প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত বর্তমানে ভারতের স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।
সুব্রত অধিকারী , কলকাতা প্রতিনিধি ||
মেধা ও মননশীলতা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় বা সাময়িক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফ্রেমে বন্দি করে রাখা যায় না—বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই তার আলো ছড়িয়ে পড়ে, এই চিরন্তন সত্যটি আরও একবার প্রমাণিত হলো দেশবরেণ্য নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের মাধ্যমে। বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম এই উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সফল উপাচার্য বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরার একটি স্বনামধন্য উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁর অর্জিত বিপুল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিচ্ছেন। সম্প্রতি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সকলের নজরে আসে, যেখানে এই মহান চিকিৎসককে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়সমূহ তরুণ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে দেখা গেছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে অসামান্য ও যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ পাওয়া এই মহান ব্যক্তিত্বকে দেশের পটপরিবর্তন ও কিছু কুচক্রী মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হলেও, আন্তর্জাতিক অঙ্গন তাঁর মেধার মূল্যায়ন করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই একাডেমিক ভিডিওতে দেখা যায়, ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের একটি সুসজ্জিত ডিজিটাল ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিষয়ের ওপর অত্যন্ত সাবলীল ও প্রাণবন্ত পাঠদান করছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। কলেজটির প্রশাসনিক সূত্র ও স্টাফ নার্সরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে নিশ্চিত করেছেন যে, এই বিশ্বমানের চিকিৎসক নিয়মিত সেখানে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের যোগ্য করে গড়ে তোলার মহান ব্রতে লিপ্ত রয়েছেন। বাংলাদেশের মাটিতে কিছু সুবিধাবাদী ও কুচক্রী মহলের সংকীর্ণ মানসিকতা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতার বেড়াজালে ফেলে এই অমূল্য রত্নকে দেশসেবা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হলেও, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত তাঁর এই পর্বতসম অভিজ্ঞতা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে লুফে নিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানবসেবার মতো একটি পবিত্রতম পেশাকে যারা সংকীর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণে মেলাতে চেয়েছিলেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় বার্তা যে, সত্যিকারের যোগ্য শিক্ষক ও চিকিৎসকের কদর দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে।অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কেবল একজন প্রথিতযশা চিকিৎসকই নন, তিনি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবেও অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবসময় জনগণের মৌলিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে গেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বৈরি পরিবেশ ও মিথ্যা মামলার বেড়াজালে পলিটিক্যাল প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে সাময়িকভাবে আড়ালে যেতে হলেও, তাঁর মতো একজন কিংবদন্তি শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসককে হারানো বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। সচেতন সমাজ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ যখন তার এই রত্নকে যথাযথ সম্মান ও কাজের পরিবেশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন বিশ্বমঞ্চ তাঁর মেধার সঠিক মূল্যায়ন করে প্রমাণ করেছে যে প্রকৃত গুণীজন সর্বত্রই পূজনীয়। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ আন্তর্জাতিক ও শিক্ষা ডেস্ক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের এই গৌরবময় একাডেমিক পথচলা, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা অঙ্গনে তাঁর নতুন ভূমিকা এবং বাংলাদেশের গৌরব হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তাঁর প্রতিমুহূর্তের অবদান অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও শ্রদ্ধাভরে তুলে ধরছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal