প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
পুরোনো ঢাকার ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন থেকে আজকের অপ্রতিরোধ্য রূপ: আওয়ামী লীগের ৭৭ বছর!
সাব্বির আহমেদ সায়েম, প্রধান নির্বাহী পরিচালক ||
আজ ঐতিহাসিক ২৩ জুন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম চালিকাশক্তি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু এবং মহান স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরনো ঢাকার ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শামসুল হকের হাত ধরে যে আন্দোলনের বীজ রোপণ করা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক আদর্শ বুকে ধারণ করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামে বাঙালির মুক্তির সনদে পরিণত হয়। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের রক্তঝরা রাজপথ থেকে শুরু করে ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন এবং বাঙালির বাঁচার দাবি ’৬৬-র ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে এই দলটির ভূমিকা ছিল অনন্য। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যাদুকরী ও অবিসংবাদিত নেতৃত্বে ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মধ্য দিয়ে এই আওয়ামী লীগই বাঙালি জাতিকে এক সুতোয় গেঁথেছিল। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর, তাঁরই দিকনির্দেশনায় দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ছিনিয়ে আনার মূল কৃতিত্ব এই ঐতিহাসিক সংগঠনের। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট ট্র্যাজেডিতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দলটিতে চরম বিপর্যয় নেমে এলে, ১৯৮১ সালে নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশে ফিরে দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ চার যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলটির সভানেত্রী হিসেবে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিয়ে একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করিয়েছেন।সুদীর্ঘ ৭৭ বছরের এই বর্ণাঢ্য ও রক্তস্নাত ইতিহাসের পর, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটভূমিতে সবচেয়ে বড় এক অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দলটি। গত ৫ আগস্টের আকস্মিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর প্রশাসনিক আদেশে সংগঠনটির সকল প্রকার প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ ঐতিহাসিক ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলের অবরুদ্ধ ও রাজপথে নামার অপেক্ষায় থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীরা যাতে রাজধানী ঢাকায় কোনো ধরনের বড় শোডাউন কিংবা ‘ঢাকা দখল’-এর মতো মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন ও কঠোরতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, শুধু রাজধানী ঢাকা শহরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর যেকোনো ঝটিকা মিছিল বা কর্মসূচি কঠোরভাবে প্রতিহত করতে রেকর্ড সংখ্যক ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকার প্রতিটি প্রবেশদ্বার ও কৌশলগত পয়েন্টে কড়া ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নিয়েছে এই বিশাল পুলিশ বাহিনী।প্রশাসনের এই কঠোর ব্যারিকেডের রেশ শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমগ্র দেশ জুড়েই এক নজিরবিহীন সামরিক ও আধাসামরিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের আকস্মিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সহিংসতা রুখতে ইতিমধ্যে দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ৬টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দেশের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও বেশ কয়েকটি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জওয়ানদের মোতায়েন করে সর্বোচ্চ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, সেনা, বিজিবি এবং সরকারের সকল শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার এই নজিরবিহীন মেগা কড়াকড়ি ও যৌথ তৎপরতার কারণে সারা দেশে এক রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই চরম প্রতিকূল ও কড়া সামরিক নজরদারির মাঝেই তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal