প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
সংসদে ভুলভাল বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে বক্তব্য দিয়ে নেট দুনিয়ায় ট্রল-ঝড় তুললেন বিএনপির নারী এমপি জেবা আমিন খান
সুমন সাহা, বিশেষ সংসদীয় ও জাতীয় প্রতিবেদক ||
জাতীয় সংসদের পবিত্র অধিবেশনে দাঁড়িয়ে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার এক অবিশ্বাস্য জগাখিচুড়ি বা মিশ্র ভাষারীতিতে (বাংলিশ) বক্তব্য পেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল হাসির খোরাক ও মেগা ভাইরালের জন্ম দিয়েছেন সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের করা তীক্ষ্ণ সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এই বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এমন অদ্ভুত মিশ্র বাচনভঙ্গির আশ্রয় নেন। মূলত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সদ্য পেশ করা বাজেটের মূল আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা সরকারের নানা নীতি ও বরাদ্দের কড়া সমালোচনা করছিলেন। এর জবাবে নিজের সংসদীয় আসনের পক্ষে ডিফেন্ড করতে গিয়ে জেবা আমিন খান স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “মাননীয় স্পিকার আমি লক্ষ্য করেছি যে আমাদের বিরোধী দলের নেতা এখন কিছুক্ষণ আগেই আমাদের এক সাংসদ ভাই বলেছেন, আপনারা যদি আমাদের সংসদে বিরোধী দলে থাকেন অসুবিধা নাই কিন্তু আপনারা এর নিশ্চয় বাজেটে আরও কিছু ভালো আছে যেটা আপনারা বলতে পারেন এই বক্তব্যে। মাননীয় স্পিকার রংপুর ছয় (আসনের) সংসদ সদস্যের কিছু উত্তর দিতে চাচ্ছি। উনি দুইদিন আগে কিছু কথা বলেছেন, ‘সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা, উনি হয়তো বা ভুলে গিয়েছেন যে একচুয়ালি বাংলাদেশের রাস্তাগুলো যদি আপনারা আমরা যারাই আমাদের রুট লেভেলে যাই, দ্য রাস্তাজ আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন। দিস ইস ডিউ টু দুর্নীতি। দ্যাটস উই হ্যাভ সিন ফ্রম দ্যা প্রিভিয়াস রিজিম। দে হ্যাভ লুটেড, লিটরেলি লুটেড দ্য কান্ট্রি।’”পবিত্র সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে একজন আইনপ্রণেতার মুখ থেকে এমন ভাঙা ও মিশ্র ইংরেজি-বাংলার মেলবন্ধন শুনে খোদ সংসদকক্ষেই মৃদু হাসির রেখা দেখা দেয়। জেবা আমিন খান তাঁর বক্তব্যে বিগত স্বৈরাচারী ও তোষামোদী আমলের কঠোর সমালোচনা করে আরও যোগ করেন, “কোনো বড় বড় উন্নয়নের প্রকল্প করেছেন ওনারা। কিন্তু জনগণের উন্নয়নের জন্য কোন কাজ করেননি। যার জন্য আমাদের এই কাঁচা রাস্তাগুলা এখনও আছে। দে আর অনলি ইন গভর্নমেন্ট ফর লাস্ট, হানড্রেড প্লাস স্পেস, সো ইউ সাম গিভ টাইম টু আওয়ার গভর্নমেন্ট।” তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে দাবি করেন যে, বিগত সরকারের আমলে কেবল বড় বড় মেগা প্রকল্পের আড়ালে দেশজুড়ে মেগা লুটপাট চালানো হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রকৃত জীবনমান উন্নয়নে কোনো কাজই করা হয়নি, যার অকাট্য প্রমাণ গ্রামীণ জনপদে এখনো রয়ে যাওয়া হাজার মাইল কাঁচা রাস্তা। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর সবেমাত্র ১০০ দিনের সামান্য কিছু বেশি সময় পার করেছে উল্লেখ করে তিনি চলমান নতুন প্রশাসনকে দেশ গঠনে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য দেশবাসী ও সংসদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলকে বিশেষ ‘কৃষি হাব’ হিসেবে ঐতিহাসিক ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে সানন্দে সাধুবাদ জানানোর জন্য তিনি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি উদার আহ্বান রাখেন।তবে জেবা আমিনের এই বাংলিশ ও দীর্ঘায়িত বক্তব্যের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে মাননীয় স্পিকার সশরীরে হস্তক্ষেপ করে এই নারী সংসদ সদস্যকে থামিয়ে দেন। স্পিকার তাঁকে মাইকে মনে করিয়ে দেন যে, অন্য সাধারণ সদস্যদের বাজেট বক্তৃতার জন্য সাধারণত মাত্র ছয় মিনিট সময় দেওয়া হলেও বিশেষ বিবেচনায় জেবা আমিন খানকে ইতিমধ্যে আট মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। এরপর সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী বক্তব্য শেষ করার বা গুটিয়ে আনার জন্য তাকে স্পিকারের পক্ষ থেকে আরও এক মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। তবে জেবা আমিন খান স্পিকারের কাছে আরও সময়ের মেগা দাবি তুলে নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ এলাকা ঝালকাঠির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরাজীর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জরুরি উন্নয়নের প্রসঙ্গটি টানেন। তিনি বিগত আওয়ামী সরকারের মন্ত্রীদের আধাসরকারি পত্র বা ‘ডিও লেটার’ (DO Letter) নির্ভর পক্ষপাতমূলক কাজের কড়া সমালোচনা করে আরও কিছু স্পর্শকাতর কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ও সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্পিকার শেষ পর্যন্ত তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাইক বন্ধ করে দেন এবং বক্তব্য শেষ করতে বাধ্য করে ভবিষ্যতে আরও বড় সুযোগ দেওয়ার বিশেষ আশ্বাস দেন।সংসদের এই আট-নয় মিনিটের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি আজ ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকে আপলোড হওয়া মাত্রই লাখ লাখ ভিউ, শেয়ার এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। নেটিজেনরা বিশেষ করে “দ্য রাস্তাজ আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন” কিংবা “হানড্রেড প্লাস স্পেস” বাক্যগুলো নিয়ে চরম হাসাহাসি ও মিমস (Memes) তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষ বলছেন, বিদেশের মাটিতে বা ড্রয়িং রুমে বাংলিশ বলা মানা গেলেও মহান জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এমন অশুদ্ধ ও মিশ্র ভাষারীতি বাংলা ভাষার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ সংসদীয় ডেস্ক ও সোশাল মিডিয়া ভাইরাল উইং এই বাংলিশ বক্তব্য নিয়ে নেট দুনিয়ার সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া, ঝালকাঠি এলাকায় সংসদ সদস্যের উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতির বাস্তব চিত্র এবং আগামী অধিবেশনে জেবা আমিন খানের নতুন কোনো কড়া বক্তব্যের প্রস্তুতি প্রতিমুহূর্তে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal