প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
চাঁদপুরে প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর, আবাসিক হোটেল সিলগালা
||
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আবাসিক হোটেলের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক প্রবীণ সাংবাদিককে প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হোটেলটি সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আক্রান্ত সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি। তিনি বর্তমানে জাতীয় দৈনিক ‘বাংলাদেশের খবর’ ও ‘বাংলাদেশ নিউজ’-এর জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত। হামলার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, হাজীগঞ্জ বাজারের ‘মাতৃমায়া’ ও ‘আনোয়ার মঞ্জিল’ নামক দুটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। গত শনিবার ওই হোটেল থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধারের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশনা অমান্য করে হোটেলটি খোলা রাখলে পুলিশ সেখান থেকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এক নারী ও পুরুষকে আটক করে।
এই সংবাদটি মহিউদ্দিন আল আজাদ তার পত্রিকায় প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হন হোটেল মালিক ফারুক হোসেন লিটন। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ভাড়াটে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে সাংবাদিক আজাদকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে তার মালিকানাধীন ভবনের নিচে নিয়ে মারধর করেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত হোটেল মালিক ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করা হয়। ঘটনায় সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ বাদী হয়ে হোটেল মালিকসহ তার বাবা, ছেলে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হোটেল পরিচালনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে মঙ্গলবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন। তিনি ঘটনাস্থলেই মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান এবং হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল মান্নান জানান, মামলার দুই আসামিকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্য হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal