প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
“জনগণের রক্ত জল করা টাকায় থাইল্যান্ডে আয়েশী চিকিৎসা: ইউনুস সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেনের ৮২ লাখ টাকার রাষ্ট্রীয় বিলাসিতা!”
||
দেশের সাধারণ মানুষ যখন তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম আর ভাঙাচোরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে হাহাকার করছে, ঠিক তখনই অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা এবং হেফাজতে ইসলামের সাবেক নায়েবে আমির আ ফ ম খালিদ হোসেনের এক অবিশ্বাস্য ও অনৈতিক আর্থিক খতিয়ান জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে, যা দেশের বিবেকবান সমাজকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তব্ধ করে দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জাতীয় গণমাধ্যম ‘আগামীর সময়’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাত্র আঠারো মাসের দায়িত্বকালীন সময়ে বিদেশে নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসার নাম করে সরকারি কোষাগার থেকে সুকৌশলে ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা (প্রায় ৮২ লাখ টাকা) তুলে নিয়েছেন এই বিতর্কিত সাবেক উপদেষ্টা। হৃদরোগের চিকিৎসার অছিলায় থাইল্যান্ডের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও বিলাসবহুল হাসপাতালে আয়েশ করার এই বিশাল অংকের বিল সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে মেটানো হয়েছে, যা একসময়ের নীতি ও সততার বুলি আওড়ানো এই ধর্মীয় নেতার চরম সুবিধাবাদ ও নৈতিক স্খলনের কদর্য রূপকেই হাতেনাতে প্রমাণ করে। দেশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা যখন রক্ত দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, তখন ক্ষমতার মসনদে বসে ধর্মের দোহাই দেওয়া আ ফ ম খালিদ হোসেনের এমন লাগামহীন অর্থ অপচয় ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের হরিলুটকে বৈষম্যবিরোধী চেতনার মুখে এক মস্ত বড় চপেটাঘাত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।সবচেয়ে বড় স্ববিরোধিতা ও ধূর্ততার বিষয় হলো, আ ফ ম খালিদ হোসেন ও তাঁর সমমনা গোষ্ঠী সবসময় পশ্চিমা বা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সমালোচনা করে এবং সাধারণ মানুষকে দেশীয় আলেম সমাজ ও দেশীয় ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখার নসিহত দেয়, অথচ নিজের সামান্য হৃদরোগের চিকিৎসার প্রয়োজন হতেই তিনি দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে লাথি মেরে সোজা পাড়ি জমান ব্যাংককের বিলাসবহুল হাসপাতালে। বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ যখন হৃদরোগের চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে, তখন একজন তথাকথিত ‘জনগণের সেবক’ বা উপদেষ্টা কোন নৈতিকতার ভিত্তিতে সরকারি কোষাগার থেকে ৮২ লাখ টাকা একা হজম করেন, সেই প্রশ্ন এখন পুরো দেশ জুড়ে তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে। আঠারো মাসের ঠুনকো মেয়াদে এই পর্বতসম বিল তোলার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, স্বৈরাচারের পতন হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা আ ফ ম খালিদ হোসেনের মতো হাইব্রিড ও সুবিধাবাদী শাসকরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার ও নিজেদের ভোগবিলাসের হাতিয়ার হিসেবেই ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষ ক্ষোভের সাথে বলছেন, মুখে লম্বা লম্বা নীতি কথা আর পেটে পেটে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে নেওয়ার এই জঘন্য সংস্কৃতি এককালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে এক চরমতম বেইমানি ছাড়া আর কিছুই নয়। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ অনুসন্ধানী ও রাজনৈতিক ডেস্ক সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা খালিদের এই মেগা চিকিৎসা বিলের অন্তরালের আমলাতান্ত্রিক আঁতাত, তাঁর ব্যাংকক সফরের আদ্যোপান্ত এবং ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে জনগণের অর্থ অপচয়ের প্রতিটি চাঞ্চল্যকর নথিপত্র অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal