প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক!’: কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নীতিনির্ধারণী মহলে জোর আলোচনা
সঞ্জিব রায়, লন্ডন প্রতিনিধি ||
বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু যুক্তরাজ্যের (যুক্তরাজ্য) ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের ক্ষমতার মসনদ ঘিরে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নাটকীয় পদত্যাগের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের শীর্ষ তালিকায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে এক বাঙালি কন্যার নাম; তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার সুযোগ্য কন্যা টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে প্রথম সারির বাঙালি মুখ হিসেবে পরিচিত এই শীর্ষ নারী নেত্রীকে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে বর্তমানে জোর আলোচনা ও রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। এই খবরটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এবং বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি বাঙালির মাঝে এক অভূতপূর্ব গৌরব ও চরম উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে নিজের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তিনি ২০১৫ সালের ব্রিটিশ সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন’ (বর্তমান নাম হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট) আসন থেকে প্রথমবারের মতো লেবার পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই আসন থেকে টানা লেবার পার্টির এমপি হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সফলতাই নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবেও এক বড় স্বীকৃতি। ইতিপূর্বে তিনি যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি সরকারের ছায়া অর্থ প্রতিমন্ত্রী (শ্যাডো সিটি মিনিস্টার) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে লেবার পার্টির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'অ্যান্টি-করাপশন' বা দুর্নীতি বিরোধী প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও নিযুক্ত হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।লন্ডনের নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির ভেতর এমন এক স্বচ্ছ, দূরদর্শী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের খোঁজ করা হচ্ছে, যিনি বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে দল ও দেশকে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এই পরিস্থিতিতে টিউলিপ সিদ্দিকের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, অভিজ্ঞতা এবং দুর্নীতিবিরোধী শক্ত অবস্থানের কারণে দলের একটি বড় অংশ এবং শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা এই প্রভাবশালী বাঙালি কন্যার পক্ষে সাফাই গাইছেন। যদি এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে, তবে তা হবে ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও বাঙালি নারীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ আন্তর্জাতিক ডেস্ক, লন্ডন ব্যুরো ও কূটনৈতিক উইং ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের এই মেগা রেস, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটি এবং টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া ও প্রতিমুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal