্থিক জরিমানার মতো এক অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর শাস্তি ঘোষণা করে ঘটনাটি সেখানেই রফাদফা করে দেওয়া হয়, যা পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের বারুদ জ্বালিয়ে দিয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল এবং দেশের আইনি বিশেষজ্ঞরা এই তথাকথিত বিচারকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলছেন, ধর্ষণের মতো একটি জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য গুরুতর ফৌজদারি অপরাধকে টাকা এবং কিল-ঘুষির বিনিময়ে রফাদফা করার এই প্রক্রিয়া মূলত সমাজে অপরাধ ও অপরাধীদের আরও বড় ধরণের উৎসাহ দেওয়ার এক নগ্ন ও ভয়ঙ্কর ফাঁদ। মাতব্বরদের এই অর্থহীন ও সস্তা বিচারের মাধ্যমে প্রকারান্তরে ধর্ষককে এবং সমাজের অন্যান্য সুপ্ত অপরাধীদের এই বার্তাই দেওয়া হলো যে—যেকোনো বড় অপরাধ করে কেবল কিছু টাকা আর ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমেই পার পাওয়া সম্ভব, যা ভুক্তভোগী নারীর জন্য এক চরম সামাজিক অপমান ও মানবাধিকারের নগ্ন লঙ্ঘন। ঘটনার ভিডিও এবং খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই অবৈধ ও প্রহসনের সালিশ আয়োজনকারী মাতব্বর এবং নিজ মুখে অপরাধ স্বীকার করা ধর্ষককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত ট্রাইব্যুনালে বিচারের জোর দাবি তুলেছেন। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ অপরাধ, মানবাধিকার ও আইনি অনুসন্ধান উইং ময়মনসিংহের নান্দাইলে ঘটে যাওয়া এই ধর্ষণের সাজানো সালিশের পেছনের মূল হোতা ও মাতব্বরদের আসল পরিচয়, স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি নিরাপত্তার প্রতিটি খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal