প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
রাজবাড়ীর কৃষকরা পিঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ফেলেছে, অথচ এমপি ব্যাস্ত সংসদে বসে তারেক রহমান ও বিএনপি পরিবারের বন্দনায়।
||
মাঠের পর মাঠ জুড়ে কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা হাড়ভাঙা পরিশ্রম, বুকভরা আশা নিয়ে ফলানো সোনার ফসল, অথচ বাজারের নির্মম বাস্তবতায় আজ সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে ক্ষোভে-দুঃখে নদীতে ফেলে দিচ্ছেন রাজবাড়ীর অসহায় কৃষকেরা। রাজবাড়ীর হাট-বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম না পেয়ে লাখ লাখ চাষির ঘরে আজ চলছে চরম কান্নার রোল ও হাহাকার। কিন্তু মাঠপর্যায়ের কৃষকদের এই মরণপণ সংকট যখন চরমে, তখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার মানুষের এই প্রধানতম দুঃখের কথা এড়িয়ে রাজনৈতিক বন্দনায় মেতে উঠেছেন বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে রাজবাড়ী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) হারুন অর রশিদ তাঁর নির্ধারিত ৮ মিনিটের বক্তব্যের মধ্যে দীর্ঘ ৬ মিনিটই ব্যয় করেছেন বিএনপি পরিবার ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে সাফাই গাইতে এবং রাজনৈতিক গুণগানে। এলাকার অসহায় কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার মৌলিক অধিকারের কথা না বলে, বক্তব্যের সিংহভাগ সময় রাজনৈতিক প্রশংসায় কাটিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় কৃষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজবাড়ীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে জুটেছে কেবলই লোকসানের বোঝা। কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা। অথচ বর্তমান বাজারে সেই পেঁয়াজ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম মিলছে মাত্র ১৭ থেকে ২০ টাকা! হাটে পেঁয়াজ নিয়ে গিয়ে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামও না পেয়ে কৃষকেরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। দেনার দায়ে জর্জরিত কৃষকদের এই দমফাটা পরিশ্রমের যেন কোনো মূল্যই নেই বাজারে। লোকসানের এই তীব্র জ্বালা সহ্য করতে না পেরে অনেক কৃষক হাটের পেঁয়াজ বিক্রি না করে নদীতে ফেলে দিচ্ছেন, যার অসংখ্য মর্মস্পর্শী ও বেদনাদায়ক ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হাটে গিয়ে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও প্রশাসনের চরম উদাসীনতার ওপর তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন।এই চরম সংকটের সময়েও কারোর যেন টনক নড়ছে না। রাজবাড়ীর পেঁয়াজ চাষিদের বাঁচানোর জন্য, সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য কিংবা সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কেনার দাবি তোলার মতো রাজপথে বা সংসদে যেন কেউ নেই। এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, যে কৃষকদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেছেন, সেই কৃষকদের বাঁচানোর লড়াই বাদ দিয়ে সংসদের মূল্যবান সময় তারেক রহমানের বন্দনায় কাটিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। কৃষকের এই চরম বিপর্যয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার মতো কি আসলেই কেউ নেই—এমন প্রশ্ন এখন রাজবাড়ীর আনাচে-কানাচে ও চায়ের দোকানে ঘুরপাক খাচ্ছে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ অর্থনীতি ডেস্ক, গ্রামীণ কৃষি উইং ও রাজনৈতিক সেল রাজবাড়ীর হাটে পেঁয়াজের দামের সর্বশেষ দরপতন পরিস্থিতি, লোকসানের মুখে পড়া কৃষকদের ক্ষোভের আগুন এবং সংসদে স্থানীয় এমপির এই বক্তব্যের পর এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে সৃষ্ট তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রতি মুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal