প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
“পাকিস্তান ভেঙেছি, স্বাধীনতা এনেছি; সেই কারণেই আমাকে সাজা দেওয়া হলো!” - হাসানুল হক ইনু
||
জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ৬ জনকে নৃশংস হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুতর মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর, আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে এক নতুন মেগা রাজনৈতিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক রায় শেষে প্রিজন ভ্যানে ওঠার মুহূর্তে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও জনতার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও মারমুখী কণ্ঠে নিজের রাজনৈতিক জীবনের চূড়ান্ত ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে এই প্রবীণ বাম নেতা স্পষ্ট ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “পাকিস্তান ভেঙেছি, স্বাধীনতা এনেছি; সেই কারণে আমাকে সাজা দেওয়া হলো।” ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক এবং রণাঙ্গনের এক সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধার মুখ থেকে আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে এমন মরণজয়ী ও তীব্র রাজনৈতিক ওলট-পালট করা দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পুরো দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে এক নজিরবিহীন তোলপাড় ও মেগা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ১, ২, ৪, ৫ এবং ৮ নম্বর অভিযোগে বিজ্ঞ আদালত তাঁকে সম্পূর্ণ খালাস দিলেও, বাকি তিনটি গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এই ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোনো হেভিওয়েট বাম নেতার বিরুদ্ধে আসা প্রথম কোনো বড় আইনি ধাক্কা।একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর এই সাজা এবং ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তাঁর এই ঐতিহাসিক আর্তনাদকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা অত্যন্ত মিশ্র ও সংবেদনশীল চোখে দেখছেন। এই বিষয়ে জাসদ নেতার এই সাজাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলো কোন দৃষ্টিতে দেখছে তা জানতে চাওয়া হলে, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনের এই অন্তিম সময়ে এমন নির্মম অবস্থা আমরা কোনোভাবেই প্রত্যাশা করিনি; আমরা ইনু ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি, তিনি একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ এবং একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তিনি কীভাবে এই বয়সে কুষ্টিয়ায় গিয়ে লোক হত্যা করতে পারেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।” দেশের সচেতন সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, একাত্তরের পাকিস্তান ভাঙার কারিগর ও স্বাধীনতার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টাকে এভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সাজা দেওয়া মূলত স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্রপন্থী চক্রের একটি সুদূরপ্রসারী মনস্তাত্ত্বিক বিজয়, যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকেই এক প্রকার প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে বিপরীত মেরুতে থাকা জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অতীতে কেউ মুক্তিযোদ্ধা থাকলেও ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে জনগণের ওপর বুলেটের নির্দেশ দিলে আইনের হাত থেকে তাঁর রেহাই নেই।একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মলগ্নের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার এমন নাটকীয় কারাদণ্ড এবং আদালত প্রাঙ্গণে দেওয়া তাঁর এই বিস্ফোরক জবানবন্দি আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ ও আইনি পরিমণ্ডলকে এক নতুন সংঘাত ও মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খোদ মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, আইনি মারপ্যাঁচে অপরাধ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হলেও, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এই বয়সে কাস্টডিতে পাঠানো দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য এক বড় ক্ষত হয়ে থাকবে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ আইনি, জাতীয় ও রাজনৈতিক উইং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসানুল হক ইনুর এই ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়, উচ্চ আদালতে তাঁর আইনজীবীদের পরবর্তী আপিল আবেদন এবং এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতরে দানা বেঁধে ওঠা তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিমুহূর্তের খবরাখবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal