প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
রহস্যজনক কারণে দিল্লি প্রবেশে বাধা, বিমানবন্দরে ৪ ঘণ্টা বসিয়ে রাখল ইমিগ্রেশন!’: চরম অপমানে ভারত সফর বর্জন করে কলম্বো হয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান!
বিশেষ কূটনৈতিক ও জাতীয় প্রতিবেদক ||
ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সুদীর্ঘ কূটনৈতিক প্রোটোকল ও আন্তর্জাতিক সৌজন্যের সমস্ত নিয়ম চুরমার করে এক নজিরবিহীন ও রহস্যজনক বাধার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি, স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘রহস্যজনক কারণে’ ভারতে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। অথচ সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে কূটনৈতিক পত্র বা ‘নোট ভারবাল’ দিয়ে আগাম অফিশিয়ালি অবহিত করার পরই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরটি শুরু করেছিলেন তিনি। বিমানবন্দর সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ইমিগ্রেশনের নামে বাংলাদেশের এই হাই-প্রোফাইল রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টাকে টানা আড়াই থেকে চার ঘণ্টা বিমানবন্দরে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বসিয়ে রাখা হয়। চরম কূটনৈতিক অসৌজন্যমূলক এই পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ ও অপমানিত বোধ করে জাহেদ উর রহমান একপর্যায়ে নিজেই তাঁর পাসপোর্ট ফেরত চান। পরবর্তীতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দিতে চাইলেও, ততক্ষণে তীব্র ক্ষুব্ধ ও অপমানিত এই উপদেষ্টা সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে দিল্লিতে প্রবেশ না করেই তাৎক্ষণিকভাবে রাতেই কলম্বোর উদ্দেশে দিল্লি ত্যাগ করেন। আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরের আগেই কলম্বো হয়ে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।কূটনৈতিক ও উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো জানায়, আজ সোমবার থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। ওই মেগা আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান বা দলনেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের অংশ নেওয়ার বিষয়টি গত শুক্রবারই দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানিয়েছিল। সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রোটোকল নিশ্চিত করার পরও একটি আন্তর্জাতিক জোটের বৈঠকে অংশ নিতে আসা স্বাধীন বাংলাদেশের একজন শীর্ষ ক্যাবিনেট পদমর্যাদার উপদেষ্টাকে এভাবে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে হেনস্তা করার ঘটনাটিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক মর্যাদার ওপর এক বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার পর ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে তীব্র ঠান্ডা লড়াই এবং চরম অসন্তোষের মেঘ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।এদিকে, বিশ্বরাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক জমানায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কোনো গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ বা ‘রহস্যজনক’ বার্তা থাকতে পারে। একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতাকে এভাবে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বাধা দেওয়ার ঘটনাটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আগামী দিনের গতিপথকে আরও বেশি জটিল ও শীতল করে তুলতে পারে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঢাকার সচেতন নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক মহল বলছেন, ভারত সরকারের এই আচরণ চরম অপেশাদার এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ কূটনৈতিক উইং, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের এই নজিরবিহীন বিমানবন্দর হেনস্তার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক তীব্র প্রতিবাদপত্র, দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনারের জরুরি পদক্ষেপ এবং এই মেগা ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশের সার্বিক গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালকঃ সাব্বির আহমেদ সায়েম।
ইমেইলঃ bengalijournal.editor@gmail.com
Copyright © 2026 Bengali Journal